তৃতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচনে কোটিপতি প্রার্থী ১০৬ জন
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
সোমবার, মে ২৭, ২০২৪ ৯:৪৭ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
সোমবার, মে ২৭, ২০২৪ ৯:৪৮ অপরাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
তৃতীয় ধাপে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রায় ৬৭ শতাংশই ব্যবসায়ী। কোটিপতি প্রার্থী রয়েছেন ১০৬ জন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে ৯০ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১১ ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫ জন কোটিপতি।
আজ সোমবার (২৭ মে) রাজধানীর ধানমণ্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তৃতীয় ধাপের প্রার্থীদের আয় ও সম্পদের তথ্য (হলফনামার ভিত্তিতে) বিশ্লেষণ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। বিশ্লেষণে টিআইবি জানিয়েছে, প্রার্থীদের হলফনামায় অস্থাবর সম্পদের যে হিসাব দেওয়া হয়েছে, তার ভিত্তিতে কোটিপতির হিসাব করা হয়েছে। ভূমির মতো স্থাবর সম্পদের মূল্য নির্ধারণ কঠিন হওয়ায় তা কোটিপতির হিসাবে আনা হয়নি। হলফনামায় প্রদর্শিত প্রার্থীদের আয় ও সম্পদ সম্পূর্ণ কি-না এবং বৈধ আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি-না কিংবা কর ফাঁকির মতো ঘটনা ঘটেছে কি-না তা স্বপ্রণোদিতভাবে খতিয়ে দেখতে নির্বাচন কমিশন, রাজস্ব বোর্ড এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা রাজনীতিতে সুষ্ঠু প্রক্রিয়ায় আসছেন কি না এবং মুনাফা করার উদ্দেশে আসছেন কি না, সেটাই বড় প্রশ্ন। তথ্য বলছে, জনপ্রতিনিধি হিসেবে ক্ষমতায় থাকলে অনেকের আয় ও সম্পদ অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। ফলে জনস্বার্থের বিষয়টি প্রাধান্য পাচ্ছে না। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও ব্যবসায়ী প্রার্থীদের দাপট বাড়ছে।
টিআইবির বিশ্লেষণে দেখা যায়, তৃতীয় ধাপে চেয়ারম্যান প্রার্থীদের ৬৬ দশমিক ৫৩ শতাংশই নিজেকে ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১২ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ পেশা হিসেবে দেখিয়েছেন কৃষিকাজ। পেশার ক্ষেত্রে তৃতীয় ও চতুর্থ অবস্থানে রয়েছেন আইন পেশা (৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ) ও শিক্ষকতা (৪ দশমিক ৩৭ শতাংশ)। একইভাবে ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীদেরও ৬৮ দশমিক ৯৯ শতাংশ নিজেদের ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন।
নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীদের ৪৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ গৃহিণী। গৃহস্থালির কাজকে তারা পেশা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁদের প্রায় ৩২ শতাংশ পেশায় ব্যবসায়ী।
এর আগে ২১ মে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থীদের প্রায় ৭১ শতাংশ ছিলেন ব্যবসায়ী। চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে কোটিপতি ছিলেন ১০৫ জন। এর আগে প্রথম ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেও চেয়ারম্যান প্রার্থীদের প্রায় ৭০ শতাংশ ছিলেন ব্যবসায়ী।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েও এই নির্বাচনে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের স্বজনদের অংশগ্রহণ থামাতে পারেনি ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তৃতীয় ধাপেও মন্ত্রী-সংসদ সদস্যদের ১৮ স্বজন অংশ নিচ্ছেন। অবস্থাদৃষ্টে প্রতীয়মান হয় যে, মুনাফার সম্ভাবনা রয়েছে বলেই রাজনীতিতে ব্যবসায়ীদের আগ্রহ বাড়ছে, বাড়ছে স্থানীয় পর্যায়ে পরিবারতন্ত্র। জনপ্রতিনিধি হতে পারাকে বাজার নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে একদিকে যেমন ক্ষমতা অপব্যবহারের লাইসেন্স হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, অন্যদিকে তেমনি সংশ্লিষ্ট খাতে সিদ্ধান্ত ও নীতিকাঠামোতে ব্যবসায়ী লবির প্রভাব ও স্বার্থ রক্ষিত হয়। ফলে যখন অনিয়ম, দুর্নীতি হয় বা সিন্ডিকেট যখন বাজার নিয়ন্ত্রণ করে তখন দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা যায় না। আবার যারা এই গোষ্ঠীকে জবাবদিহিতার আওতায় আনবেন তাদেরও একাংশ সুবিধাভোগী, অংশীদার বা সুরক্ষাকারী। ফলে রাজনীতিতে মুনাফামুখীতা ক্রমেই বেড়ে চলেছে।
টিআইবির গবেষণা দলের প্রধান মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, উপদেষ্টা-নির্বাহী ব্যবস্থাপনা ড. সুমাইয়া খায়ের, আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের সহসমন্বয়ক রিফাত রহমান, ইকরামুল হক ইভান ও কে. এম. রফিকুল আলম।
জনতার আওয়াজ/আ আ