তরুণদের সম্পৃক্ততা বাড়াতে ঢাকায় ‘তারুণ্যের সমাবেশ’ আজ - জনতার আওয়াজ
  • আজ সকাল ১০:৪১, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

তরুণদের সম্পৃক্ততা বাড়াতে ঢাকায় ‘তারুণ্যের সমাবেশ’ আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শনিবার, জুলাই ২২, ২০২৩ ২:১৯ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শনিবার, জুলাই ২২, ২০২৩ ২:১৯ পূর্বাহ্ণ

 

নিউজ ডেস্ক
সরকারবিরোধী চলমান আন্দোলনে তরুণদের সম্পৃক্ততা বাড়াতে ঢাকায় ‘তারুণ্যের সমাবেশ’ আজ। বিএনপির তিন অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এ সমাবেশ করবেন দলটির নেতাকর্মীরা। এর আগে চট্টগ্রাম, বগুড়া, বরিশাল, সিলেট ও খুলনায় যৌথভাবে এ সমাবেশ করেছে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক ও ছাত্রদল। ঢাকায় সমাবেশের মধ্যদিয়ে শেষ হচ্ছে তারুণ্যের সমাবেশ। এ উপলক্ষে ব্যাপক প্রস্তুতি রয়েছে বিএনপি’র। টার্গেট রাজধানীতে বড় শোডাউন করার। সরকার পতনের এক দফা আন্দোলন ঘোষণার মধ্যেই ভোটাধিকারের দাবিতে এ সমাবেশ করছে দলটি। সমাবেশ থেকে এক দফার আন্দোলনের দ্বিতীয় পর্বের কর্মসূচি ঘোষণা দেয়ার কথা রয়েছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আজকের সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

আয়োজকরা বলছেন, বর্তমান সরকারের পদত্যাগ ও ভোটাধিকারের দাবিতে আজকের সমাবেশ। দেশকে ‘বৈষম্যের রাজনীতি’ থেকে মুক্ত করতে তরুণদেরকে তারুণ্যের সমাবেশে আসার আহ্বান করা হয়েছে।

ভোটাধিকারবঞ্চিত তরুণ ভোটাররা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এসে তাদের দাবি জানাবেন। একইসঙ্গে সরকারের পতনের এক দফা দাবি আদায়ে বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ আজকের সমাবেশে অংশ নেবেন।
তারুণ্যের সমাবেশ সফল করতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল। নয়াপল্টনে ঢাকা বিভাগীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন শীর্ষ নেতারা। এ ছাড়া ঢাকা মহানগর ও জেলায় জেলায় প্রস্তুতি সভা করেছে তিন অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতারা। তারুণ্যের সমাবেশ নয়াপল্টনে করার পরিকল্পনা থাকলেও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুমতি পেয়েছে দলটি। তিন সংগঠনসহ বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতারা সমাবেশস্থল সোহরাওয়ার্দী উদ্যান পরিদর্শন করে সন্তোষ জানিয়েছেন।

তারা বলছেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেই লাখ লাখ তরুণ নেতাকর্মী তারুণ্যের সমাবেশে অংশ নেবেন। দুপুর ২টায় আনুষ্ঠানিকভাবে সমাবেশ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও আগেভাগেই নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে আসবেন। সরকার পথে বাধা সৃষ্টি করলেও নেতাকর্মীরা ঢাকার বিভিন্ন এলাকা ও পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে বিকল্প উপায়ে আসবেন। অতীতের নানা অভিজ্ঞতার আলোকে ইতিমধ্যে আমাদের সকল প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। সমাবেশে যোগ দিতে শুক্রবার দুপুরের পর থেকেই অনেক নেতাকর্মী ঢাকায় অবস্থান নিয়েছেন।

বিএনপি শীর্ষ নেতারা বলছেন, মূলত আজকের সমাবেশটি তরুণদের। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দেখা গেছে সরকারবিরোধী কোনো কর্মসূচি ঘোষণা হলে সেখানে সমাজের সকল শেণি-পেশা ও সর্বস্তরের মানুষ অংশ নিয়েছেন। তারুণ্যের সমাবেশেও তরুণ ভোটারদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ঢল নামবে। সরকার পতন আন্দোলনে দেশের মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়েছে। বিএনপি’র অন্যান্য কর্মসূচির মতোই তারুণ্যের সমাবেশে বড় শোডাউন হবে। লোকে লোকারণ্য হবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও আশপাশের এলাকা। বিএনপি’র কর্মসূচিতে আসা সাধারণ মানুষের একটাই দাবি সরকারের পদত্যাগ ও নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন। বিএনপি সে লক্ষ্যেই মানুষের অধিকার রক্ষায় আন্দোলন করছে।

বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য জানায়, আজকের সমাবেশ থেকে সরকার পতনে এক দফার নতুন কর্মসূচি ঘোষণা দেয়ার কথা রয়েছে। হরতাল ও অবরোধের মতো অহিংস কোনো কর্মসূচির দিকে না গেলেও ঢাকার কেন্দ্রীয় সমাবেশ থেকে বড় কর্মসূচির ঘোষণা আসবে। তবে কী ধরনের কর্মসূচি ঘোষণা আসবে তা স্পষ্ট না হলেও পদযাত্রা, মানববন্ধন ও সমাবেশের মতো কর্মসূচিতেই থাকছে বিএনপি।

যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু গতকাল বিকালে মানবজমিনকে বলেন, ঢাকায় তারুণ্যের সমাবেশে সর্বোচ্চ উপস্থিতি থাকবে। বিএনপি’র অতীতের বড় বড় সমাবেশগুলোর মতোই আজকের সমাবেশে লাখ লাখ নেতাকর্মী অংশ নেবেন। ঢাকায় সমাবেশ হলেও সারা দেশ থেকে তরুণ ভোটাররা আসবেন। তারা তাদের ভোটের অধিকার নিয়ে কথা বলবেন। আওয়াজ তুলবেন। ঢাকায় বড় শোডাউনের মধ্যদিয়ে সরকারকে বিদায়ের বার্তা দেয়া হবে। বিএনপি ঘোষিত এক দফার আন্দোলনে সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে লড়াইয়ের মধ্যদিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটানো হবে।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ঘুরে সংবাদ সম্মেলন করেছে যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল। গতকাল দুপুরে নয়াপল্টনে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, আমরা তরুণদের প্রতিনিধিত্বকারী তিন সংগঠন সারা বাংলাদেশে ৫টি সফল সমাবেশ করেছি। শনিবার ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যোনে তারুণ্যের সমাবেশ। আমরা বৃহস্পতিবার রাতে ডিএমপি কমিশনারের কাছে গিয়েছিলাম। মৌখিকভাবে আমাদেরকে অনুমতি দিয়েছে। আমরা মনে করি, তারা সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন। তিনি বলেন, শনিবার ঢাকা নগরী তরুণদের নগরীতে পরিণত হবে ইনশাআল্লাহ। আমরা মাঠে নেমেছি। ৪ কোটি ৭০ লাখের বেশি নতুন ভোটার হওয়ার পরও এই ফ্যাসিস্ট অবৈধ নিশিরাতের ভোট ডাকাত সরকারের কারণে তারা ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এভাবে যদি দেশ চলে, প্রশাসন যদি মেধাহীনদের দিয়ে চালানো হয়, তাহলে একসময় এই প্রশাসন ভেঙে পড়বে, বাংলাদেশ একটি অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত হবে।

এদিকে ঢাকায় তারুণ্যের সমাবেশে অংশ নিতে আগেভাগে আসা নেতাকর্মীরা গতকাল সমাবেশস্থল পরিদর্শন করেছেন। ভিড় করছেন নয়াপল্টন এলাকায়। শুক্রবার সকাল থেকেই বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও সামনের সড়কে ব্যাপক উপস্থিতির দেখা যায়। সমাবেশে আসতে সরকার বাধা দেবে এমন আশঙ্কায় তারা আগেভাগে ঢাকায় এসেছেন বলে জানান দলটির নেতাকর্মীরা।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ