ঢাকা বার নির্বাচনককটেল বিস্ফোরণ ব্যালট ছিনতাই - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১২:৫৮, শনিবার, ১৬ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৯শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

ঢাকা বার নির্বাচনককটেল বিস্ফোরণ ব্যালট ছিনতাই

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শুক্রবার, মার্চ ১, ২০২৪ ৫:৫৩ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শুক্রবার, মার্চ ১, ২০২৪ ৫:৫৩ পূর্বাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ব্যালট পেপার ছিনতাই, আওয়ামী লীগ-বিএনপি সমর্থক আইনজীবীদের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারি, দুর্বৃত্তদের ককটেল বিস্ফোরণের মধ্যদিয়ে ঢাকা বারের দুই দিনের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। মারামারির ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে জড়িত বিএনপি সমর্থক ৮ জন আইনজীবী আহত হয়েছেন বলে দাবি বিএনপি আইনজীবী নেতাদের। আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবী নেতাদের দাবি তাদেরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। জটিলতা মেটাতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বারের সাবেক কয়েকজন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে নিয়ে বৈঠকে বসেন। ভোটকেন্দ্রে এমন বিশৃঙ্খলার কারণে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নির্বাচন কমিশন ভোটগ্রহণ বন্ধ করে দেন। পরে বিকাল সাড়ে ৩টার পরে ফের ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বিরতির সময় বাদে ২ ঘণ্টারও বেশি সময় নির্বাচন বন্ধ রাখা হয়েছিল। অবশ্য এ কারণে নির্বাচন কমিশন ভোটের সময় ১ ঘণ্টা বাড়িয়ে দেন। ককটেল বিস্ফোরণের পরে ঢাকা বারে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

নির্বাচনে ২১ হাজার ১৩৭ জন ভোটার ছিলেন। এদের মধ্যে ৪ হাজার ২৩০ আইনজীবী প্রথম দিন ভোট দেন।

এ নির্বাচনে সিনিয়র আইনজীবী মোখলেছুর রহমান বাদল প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন। যার অধীনে ১০ জন কমিশনার এবং ১০০ জন সদস্য সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য কাজ করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী আইনজীবীদের দেয়া তথ্য অনুযাযী, বুধবারের ন্যায় বৃহস্পতিবারও যথারীতি সকাল ৯টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়। এসময় একদল আইনজীবী বেলা ১২টার দিকে জালভোট, জালভোট বলে হইচই শুরু করে। এরপর ভোটকেন্দ্রে নির্বাচন পরিচালনার কাজে নিয়োজিত আইনজীবীদের কাছ থেকে ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নেয় তারা। বিএনপি’র সমর্থক আইনজীবী নেতাদের দাবি আওয়ামী লীগ সমর্থক কিছু আইনজীবী ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করে নির্বাচন পরিচালনায় নিয়োজিত আইনজীবীদের কাছ থেকে ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়েছে। তবে বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবী নেতারা। এ বিষয়ে ঢাকা বারের প্রধান নির্বাচন কমিশনার এডভোকেট মোখলেছুর রহমান বাদল মানবজমিনকে বলেন, কিছু ভোটার ভোট দিতে আসলে নামের সঙ্গে অমিল দেখা যায়। পরে আমরা বিষয়টি সুরাহা করতে নির্বাচন বন্ধ রাখি। তিনি বলেন, বিরতির ১ ঘণ্টা সময় বাদে দেড় ঘণ্টার মতো সময় নির্বাচন বন্ধ ছিল। তবে ভোটগ্রহণের জন্য ১ ঘণ্টা সময় বাড়িয়ে দিয়েছি।

এ বিষয়ে বিএনপি সমর্থক আইনজীবীদের নীল প্যানেলের সমন্বয়ক ও ঢাকা বারের জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সুপ্রিম কোর্ট ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট ওমর ফারুক ফারুকী মানবজমিনকে বলেন, বুধবার ও বৃহস্পতিবার ১২টা পর্যন্ত ভালোই ছিল। কিন্তু ১২টার পরে আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীরা ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করে ব্যালট পেপার ছিনতাই, আমাদের ভোটারদের মারধর করে। শুধু তাই নয়, আমাদের নির্বাচন কমিশনার ও সদস্যদের ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দেয় তারা। তিনি বলেন, ঢাকা বারের মতো একটি পেশাজীবী সংগঠনের ভোটও সুষ্ঠু হয় না। নির্বাচনের আগে তারা আমাদেরকে সুষ্ঠু নির্বাচনের আশ্বাস দিয়েছিল। আসলে সুষ্ঠু ভোটে তাদের আস্থা নেই। তবে বিএনপিপন্থি এই আইনজীবীর অভিযোগ অস্বীকার করে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের অন্যতম নেতা ও সাদা প্যানেলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য এডভোকেট ড. মোহাম্মদ জগরুল কবির মানবজমিনকে বলেন, দু’পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক হয়। এ কারণে একটু ঝামেলা হলে নির্বাচন কমিশন ভোট বন্ধ করে দেন। কিছু সময় নির্বাচন বন্ধ থাকায় নির্বাচন কমিশন ১ ঘণ্টা বাড়িয়ে দিয়েছেন। ভোট সুষ্ঠু হয়েছে। বিএনপি’র অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, গত বছরও তারা নির্বাচনে অংশ নেয়ার পরে ভোট বর্জন করে। এটা তাদের স্বভাব। তাও ভালো ভোট বর্জন করেননি।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ