তাত্ত্বিক ও প্রায়োগিক বিশ্লেষণ: গণতন্ত্র কি দর্শন বা মতবাদ? - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১২:৪০, সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৯শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

তাত্ত্বিক ও প্রায়োগিক বিশ্লেষণ: গণতন্ত্র কি দর্শন বা মতবাদ?

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: রবিবার, জুন ১৪, ২০২৬ ১০:০৬ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: রবিবার, জুন ১৪, ২০২৬ ১০:০৬ অপরাহ্ণ

 

না দর্শন ও মতবাদ প্রচলনের স্বীকৃত পদ্ধতি বা প্রক্রিয়া?

ব‍্যারিস্টার নাজির আহমদ

গণতন্ত্র কি দর্শন বা মতবাদ না এগুলো কোন রাষ্ট্রে প্রচলন বা আরোপিত করার স্বীকৃত ও সর্বজনীন পদ্ধতি বা প্রক্রিয়া- এ নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন সভ্যতা ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মধ্যে বেশ বিতর্ক ও মিশ্র-প্রতিক্রিয়া আছে। বিশেষ করে প্রাশ্চাত‍্য সভ‍্যতায় গণতন্ত্রকে একটি দর্শন হিসেবে দেখা হয়। তাদের মতে, গণতন্ত্রের ভিত্তি দাঁড়িয়ে আছে নির্দিষ্ট কিছু মৌলিক মূল্যবোধ, জীবনাচরণ ও দর্শনের ওপর—যেমন: সাম্য, স্বাধীনতা, ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য এবং মানবাধিকার ইত্যাদি। পশ্চিমা সভ্যতা বিশ্বাস করে যে, সকল মানুষ জন্মগতভাবে সমান এবং প্রত্যেকেরই নিজ নিজ মতামত প্রকাশের এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রয়েছে। প্রাশ্চাত‍্য সভ‍্যতা মনে করে, কোন সমাজ ব‍্যবস্থায় গণতন্ত্রকে পূরোপূরিভাবে পরিস্পুটিত করতে হলে এই মূল্যবোধগুলো মানতে হবে। তারা এই মূল্যবোধগুলোকে গণতন্ত্রের সমার্থক বা অবিচ্ছেদ্য উপাদান হিসেবে মনে করেন। Abraham Lincoln এর মতে, “Those who deny freedom to others deserve it not for themselves (অর্থাৎ “যারা অন্যদের স্বাধীনতা অস্বীকার করে, তারা নিজেরাও এর যোগ্য নয়”)।

রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে বহু দেশ ও সভ্যতায় গণতন্ত্রকে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতবাদ হিসেবেও বিবেচনা করা হয়। সমাজতন্ত্র (socialism), সাম‍্যবাদ (communism), ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ (secularism), জাতীয়তাবাদ (nationalism) ও পুঁজিবাদ (capitalism) ইত্যাদি বিশ্বের স্বীকৃত মতবাদগুলোর মতো গণতন্ত্রকেও একটি স্বতন্ত্র মতবাদ হিসেবে ধরা হয়। আব্রাহাম লিংকনের বিখ্যাত সংজ্ঞা – Democracy is a system of government of the people, by the people, for the people” (অর্থাৎ “জনগণের, জনগণের দ্বারা, জনগণের জন্য সরকার ব‍্যবস্থা”) —এই মতবাদের মূল ভিত্তি। এই মতবাদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রের চূড়ান্ত সার্বভৌমত্ব বা ক্ষমতার মালিক হলো জনগণ। তারাই নির্ধারণ করবে কারা দেশ শাসন করবে। এ কথাগুলো অধ‍্যাপক গেটেল বলেছেন এভাবে, “যে শাসন ব্যবস্থায় জনগণ সার্বভৌম ক্ষমতার প্রয়োগে অংশ নেওয়ার অধিকারী তাই গণতন্ত্র”।

যে কোন তত্ত্ব বা মতবাদকে সমাজে ও রাষ্ট্রে বাস্তবে প্রয়োগ করা বা চলমান মতবাদ পরিবর্তন করে নতুন মতবাদকে সন্নিবেশিত করার উপায় বা কৌশল হলো পদ্ধতি বা প্রক্রিয়া। গণতন্ত্রকে সার্বজনীন পদ্ধতি বা প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচনা করা হয়। গণতন্ত্রে ক্ষমতার পালাবদল বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে নিয়মিত ও অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচন, সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ। সহজ কথায়, সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে পরিচালনা করাকেই গণতন্ত্র বলা হয়। পদ্ধতি বা প্রক্রিয়া হিসেবে গণতন্ত্র এমনভাবে স্বীকৃত যে রাজনীতি ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর বাইরে, সমাজের বিভিন্ন সংস্থা ও সংগঠনের নির্বাচন ও সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়াকে গণতান্ত্রিক পদ্ধতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

সমাজতন্ত্র, সাম‍্যবাদ, পুঁজিবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ, জাতীয়তাবাদ, ধর্মীয় নীতির ভিত্তিতে শাসন – এ সবকটি মতবাদের পক্ষ ও বিপক্ষের মানুষ একটি সমাজ ও রাষ্ট্রে বসবাস করে। কম আর বেশি – এই। যুগের ও সময়ের ব্যবধানে উপরোক্ত মতবাদের সমর্থক ও বিশ্বাসীদের সংখ্যাও উঠানামা করে। এমতাবস্থায় একটি সমাজে কোন একটি নির্দিষ্ট মতবাদ চালু হবে কিভাবে? আবার দীর্ঘদিন ধরে চালু থাকা মতবাদ পরিবর্তন করে অন্য কোনো মতবাদ প্রচলনের প্রদ্ধতিই বা কি বা কিভাবে করা যায়? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে গেলেই গণতন্ত্রের প্রসঙ্গ আসে।

গণতন্ত্র মতবাদ ও দর্শন হিসেবে বিবেচিত হলে সাথে সাথে বেশ কিছু সমস্যা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার উদ্ভব হয়। যে সব মৌলিক মূল্যবোধ ও দর্শনকে প্রাশ্চাত‍্য সভ‍্যতা গণতন্ত্রের ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করে সেগুলো গোটা বিশ্বে সমভাবে গৃহীত, স্বীকৃত ও সমাদৃত নয়। যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যেসব মূল্যবোধ ও জীবনাচরণে বিশ্বাসী চীন ও সাবেক সোভিয়েট ব্লক ঐসব মূল্যবোধ ও জীবনাচরণে সমভাবে বিশ্বাসী নয়। আবার চীন ও রাশিয়া যেসব জীবনাচরণে অভ্যস্ত ইউরোপের সভ্যতা সেভাবে অভ্যস্ত নয়। ফলে পশ্চিমা দেশগুলো যেসব মূল্যবোধ ও দর্শন লালন করে সেগুলোকে পৃথিবীর অন্যান্য দেশগুলোতে আরোপ (impose) বা রপ্তানি (export) করাকে গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে মনে করে থাকে। এতে শুধু বহু-রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক অস্থিরতা।

শুধু তাই নয়, গণতন্ত্রকে যারা মতবাদ বা দর্শন হিসেবে বিবেচনা করেন তারা অন‍্য মতবাদ লালনকারী দেশে যদি অধিকাংশ জনগণের মতামতের ভিত্তিতে তাদের বিপরীত মতবাদ চালু করেন তাহলে ঐ সব দেশগুলোকে গণতান্ত্রিক বলতে বা গণতান্ত্রিক হিসেবে স্বীকৃতি দিতে তারা নারাজ। যেমন বিশ্বের অন‍্যতম পরাশক্তি চীন ও রাশিয়া সাম‍্যবাদী ও সমাজতান্ত্রিক দর্শনের রাষ্ট্র হওয়ার কারণে অন‍্য প্রধান পরাশক্তি ও পুঁজিবাদী দর্শন লালনকারী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ঐ দেশ দুটিকে পূর্ণ গণতান্ত্রিক বলে স্বীকৃতি দিতে নারাজ। ফলে গোটা বিশ্বে বিশেষ করে পরাশক্তিগুলোর মধ্যে তাত্ত্বিক ও মনোস্তাত্ত্বিক দূরত্ব ও অস্থিরতা সৃষ্টি হয়।

তাই রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক জীবনে সবচেয়ে নিরাপদ হলো গণতন্ত্রকে মতবাদ বা দর্শনের পরিবর্তে একটি স্বীকৃত পদ্ধতি বা প্রক্রিয়া হিসেবে গ্রহণ করা। এটা সর্বজনীন করতে পারলে বিশ্বের অনেক উত্তেজনা দূর হতে পারে, কমিয়ে আসতে পারে অনাকাঙ্ক্ষিত যুদ্ধবিগ্রহের উচ্চাভিলাষ, কেননা তখন গণতন্ত্রকে মতবাদ ও দর্শন হিসেবে লালনকারী শক্তিশালী রাষ্ট্র বা পরাশক্তিগুলো গণতন্ত্রের মোড়কে তাদের জীবনাচরণ (Way of life) অন‍্যান‍্য দেশে আরোপ বা রপ্তানি করার চিন্তা বা চেষ্টা করবে না।

একটি রাষ্ট্রের ভিতরে গণতন্ত্রের সাথে বিভিন্ন মতবাদকে যখন সর্বোচ্চ আইন তথা সংবিধানের অংশ করা হয় তখনই শুরু হয় সাংবিধানিক অস্থিরতা যার ফলশ্রুতিতে আরম্ভ হয় সংবিধানকে অযাচিতভাবে কাটাছেঁড়া। যেমন আওয়ামীলীগ সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ ও বাঙালি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী। তাই তারা সরকারে যখনই সুযোগ পেয়েছে এগুলোকে সংবিধানে ঢুকিয়ে জাতির কাঁধে চাপিয়ে দিয়েছে। অপরদিকে, বিএনপি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ ও ধর্মনিরপেক্ষবাদের বিপরীতে “মহান আল্লাহর উপর আস্থা ও বিশ্বাস” মতবাদের উপর বিশ্বাসী। তাই তারা যখনই সুযোগ পেয়েছে আওয়ামী লীগের দর্শন ও মতবাদগুলো পরিবর্তন করে তাতে এগুলোকে প্রতিস্থাপন করেছে। তারা সমাজতন্ত্রকে কোয়ালিফাইড ও সংজ্ঞায়িত করেছে। সাংবিধানিক এই অস্থিরতার ফলে ৫৪ বছরে ১৭ বার বাংলাদেশের সংবিধান সংশোধিত হয়েছে। অথচ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আড়াইশ বছরে সংবিধান সংশোধন হয়েছে মাত্র ২৭ বার! মতবাদের ভিত্তিতে ঘনঘন সংবিধান সংশোধন বিশ্বে বিরল।

সংবিধান হচ্ছে রাষ্ট্রের কার্যকর (Operative) ডকুমেন্ট। এতে নির্দিষ্ট (Particular) বা বিশেষ (Special) মতবাদ বা মতাদর্শ (Ideology) রাখা ঠিক নয়। কেননা মতবাদ বা মতাদর্শ সংবিধানে থাকলে সংবিধান নিয়ে উত্তেজনা, অস্থিরতা, বাগাড়ম্বর, অপ্রয়োজনীয় সাংবিধানিক বিতর্ক ও ঘনঘন পরিবর্তনের প্রবনতা (Tendency) কোনোভাবেই বন্ধ করা যাবে না। বরং “গণতন্ত্র”কে শক্ত, সুন্দর ও সঠিকভাবে সংবিধানে সন্নিবেশিত থাকবে এবং রাখা অত্যাবশ্যক। বাকী সব রাজনৈতিক দলগুলো তাদের স্ব স্ব মতবাদ বা মতাদর্শ অনুসারে ভোটারদের মন জয় করতে কাজ ও প্রচারণা নিরলসভাবে চালিয়ে যাবে। জনগণের সঠিক ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় যেতে পারলে তারা তাদের মতবাদ বা মতাদর্শ দিয়ে দেশ চালাবে পাঁচ বছর। পাঁচ বছর পর জনগণের ভাল লাগলে সংবিধানে বর্ণিত “গণতন্ত্র” নামক পদ্ধতি বা প্রক্রিয়া অনুয়াযী আবার সেই দল বা দলগুলোকে ক্ষমতায় পাঠাবে অথবা তাদের পরিবর্তন করে অন্য বিকল্প দল বা দলগুলোকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় পাঠাবে।

কোন মতবাদ বা মতাদর্শ সংবিধানে রাখা উচিৎ নয় বলে সেই ২০১১ সালে গঠিত সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত সাব-কমিটিতে মত দিয়েছিলেন বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ও মেধাবী জুরিস্ট ও সাবেক প্রধান বিচারপতি মোস্তফা কামাল। লন্ডনে আমার সাথে আলাপে তাঁর কথা ছিল এমন “isms – such as socialism, capitalism, communism – should never be in the constitution. If these were in the constitution, political tension, deadlock and unnecessary debates would never end. [The] constitution is an operative document and democracy and democracy alone should be in it. Whichever party comes to office, with a mandate from the people, will run the country in accordance with its political ideology or ism” (অর্থাৎ “মতবাদ তথা সমাজতন্ত্র, পুঁজিবাদ, সাম্যবাদের মতবাদ – কখনোই সংবিধানে থাকা উচিত নয়। এগুলো সংবিধানে থাকলে রাজনৈতিক উত্তেজনা, অচলাবস্থা ও অপ্রয়োজনীয় বিতর্কের অবসান হবে না। সংবিধান একটি কার্যকরী দলিল এবং গণতন্ত্র এবং গণতন্ত্র একাই এতে থাকা উচিত। জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে যে দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন, তার রাজনৈতিক মতাদর্শ বা মতবাদ অনুযায়ী দেশ চালাবে।”

ঠিক এই কথা বলে গেছেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক ও লেখক আবুল মনসুর আহমদ তাঁর “আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর” বইতে। তিনি বলেন: “ডিমক্রেসি, সোশিয়ালিযম, ন্যাশনালিজম ও সেকিউলারিজম: এই চারটিকে আমাদের রাষ্ট্রের মূলনীতি করা হইয়াছে। ……..কিন্তু আমার মত এই যে, এর কোনওটাই সংবিধানে মূলনীতিরূপে উল্লেখিত হইবার বিষয় নয়। গণতন্ত্র ছাড়া বাকী সবকটিই সরকারী নীতি – রাষ্ট্রীয় নীতি নয়।……..এই কারণে শাসনতান্ত্রিক সংবিধানে গণতন্ত্রের নিশ্চয়তা বিধান করিয়া আর- আর বিষয়ে যত কম কথা বলা যায়, ততই মঙ্গল।……সে জন্য দেশের সর্বোচ্চ আইন সংবিধানে শুধু নিরংকুশ গণতন্ত্রের নিশ্ছিদ্র বিধান করিয়া বাকী সব ভাল কাজের ব্যবস্থা করা উচিৎ পার্লামেন্টের রচিত আইনের দ্বারা তা না করিয়া আইনের বিষয়বস্তুসমুহ সংবিধানে ঢুকাইলে সংবিধানের স্থায়িত্ব, পবিত্রতা ও অপরিবর্তনীয়তা আর থাকে না। নির্বাচনে যে দল বিজয়ী হইবেন, সেই দলই তাদের পছন্দমত সংবিধান সংশোধন করিয়া লইবেন, এমন হইলে শাসনতান্ত্রিক সংবিধানের আর কোন দাম থাকে না” (পৃষ্টা ৬১৯)।

রাষ্ট্রে বহু মত, পথ, নীতি ও আদর্শের মানুষ বসবাস করে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এ ধরণের ভিন্নতা অত্যন্ত স্বাভাবিক। বরং তা গণতন্ত্রের সৌন্দর্য (beauty of democracy)। সাধারণত: বামপন্থি রাজনীতি যারা করেন বা এই ধারা যারা বিশ্বাস করেন সমাজতন্ত্র তাদের নীতি ও মতাদর্শ। আবার ডানপন্থি রাজনীতি যারা করেন তারা অনেকটা রক্ষনশীলতায় বিশ্বাস করেন এবং আদর্শের ক্ষেত্রে সমাজতন্ত্রের বিপরীতে পুঁজিবাদ ও মুক্তবাজার অর্থনীতির পক্ষে তাদের অবস্থান। অপরদিকে ধর্মের ভিত্তিতে অনেক রাজনৈতিক দল আছে যারা সমাজতন্ত্রের পরিবর্তে ধর্ম থেকে অনুসৃত নীতি ও আদর্শে তারা বিশ্বাস করেন। এমতাবস্থায় কোনে বিশেষ মতবাদ বা দর্শনকে সংবিধানে স্থায়ীভাবে রেখে দিলে অন্য নীতি বা মতাদর্শ অনুসরণকারীদের উপর তা জোর করে চাপিয়ে দেয়া হবে বা তাদেরকে মানতে বাধ্য করা হবে। সমাজের স্থিতিশীলতার জন্য যেখানে সবার সহাবস্থান দরকার সেখানে এভাবে চাপিয়ে দেয়া হলে বা মানতে বাধ্য করা হলে সাংবিধানিক উত্তেজনা সবসময় বিরাজ করবে। ফলে যে দলই যখন ক্ষমতায় যাবে এবং যখনই সুযোগ পাবে তখনই তাদের মতাদর্শ অনুযায়ী মূলনীতিগুলো পরিবর্তন করতে থাকবে।বাংলাদেশের বিগত অর্ধ শতাব্দির ইতিহাসে এমন পরিবর্তন ঘটেছে একাধিকবার।

নাজির আহমদ: বিশিষ্ট আইনজীবী, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী এবং ইংল্যান্ডের প্র্যাকটিসিং ব্যারিস্টার।

Email: ahmedlaw2002@yahoo.co.uk

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ