তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল করতে হবে : মির্জা ফখরুল ইসলাম - জনতার আওয়াজ
  • আজ দুপুর ১২:৪৯, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল করতে হবে : মির্জা ফখরুল ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শনিবার, ডিসেম্বর ৩, ২০২২ ৬:২৪ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শনিবার, ডিসেম্বর ৩, ২০২২ ৬:২৪ অপরাহ্ণ

 

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল করতে হবে, অন্যথায় এ দেশে কোনো নির্বাচন হবে না বলে জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় ওবায়দুল কাদেরের দেওয়া ‘সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে’ বক্তব্য প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, কোন সংবিধান? যেখানে বার বার কাঁটাছেঁড়া করা হয়েছে নিজের প্রয়োজনে? সেই সংবিধান অনুযায়ী দেশ চলতে পারে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘তারা (বর্তমান সরকার) এই সংবিধানের অনেক পরিবর্তন করেছে। নতুন নতুন আইন করেছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করেছে। যেখানে ফেসবুকে পোস্ট দিলেও উস্কানি আখ্যা দিয়ে গ্রেফতার করা হয় এবং জামিন দেওয়া হয় না। আমরা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সবার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য যুদ্ধ করেছিলাম কিন্তু আওয়ামী লীগ সেটা চায় না। তাদের লক্ষ্য যেমন করে পারো বন্দুক-পিস্তল দিয়ে ক্ষমতায় থাকো। আমরা তাদের চাকর নই। এই দেশের মালিক জনগণ।’

শনিবার (৩ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজশাহীর মাদরাসা মাঠে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘অবিলম্বে সরকারকে পদত্যাগ করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। এরপর নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনের মাধ্যমে জাতীয় সরকার গঠন করা হবে। যেই সরকার নতুন স্বপ্ন দেখাবে। এখন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা, তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং নিহত সহযোদ্ধাদের রক্তের বদলা নিতে আমাদেরকে আবার জেগে উঠতে হবে। দুর্বার আন্দোলনের মাধ্যমে এই সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করতে হবে।’

ফখরুল বলেন, ‘আমাদের চলমান লড়াই সংগ্রামে ৬ শতাধিক নেতাকর্মী গুম হয়েছে। পাবনার ঈশ্বরদীতে জাকারিয়া পিন্টুসহ ৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। এতদিন পরে সাজা দিয়ে বিরোধী দলকে নির্মূল করতে চায় সরকার। কিন্তু বিরোধী দল আরো নতুনভাবে উদ্যমী হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ এখন লুটেরা দলে পরিণত হয়েছে। নিজেরা লুট করে পাহাড় বানাচ্ছে আর সাধারণ মানুষকে গরিব করছে। ক’দিন আগেই পাবনার কয়েকজন কৃষককে জেলখানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অথচ ক্ষমতাসীনরা ব্যাংক লুট করে দিচ্ছে। খাজাঞ্চিখানা শূন্য করে দিচ্ছে কিন্তু কোনো ব্যাবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। ইসলামী ব্যাংকের টাকা নামে বেনামে ঋণের নামে লুট করছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আওয়ামী লীগ দেশের রাজনৈতিক কাঠামো ধ্বংস করেছে। তারা কেয়ারটেকারের দাবিতে ১৭৩ দিন হরতাল করেছিল। গান পাউডার দিয়ে আগুন ধরিয়ে মানুষ মেরেছে। পাঁচবার কেয়ারটেকারের অধীনে নির্বাচন হয়েছে সমস্যা হয়নি। কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে সেই ব্যবস্থা বাতিল করেছে।’

ঢাকায় বিএনপির সমাবেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সরকার ঢাকার সমাবেশ নিয়ে ভয় পেয়েছে। আমরা নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করতে চাই। তারা তাদের ক্ষমতা হারানোর ভয়ে ঘুম হারাম করে ফেলেছে। তারা আতংকে ভুগছে। আমরা তো নয়াপল্টনে অসংখ্য সমাবেশ করেছি যেখানে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া উপস্থিত ছিলেন। কই তখন তো কোনো সমস্যা হয়নি। এখন তারা জঙ্গি নাটক শুরু করেছে। নিজেদের প্রয়োজনে জঙ্গী বানায়। নিজেরাই বাস পুড়িয়ে অগ্নিসন্ত্রাস করে। এই হচ্ছে আওয়ামী লীগ।’

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্দেশ্যে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘পুলিশবাহিনীতে যারা আছেন, আপনারা কি এই দেশের সন্তান নন? জনগণের ট্যাক্সের টাকায় বাড়ি গাড়ি বানান। কেনো নিরীহ মানুষের ওপর নির্যাতন করেন? খবরদার আর নিপীড়ন করবেন না। আপনারা হলেন জনগণের সেবক। যেখানে আপনাদের উচিত ছিল নেতাকর্মীদেরকে সহযোগিতা করা সেখানে আপনারা পানি বিদ্যুৎ ও খাবার বন্ধ করেছেন। কেনো আপনারা এতো অমানুষ? এভাবে সমস্ত মানুষের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছেন। আপনারা বিধান মেনে চলুন। অন্যথায় দেশের মানুষ কিন্তু কোনো অন্যায় সহ্য করবে না।’

বিএনপির রাজশাহী মহানগরীর আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা এরশাদ আলী ঈশার সভাপতিত্বে ও মামুনুর রশিদ এবং শ্রী বিশ্বনাথ সরকারের পরিচালনায় গণসমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, কেন্দ্রীয় নেতা মিজানুর রহমান মিনু, মোঃ শাহজাহান মিয়া, আব্দুল মান্নান তালুকদার, হাবিবুর রহমান হাবিব, কর্নেল এম এ লতিফ খান, শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, শাহিন শওকত, ওবায়দুর রহমান চন্দন, আমিরুল ইসলাম খান আলিম, মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, নাদিম মোস্তফা, অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, আবু সাঈদ চাঁদ, তোফাজ্জল হোসেন তপু, আবু বকর সিদ্দিক, ফজলুর রহমান খোকন, যুবদলের সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, আতিকুর রহমান রুমন, ছাত্রদলের সাইফ মাহমুদ জুয়েল, তাঁতী দলের আবুল কালাম আজাদ, ওলামা দলের শাহ মোহাম্মদ নেছারুল হক, শ্রমিকদলের আনোয়ার হোসাইন, কাজী মোঃ আমীর খসরু, মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু, নওগাঁ জেলার আবু বকর সিদ্দিক নান্নুসহ আরো অনেকে বক্তব্য রাখেন।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ