ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি সব পদে শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্ত করার দাবি
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
বুধবার, ডিসেম্বর ৩, ২০২৫ ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
বুধবার, ডিসেম্বর ৩, ২০২৫ ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি গঠনের প্রস্তাবিত খসড়া অধ্যাদেশ বাতিল এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক সব পদে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের স্থায়ীভাবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন রাজধানীর সাতটি সরকারি কলেজের শিক্ষকরা। মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) রাজধানীর শিক্ষাভবন চত্বরে আয়োজিত এক সমাবেশ থেকে তারা এই দাবি জানান।
সমাবেশে ঢাকা কলেজের শিক্ষক জহিরুল ইসলাম বলেন, খসড়া অধ্যাদেশে যে স্কুলিং পদ্ধতির কথা বলা হয়েছে, তা তারা বাতিল চান। তিনি বলেন, কলেজগুলোর স্বতন্ত্র কাঠামো অক্ষুণ্ন রেখে প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক পর্যায়ের প্রতিটি পদে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের সদস্যদের স্থায়ীভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তার মতে এভাবে আইন প্রণয়ন করা ছাড়া শিক্ষকদের স্বার্থ সুরক্ষিত হবে না।
সরকারি শহিদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষক তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘কলেজে অ্যাকাডেমিক পদগুলোতে যেমন শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা কর্মরত আছেন, একইভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক পদেও শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া উচিত।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রশাসনিক পদগুলো- যেমন উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, ট্রেজারার, কন্ট্রোলার- এসব পদেও শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্তির দাবি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে জানানো হয়েছে।’ তরিকুল ইসলাম আরও বলেন, ‘বর্তমানে কলেজের শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ যেভাবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে হয়ে থাকে, সেই প্রক্রিয়া যেন নতুন বিশ্ববিদ্যালয়েও বজায় থাকে।’
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে অন্তর্বর্তী সরকার ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিলেও, অনেক শিক্ষক মনে করছেন নতুন কাঠামো কার্যকর হলে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা পদোন্নতি ও অন্যান্য মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। অন্যদিকে, কলেজগুলোর বর্তমান শিক্ষার্থীরা দ্রুত আইনি কাঠামো নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পক্ষে অবস্থান নিয়ে দ্রুততম সময়ে অধ্যাদেশ জারির দাবি জানাচ্ছেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় গত ২৪ সেপ্টেম্বর ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির খসড়া অধ্যাদেশ প্রকাশ করে। এতে সাতটি কলেজকে চারটি স্কুলে ভাগ করে ‘ইন্টারডিসিপ্লিনারি’ মডেলে বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। প্রস্তাবে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় কার্যক্রম চালুর পাশাপাশি কলেজগুলোর উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাদানও আগের মতোই চলবে। তবে এই কাঠামোর বিরোধিতা করছে সাত কলেজের শিক্ষকদের সংগঠন ‘সাত কলেজ স্বাতন্ত্র্য রক্ষা পরিষদ’।
এর আগে গত সোমবার রাতে তোপখানা রোডে শিক্ষাবিদ ইনস্টিটিউটে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের আহ্বায়ক অধ্যাপক মাহফিল আরা বেগম বলেন, ‘প্রস্তাবিত স্কুলিং পদ্ধতি সরকারি কলেজগুলোর সক্ষমতা কমিয়ে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করবে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ, সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থা ও সামাজিক সমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।’ তিনি বলেন, ‘সরকারি কলেজের আসনসংখ্যা কমে গেলে শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে উচ্চ ফি-নির্ভর বেসরকারি কলেজে ভর্তি হতে পারে। এতে শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ বাড়বে, অথচ জাতীয় শিক্ষা নীতি ২০১০ উচ্চশিক্ষার প্রসারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।’
সংবাদ সম্মেলনে তিনি কয়েকটি কর্মসূচিও ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, ‘৩ ডিসেম্বর সারা দেশের সব সরকারি কলেজে মানববন্ধন ও প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হবে। ৪ ডিসেম্বর সাত কলেজে পাবলিক পরীক্ষা বন্ধ রেখে সর্বাত্মক কর্মবিরতি পালন করা হবে। আর ৬ ডিসেম্বর বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের সারা দেশের সদস্যদের অংশগ্রহণে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে মহাসমাবেশ হবে।’ তিনি হুঁশিয়ার করে বলেন, ‘‘যদি শিক্ষা ক্যাডারের মতামত উপেক্ষা করে চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারি করা হয়, তাহলে দেশের সব সরকারি কলেজ ও দপ্তরে অনির্দিষ্টকালের জন্য সর্বাত্মক কর্মবিরতি বা ‘টোটাল শাটডাউন’ শুরু হবে।’
জনতার আওয়াজ/আ আ