ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের সীরাত পাঠ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৯:১৮, বুধবার, ১৩ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৬শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের সীরাত পাঠ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৩ ৬:৩৮ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৩ ৬:৩৮ অপরাহ্ণ

 

নিউজ ডেস্ক
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, পৃথিবীর কোনো পুরস্কারই আসল পুরস্কার নয়। আল্লাহর সামনে আখেরাতে বিজয়ী হওয়াই হচ্ছে মানুষের চরম সফলতা। তাই আখেরাতমুখী জীবনযাপনে আমাদেরকে সর্বদা প্রচেষ্টা চালাতে হবে।

তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকারের সকল ব্যর্থতার মূল কারণ হচ্ছে, কুরআন-সুন্নাহ্কে বাদ দিয়ে নিজেদের মনগড়া বিধান অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করা। অথচ আধুনিক বিশ্বের সকল সঙ্কট থেকে উত্তরণে রাসূল সা:-এর আদর্শ অনুসরণই একমাত্র সমাধান। আইয়ামে জাহেলিয়াত বা অন্ধকার যুগে রাসূল সা: ইসলামের সু-মহান আদর্শের মাধ্যমে যেভাবে পুরো জাতিকে আলোর পথ দেখিয়েছিলেন, তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বাংলার এই সবুজ ভূখণ্ডে একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়। তিনি সকলকে এই আন্দোলনে সম্পৃক্ত হওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে আয়োজিত রাসূলুল্লাহর সা:-এর জীবনীর ওপর সীরাত পাঠ প্রতিযোগিতা-২০২২-এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুলের সভাপতিত্বে ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের পরিচালনায় আরো বক্তব্য প্রদান করেন কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির আব্দুস সবুর ফকির ও অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারি সেক্রেটারি দেলাওয়ার হোসেন, কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক মোকাররম হোসেন খান ও ড. মোবারক হোসেন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য বিশিষ্ট শ্রমিক নেতা আব্দুস সালাম প্রমুখ।

অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, প্রত্যেক মুসলমানকে রাসূল সা:-এর সীরাত তথা জীবনী জানতে হবে। হজরত মোহাম্মাদ সা:-এর ব্যক্তি জীবন, পারিবারিক ও রাষ্ট্রীয় জীবন জানা এবং তা অনুসরণ করা উম্মতের জন্য অতিব জরুরি, এটা ঈমানের-ই অংশ। তিনি সমাজ ও রাষ্ট্রে কুরআন-সুন্নাহকে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কুরআনের এই বিধান প্রতিষ্ঠার জন্য ৮০টির বেশি যুদ্ধ পরিচালনা করেছেন এবং ২৩ টির অধিক যুদ্ধে সেনাপতি হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন। সেই রাসূলের জীবনী অনুসরণ করে যদি আমরা জীবনযাপন করতে পারি তাহলে দুনিয়ার কোনো প্রতিযোগিতায় পুরস্কার না পেলেও কাল কেয়ামতের দিনে আমরা নিশ্চিত পুরস্কার পাব ইনশাআল্লাহ।

তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকার ভোটাধিকারকে হরণ করে নিবার্চন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে। গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে। ফলে এই সরকারের অধীনে আর কোনো সাজানো নিবার্চন নয়, নির্দলীয় কোয়ারটেকার সরকার প্রতিষ্ঠা করে তার অধীনে নির্বাচনের মধ্যমে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে। তাহলেই দেশ ও জাতির কল্যাণ হবে। ক্ষমতাসীন অবৈধ সরকারকে ক্ষমতা হস্তান্তর করে চলে যেতে হবে নতুবা জনগণকে সাথে নিয়ে জামায়াতে ইসলামী চলমান আন্দোলনকে তীব্র থেকে তীব্রতর করে এই সরকারের পতন নিশ্চিত করবে ইনশাআল্লাহ।

সভাপতির বক্তব্যে নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, রাসূল সা:-এর সীরাতকে সামনে রেখে ইকামতে দ্বীনের কাজকে বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি যেভাবে হিকমা ও কৌশল শিখিয়েছেন সেভাবে ইসলাম কায়েমের জন্য কাজ করে যেতে হবে। তাহলে দুনিয়ার কোনো শক্তিই আমাদেরকে দমিয়ে রাখতে পারবে না। স্বাধীনতা-পরবর্তী যারা ক্ষমতায় এসেছে সুপরিকল্পিতভাবে জামায়াতে ইসলামীকে ধ্বংস করার চেষ্টা করেছে। আমাদের শীর্ষ নেতাদেরকে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে হত্যা করেছে। রাসূল সা:-এর যুগেও এই জুলুম নির্যাতন ছিল। তিনি যেভাবে সব কিছু সহ্য করে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করেছেন, ঠিক তেমনিভাবে আমাদেরও বাংলার জমিনে ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, ইসলামের মানদণ্ডে সবকিছু পরিচালনা করতে হবে। আজ বাংলাদেশে স্বাভাবিকভাবে বাঁচার পরিবেশ নেই, সঠিক কথা বলার অধিকার নেই, নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য কথা বললে যেকোনো সময় গুম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ অবস্থা থেকে দেশের মানুষকে মুক্ত করার জন্য এই সরকারের পতন ও কেয়াটেকার সরকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সবাইকে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করতে হবে।

আব্দুস সবুর ফকির বলেন, রাসূল সা:-এর জীবনী অধ্যয়নের মধ্য দিয়ে আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রকে আরো ভালোভাবে আত্মস্থ করতে হবে। মানবরচিত কোনো মতবাদ দুনিয়ার কোথাও শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। আজকের ঝঞ্চা বিক্ষুব্ধ পৃথিবীর মানুষকে শান্তি দিতে পারে কেবল ইসলাম।

অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, রাসূল সা: আইয়ামে জাহেলিয়াত যুগে আলোর মশাল জ্বালিয়ে ছিলেন। ঠিক তেমনি বর্তমান আওয়ামী জাহেলি যুগকে আলোর যুগের রূপান্তর কারার জন্য বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী কাজ করে যাচ্ছে।

ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে রাসূল সা:-এর জীবন ও আদর্শকে সঠিকভাবে শিক্ষা না দেয়ার ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষার্থীদেরকে সঠিক পথে পরিচালনা করতে পারতেছে না। আজ পত্রিকার শিরোনামে নিয়মিত দেখতে পাই যে বর্তমান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সন্ত্রাস ও মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। আমাদের বোনেরা যাদের কাছে শিক্ষা গ্রহণের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাচ্ছে, তাদের কাছেও নিরাপদবোধ করছে না। ফলে নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য তাদেরকে নিয়মিত সংগ্রাম করতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতে থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায় হচ্ছে আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে রাসূল সা:-এর জীবন ও কর্মকে সঠিকভাবে শিক্ষা দিতে হবে এবং রাসুল সা:-এর আদর্শকে ধারণ করে বাস্তব জীবনে তা কাজে লাগাতে হবে।

সিরাত পাঠ প্রতিযোগিতায় যারা বিজয়ী হয়েছেন ক-গ্রুপে প্রথম- সামমুদ্দোহা আব্দুল্লাহ শিবলী নোমানী। দ্বিতীয়- মুজাহিদুল ইসলাম। তৃতীয় মো: সোলাইমান। চতুর্থ- জয়নাল আবেদীন। পঞ্চম- আবু জাফর।

খ গ্রুপে প্রথম- ইদ্রিস হাওলাদার, দ্বিতীয় আব্দুল হামিদ রুকন, তৃতীয়- হাসানুল বান্না, চতুর্থ-হাফেজ মহিবুল ইসলাম, পঞ্চম- শাহাদাত হোসাইন।

গ গ্রুপে প্রথম- বনি ইয়ামিন মিয়াজী, দ্বিতীয়- গিয়াস উদ্দীন, তৃতীয়- মো: জাকির হোসেন, চতুর্থ- তমিজ উদ্দিন সরোয়াদ্দী, পঞ্চম- শরিফুল ইসলাম। বিজয়ীদের নগদ টাকা, আকর্ষণীয় বই সেট ও ক্রেস্ট উপহার প্রদান করা হয়।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ