তিন শহিদ নেতা পরিবারের সদস্যদের আর্থিক সহযোগিতা প্রদান
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শনিবার, জানুয়ারি ১৪, ২০২৩ ৭:১১ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শনিবার, জানুয়ারি ১৪, ২০২৩ ৭:৩৪ অপরাহ্ণ

যত অত্যাচার-নির্যাতন আসুক সরকারের পতন ‘শান্তিপূর্ণ আন্দোলনেই’ হবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠান এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
চলমান গণতান্ত্রিক আন্দোলনে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত বাগেরহাটের নুরে আলম তানু, ঢাকার মকবুল হোসেন এবং পঞ্চগড়ের আব্দুর রশিদ আরেফীনের পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান উপলক্ষে এই অনুষ্ঠান হয়।
মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে একটা দুঃসময় উপস্থিত হয়েছে যখন বর্বরোচিত একটি শক্তি, দানবীয় একটি শক্তি আমাদের সমস্ত অর্জনগুলোকে ধবংস করে দিচ্ছে, তছনছ করে দিচ্ছে। আমাদের দেশনেত্রীকে বছরের পর বছর তারা বন্দি করে রেখেছে। আমাদের প্রায় ৪০ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, ৬০০ নেতাকর্মীকে গুম করে ফেলা হয়েছে, সহস্রাধিক নেতাকর্মীকে খুন করা হয়েছে, আমাদের কয়েক হাজার নেতাকর্মী এখন জেলে আছে, এখনো আমাদের শীর্ষনেতারাও অনেকে জেলে আছেন, ছাত্র নেতারা আছে, যুব নেতারা আছে, স্বেচ্ছাসেবক নেতারা আছে।

তিনি বলেন, তারপরেও আমি কারও মুখে এতটুকু ক্লান্তি-হতাশা দেখেনি। সবাই উজ্জীবিত যে যত নির্যাতন আসুক, অত্যাচার আসুক, নিপীড়ন আসুক- শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা এই ভয়াবহ দানবকে পরাজিত করব। আমরা সত্যিকার অর্থে এখানে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করব। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে যে যুদ্ধে নেমেছি, ইনশাল্লাহ আমরা সেই যুদ্ধে জয়ী হবোই হবো।
নিহত নেতাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বিএনপি সবসময় তাদের পাশে থাকবে বলে জানান মির্জা ফখরুল।
তিনি বলেন, যারা প্রাণ দিয়েছেন তারা একটি আদর্শের জন্যে, একটি লক্ষ্যের জন্যে প্রাণ দিয়েছেন। সেই আদর্শ-লক্ষ্য হচ্ছে তার নিজের দেশকে মুক্ত করবার জন্যে, এখানে সব মানুষের অধিকারকে প্রতিষ্ঠা করার জন্যে, বাংলাদেশকে সত্যিকার অর্থে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্যে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, এবার ২২ আগস্ট থেকে আমরা যখন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন শুরু করি, তখন আমাদের প্রায় ১৫ জন ভাই শহিদ হয়েছেন এই ভয়াবহ ফ্যাসিবাদী একনায়কতান্ত্রিক স্বৈরাচারী অনির্বাচিত সরকারের পুলিশের গুলিতে, আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের নির্যাতনে। তারা চলে গেছেন, শহীদ হয়েছেন কিন্তু বীরের মতো। তারা কেউ পিছনে পালাতে গিয়ে নিহত হননি, তারা সম্মুখ যুদ্ধে সামনে দাঁড়িয়ে বুকে পেতে দিয়েছেন। দেশের জন্য তাদের এই যে আত্মোৎসর্গ সেই আত্মোৎসর্গ এদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
লন্ডন থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভার্চুয়ালি এই অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে নিহত পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানিয়ে বক্তব্য দেন। পরে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে অর্থ সহায়তার চেক পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দেন বিএনপি মহাসচিব।
দলের কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সের পরিচালায় অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য জমির উদ্দিন সরকার, নির্বাহী কমিটির সদস্য ফরহাদ হোসেন আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এসএম জিলানি, বাগেরহাট জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক নিহত নুরে আলম তানুর স্ত্রী কানিজ ফাতেমা, ঢাকা মহানগরের পল্লবী থানার ৫ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সম্পাদক মকবুল হোসেনের স্ত্রী হালিমা আখতার বর্ষা এবং পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার ময়দানদীঘি ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আব্দুর রশিদ আরেফীনের স্ত্রী শিরিন আখতার বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমান উল্লাহ আমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু, ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্য সচিব আমিনুল হক ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসানসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
জনতার আওয়াজ/আ আ