ঢাকা কলেজে এসে মনে হচ্ছে স্বাধীন বাংলাদেশে এসেছি’
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
বুধবার, সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৪ ১০:৫৮ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
বুধবার, সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৪ ১০:৫৮ অপরাহ্ণ

ঢাকা কলেজ প্রতিনিধি
অভ্যুত্থান পরবর্তী কেমন বাংলাদেশ চাই শীর্ষক আলোচনার আয়োজন করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা। বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় ঢাকা কলেজের অডিটোরিয়াম হলে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
এখানে উপস্থিত ছিলেন কবি ও বুদ্ধিজীবী ফরহাদ মজহার, লতিফুল ইসলাম শিবলী; লেখক ও গীতিকার, আব্দুল হাই সিকদার; কবি ও সাংবাদিক, ফারজানা ওয়াহিদা সায়ান; শিল্পী, মুসা আল হাফিজ; ইসলামিক স্কলার, সাইয়েদ আব্দুল্লাহ; এক্টিভিস্ট ও কলামিস্ট।
এছাড়া আলোচনা সভার সঞ্চালনায় ছিলেন, মুঈনুল ইসলাম ও নাহিয়ান রেহমান রাহাত।
অর্থনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান পারভীনা সুলতানা তার বক্তব্যে বলেন, এই আন্দোলনের পর আমাদের এক্সপেকটেশন অনেক বেশি। আমরা এমন বাংলাদেশ চাই যেখানে ছাত্র-শিক্ষকের সম্পর্ক হবে অনেক মধুর। যেই ক্যাম্পাস হবে রাজনীতিমুক্ত।
এসময় এক্টিভিস্ট ও কলামিস্ট সাইয়েদ আব্দুল্লাহ বলেন, আমি জনগনের বাংলাদেশ চাই। দুইবারের বেশি প্রধানমন্ত্রীত্ব নয়। একই সঙ্গে দলের নেতা ও প্রধানমন্ত্রীত্ব একসঙ্গে নয়। ৫০ বছরের কম বয়সীরা যেন পার্লামেন্টে প্রতিনিধিত্ব করতে পারে। এখানে ধার্মিক, অধার্মিক ও নাস্তিক সবারই মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতাকে শক্তিশালী করতে হবে, যাতে সবার অপরাধকে প্রকাশ করতে পারে। আমি চাই, এই বাংলাদেশে সবাই যেন বুক ফুলিয়ে বলতে পারে এটা আমার বাংলাদেশ।
ঢাকা কলেজের শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, ছাত্ররা যে জন্য রক্ত দিয়েছে, আমরা যেন তাদের ত্যাগ ভুলে না যাই, আমরা চাই ব্যবস্থার পরিবর্তন। একদল গেলো, আরেক দল আসবে এভাবে হবে না। এখনো রাস্তায় চাঁদাবাজি হচ্ছে। শুধু মানুষগুলোর পরিবর্তন হয়েছে।
ইসলামিক স্কলার মুসা আল হাফিজ বলেন, আজকের তারুণ্য আজকের মধ্যে থাকতে চায় না। তারা ভবিষ্যতে দাঁড়াতে চায়। এই তারুণ্য নতুন কিছু বলছে, অতীতকে আর নয়। আমাদের সিস্টেমের মধ্যে পরিবর্তন আনতে হবে। রাষ্ট্রের সিস্টেম ও সামাজিক সিস্টেমের মধ্যে পরিবর্তন আনতে হবে। যেমন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবে গনভোটের মাধ্যমে। এছাড়া বাংলাদেশের নাগরিকরা দৈত্ব নাগরিকত্ব নিতে পারবে না। এখানের শিল্প ও অর্থনীতি সংস্কার করতে হবে। এজন্য স্বাধীন কমিশন গঠন করতে হবে। এই বিপ্লবের সবার অংশ গ্রহণেই এই রাষ্ট্রের পুনর্গঠন করতে হবে।
কবি ও সাংবাদিক আব্দুল হাই সিকদার বলেন, ঢাকা কলেজে এসে মনে হচ্ছে আমি স্বাধীন বাংলাদেশে এসেছি। এই যে শত শত শহীদদের রক্তের উপর এই বাংলাদেশ, তাদের ঋণ শোধ হবার নয়। তাদের স্বপ্নগুলোকে বাস্তবায়ন করতে হবে। এখন আমি বুক ফুলিয়ে বলতে পারি, ইয়েস আমি একজন ফ্রিডম ফাইটার।
কবি ও বুদ্ধিজীবী ফরহাদ মজহার বলেন, আমরা কেমন বাংলাদেশ চাই, তা নির্ভর করবে আমরা কেমন। গণঅভ্যুত্থানের মানে হলো, পুরনো ব্যবস্থাকে উৎখাত করে নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ গঠন করা। জনগন যখন দাড়ায় তখনই হয় গণবিপ্লব। রাষ্ট্র গঠন করতে হলে এক জাতীয়তাবাদী বাদ দিয়ে, সমস্ত জাতিকে সঙ্গে নিতে হবে।
জনতার আওয়াজ/আ আ