তারেক-জুবাইদাকে কারাদণ্ডে ড্যাবের নিন্দা - জনতার আওয়াজ
  • আজ সকাল ৯:৫৭, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

তারেক-জুবাইদাকে কারাদণ্ডে ড্যাবের নিন্দা

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বুধবার, আগস্ট ২, ২০২৩ ৬:৩৭ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বুধবার, আগস্ট ২, ২০২৩ ৬:৩৭ অপরাহ্ণ

 

নিউজ ডেস্ক
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী ডাঃ জোবাইদা রহমানের বিরুদ্ধে দুদকের করা মামলার রায়ের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সভাপতি অধ্যাপক ডাঃ হারুন আল রশীদ ও মহাসচিব ডাঃ মোঃ আব্দুস সালাম।

বুধবার ড্যাবের নেতারা এক যৌথ বিবৃতিতে সরকারকে এই ধরনের ন্যাকারজনক কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। নতুবা, বাংলাদেশের চিকিৎসক সমাজ ও সাধারণ জনগণকে সাথে নিয়ে ড্যাব রাজপথে দুর্বার গণআন্দোলন গড়ে তুলে এই সরকারের পতন নিশ্চিত করবে।।

নেতৃদ্বয় বলেন, আপনারা সবাই অবগত আছেন যে, বাংলাদেশ নামক আমাদের প্রিয় দেশ বিগত ১৪ বৎসর যাবৎ একটি স্বৈরশাসনের যাঁতাকলে পিষ্ট। ৩০ লাখ শহীদের রক্তে ও মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য ছিল একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র-ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, যেখানে কথা বলার অধিকার থাকবে, থাকবে খাদ্য, বাসস্থান ও চিকিৎসার নিশ্চয়তা, থাকবে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মূল্যবোধের চর্চা এবং প্রতিষ্ঠিত হবে বৈষম্যহীন ন্যায়বিচার-ভিত্তিক একটি আধুনিক সমাজ-ব্যবস্থা। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় আজকে স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও আমরা এই লক্ষ্য থেকে সুদূর পরাহত। আজ বাংলাদেশে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে ধীরে ধীরে বিগত ১৪ বৎসরে মানুষের মৌলিক অধিকার গুলিকে খর্ব করে দেয়া হয়েছে। রাষ্ট্রের গুরুত্ব পূর্ণ কাঠামোগুলোকে ধ্বংস করা হয়েছে। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছে, নির্বাচন কমিশন ও দুদককে দলীয়করণ করা হয়েছে, রাষ্ট্রযন্ত্রের সর্বস্তরে দলীয় লোকজনের নিয়োগ এমনকি শেষ ভরসাস্থল বিচার বিভাগকেও দলীয়করণের মাধ্যমে একটি প্রতিবাদহীন একদলীয় স্বৈরশাসন কায়েমের নীলনকশা বাস্তবায়ন করেছে এই সরকার।

তারা বলেন, দুদক এখন সরকারের অন্যতম আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠান হয়ে দাড়িয়েছে। ইতিপূর্বে বিএনপি চেয়ারপারসন বাংলাদেশের তিনবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী, সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী বেগম জিয়াকে মিথ্যা মামলায় সাজা দেয়া হয়েছে। তিনি বর্তমানে অসুস্থ অবস্থায় কারান্তরীণ। আইনগতভাবে জামিন প্রাপ্তির অধিকার থাকলেও তাকে সেই অধিকার থেকেও বঞ্চিত করা হয়েছে। গত ১৪ বছরে গায়েবি মামলা-সহ বিভিন্ন মামলায় লাখ লাখ বিরোধী মতের লোকদের আসামি করা হয়েছে। হাজার হাজার লোককে শাস্তি দেয়া য়েছে।

ড্যাব নেতারা বলেন, বর্তমান এই শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা থেকে বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের মানুষকে উদ্ধারে, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে যিনি নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি তারেক রহমান। তার আহ্বানে দেশের দলমত নির্বিশেষে সমস্ত মানুষ শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে এই সরকারকে হঠানোর এক দফা আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে। ঠিক এমন সময়ে অত্যন্ত দ্রুত নজীরবিহীন গতিতে তারেক রহমান ও তার সহধর্মিনী ডাঃ জোবাইদা রহমানের বিরুদ্ধে আয়কর মামলায় সাজা দেয়া হলো। যে মামলা চলার মতো কোনো আইনগত উপাদান নেই। কেননা, তারেক রহমান ২০০৭ সালের সম্পদ বিবরণীতে বর্ণিত সম্পদের বিপরীতে আয়কর পুরোপুরি জমা দিয়েছিলেন। পাশাপাশি ডাঃ জোবাইদা রহমান এর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ৩৫ লাখ টাকা FDR. উক্ত FDR মামলা দায়ের এর পূর্বেই (২০০৫-২০০৬) অর্থবছরে এর ট্যাক্স রিটার্ন দেয়া হয়েছিল।

বিবৃতি ড্যাব নেতৃদ্বয় বলেন, তারেক রহমান ১৯৮২ সাল থেকে শুরু করে ২০০৬ সাল পর্যন্ত উনার সম্পদের বিবরণী প্রদান করেন। সেই সম্পদের বিবরণীর একটি অংশে দুদক আপত্তি প্রদান করে সেটার ভিত্তিতে ঢাকার কাফরুল থানায় ২০० সালের ২৬ সেপ্টেম্বর ৫২(১) ০৭ নং মামলা দায়ের করে বলা হয় তার জোবাইদা রহমানের নামে থাকা ৩৫ লাখ থাকার এফডিআর উনি স্বামী তারেক রহমানের টাকায় করেছেন। সম্পদ বিবরণীতে উল্লেখ ছিল, এই এফডিআরের টাকা ডাঃ জোবাইদা রহমানের মাত্রা বিশিষ্ট সমাজসেবিকা সৈয়দা ইকবাল মান বানু তাদের সম্পত্তি ও বাড়ি ভাড়ার আয় থেকে মেয়েকে প্রদান করেছিলেন। উল্লেখ্য যে, ডা জোবাইদা রহমানের কোন ভাই নেই এবং উনারা দুই বোন। সুতরাং উত্তরাধিকার সূত্রে তাদের বিপুল সম্পতি থেকে যে আয় হয়, তার একটি অংশ উনার প্রাপ্য এবং সেই টাকা দিয়েই ডাঃ জোবাইদা রহমানের নামে এফডিআর করা হয়েছিল।বকিন্তু দুদক এই মর্মে মামলা করে যে, এই এফডিআরের টাকা জনাব তারেক রহমানের কাছ থেকে ডাঃ জোবাইদা রহমান নিয়ে এফডিআর করেছেন আর তাতে সহযোগিতা করেছেন তার মাতা সৈয়না ইকবাল মান বানু। এটা অত্যন্ত হাস্যকর ব্যাপার। নিয়ম অনুযায়ী, কোন সম্পদের তথ্য যদি হিসাব বিবরণীতে ভুলক্রমে না দেখানো হ তাহলে সেটা আয়কর আইনের আওতায় আসবে, কোনভাবেই দুদকের আইনের আওতায় না। দুদক এই মামলার মাধ্যমে পক্ষপাতিত্বমূলক অতিউৎসাহী আচরণ এর প্রমাণ দিয়েছে।

ড্যাব নেতারা বলেন, ডাঃ জোবাইদা রহমান পেশায় একজন স্বনামধন্য Cardiologist। তার বাবা রিয়ার এডমিরাল মাহ খান বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সাবেক প্রধান ছিলেন। তারেক রহমান ও ডাঃ জোবাইদা রহমানের বিরুদ্ধে এ সাজা প্রদান প্রমাণ করে বর্তমান শাসকগোষ্ঠী তারেক রহমানের জনপ্রিয়তায় ভীত এবং জিয়া পরিবারের প্রতি প্রতিহিংসাপরায়ণ। বাংলাদেশে একদলীয় শাসন কায়েম এর পথে জিয়া পরিবার এক বিরাট বাধা। সে কারণেই প্রথমে খালেদা জিয়া, মৃত জিয়াউর রহমান, পরবর্তীকালে তারেক রহমান এবং সর্বশেষে ডাঃ জোবাইদা রহমানের বিরুদ্ধে এই ষড়যন্ত্রমূলক মামলা এবং শাস্তি প্রদানের মাধ্যমে তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার অপকৌশল করা হয়েছে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ