তারুণ্যের শক্তিতেই দেশ বিশ্বনেতৃত্বের সক্ষমতা অর্জন করবে : চসিক মেয়র - জনতার আওয়াজ
  • আজ বিকাল ৫:৪৪, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

তারুণ্যের শক্তিতেই দেশ বিশ্বনেতৃত্বের সক্ষমতা অর্জন করবে : চসিক মেয়র

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শনিবার, আগস্ট ২, ২০২৫ ১১:০১ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শনিবার, আগস্ট ২, ২০২৫ ১১:০১ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, ‘তারুণ্যের শক্তিতেই বাংলাদেশ বিশ্বে নেতৃত্বদানের সক্ষমতা অর্জন করবে। তারুণ্যের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে যেকোনো অসাধ্য সাধন করা সম্ভব। তরুণরা বাধা ডিঙাতে পারে, জয় করতে জানে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে তরুণ প্রজন্ম ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে প্রমাণ করেছে, অধিকার হরণ বা অবমূল্যায়ন হলে তারা দাঁড়িয়ে যেতে জানে, পাথর ভেঙে এগিয়ে যেতে পারে।

ইয়ুথ ভয়েসের মতো সংগঠনের কার্যক্রম ও নেতৃত্বের মাধ্যমে আমরা সে পথেই এগিয়ে চলেছি।’

শনিবার (২ আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রামের প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির সেন্ট্রাল অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত ইয়ুথ ভয়েস অব বাংলাদেশের চট্টগ্রাম সিটি ওয়ার্কিং কমিটির ‘জেনারেল কাউন্সিল ২০২৫’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। এ কাউন্সিলের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘নেতৃত্বে তারুণ্য : নতুন বাংলাদেশের রূপরেখা’।

তরুণদের উদ্দেশে দেশপ্রেম, আত্মত্যাগ ও ইতিবাচক মনোভাব ধারণের আহ্বান জানিয়ে ডা. শাহাদাত বলেন, এই বাংলাদেশকে বদলে দিতে হলে নেতৃত্ব দিতে হবে তরুণদের।

যুগে যুগে তরুণরাই দেশের সব বিপ্লবে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে তারুণ্যের ভূমিকা অনস্বীকার্য। ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন সব ক্ষেত্রেই তরুণরাই সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে। জুলাই আন্দোলনেও তারুণ্যরা নেতৃত্ব দিয়েছে।
আগামীতেও দেশ গঠনে এগিয়ে আসবে তারুণ্যরা।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, হজরত মুহাম্মদ (সা.) তরুণ বয়সে ‘হিলফুল ফুজুল’ নামক সংগঠন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সমাজ পরিবর্তনের আন্দোলন শুরু করেছিলেন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান তরুণ বয়সে মুক্তিযুদ্ধের ডাক দিয়েছিলেন এবং বেগম খালেদা জিয়াও গৃহবধূ থেকে রাজপথে এসে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মাত্র ৩৫ বছর বয়সে। তারুণ্য আর আপসহীন নেতৃত্বই দেশকে রক্ষা করেছে।

তিনি বলেন, ‘আজকের বাস্তবতায় আমাদের তরুণ সমাজের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দেশপ্রেম ধারণ করা।

তারা যেন শুধু সমালোচনা না করে, সমস্যা সমাধানের চিন্তা করে। টরন্টো সফরে সেখানে পড়াশোনা করা তরুণদের বলেছি, তোমরা শিক্ষা অর্জনের পর দেশের টেকনোলজি ট্রান্সফার করো। বাংলাদেশকে ভালোবেসে দেশের জন্য কাজ করতে হবে।’

মেয়র বলেন, ‘বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৪ কোটি ৬০ লাখ তরুণ রয়েছে। তাদের অনেকেই বিদেশে যাওয়ার চিন্তা করছে। কারণ তারা মনে করে বাংলাদেশ নিরাপদ নয়। আমাদের দায়িত্ব হলো এই মনোভাব পরিবর্তন করা। তরুণদের মধ্যে দেশপ্রেম ও সততা জাগিয়ে তুলতে হবে।’

নিজ উদ্যোগ ‘ক্লিন, গ্রিন, হেলদি এবং সেফ চট্টগ্রাম’ বাস্তবায়নের জন্য তরুণদের পাশে চাওয়ার কথা জানিয়ে মেয়র বলেন, ইয়ুথ ভয়েস অব বাংলাদেশ আমার এই যাত্রায় পাশে থাকবে বলে আমি বিশ্বাস করি। তরুণরাই আমাদের ভবিষ্যৎ। তাদের স্যাক্রিফাইস করার মানসিকতা আমাদের বাংলাদেশকে দুর্নীতি ও বৈষম্যমুক্ত এক নতুন বাংলাদেশে পরিণত করবে।

ডা. শাহাদাত বলেন, দেশের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য নেতৃস্থানীয় ভূমিকা নিতে হবে তারুণ্যকেই। দেশপ্রেম ও সততা ছাড়া কোনো পরিবর্তন সম্ভব নয়।

যুবনেতৃত্ব বিকাশ, সামাজিক সচেতনতা এবং মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় ইয়ুথ ভয়েস অব বাংলাদেশ ২০১৩ সাল থেকে এক দশকের বেশি সময় ধরে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এবারের সম্মেলনে চট্টগ্রামের ৪২টি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নির্বাচিত ১৪৫ জন প্রতিনিধিসহ প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন তরুণ আইনজীবী, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ, উদ্যোক্তা ও সমাজকর্মীরা। যারা আগামীর নেতৃত্বে দেশের মানবিক ও টেকসই উন্নয়নের স্বপ্ন বুকে ধারণ করে এগিয়ে চলেছেন।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ইয়ুথ ভয়েস অব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার তারেক আকবর খোন্দকার এবং প্রধান বক্তা ছিলেন ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. ফরিদ এ সোবহানী। বিশেষ বক্তা ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সুপ্রিম কোর্ট-এর ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার ওসমান চৌধুরী, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের আইন কর্মকর্তা (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ), ব্যারিস্টার শাহনেওয়াজ মুনির এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যাডভাইজরি কমিটির সদস্য ইসরাফিল খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রমুখ।

সভাপতির বক্তব্যে ব্যারিস্টার তাকে আকবর খোন্দকার বলেন, যুবসমাজকে শুধু পড়াশোনার গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না থেকে আত্ম-উন্নয়নের ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে। নেতৃত্বের গুণাবলী চর্চা ও সামাজিক সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য কেবল পুঁথিগত বিদ্যা নয়—এর সঙ্গে নৈতিকতা, আদর্শ ও দেশপ্রেম গড়ে তোলা জরুরি। তরুণদের উচিত শিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধ ও দায়িত্বশীলতা নিয়ে দেশ ও সমাজের কল্যাণে কাজ করা।

বক্তারা ইয়ুথ ভয়েস অব বাংলাদেশের এই উদ্যোগকে যুব নেতৃত্ব বিকাশ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা তৈরির এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন। ইয়ুথ ভয়েস অব বাংলাদেশ বিশ্বাস করে, নেতৃত্ববান, মানবিক ও সচেতন যুবসমাজই আগামীর বাংলাদেশকে একটি উন্নত, শান্তিপূর্ণ ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রে রূপান্তর করতে সক্ষম।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ