দল পুনর্গঠনে ত্যাগীদের মূল্যায়ন করায় উজ্জীবিত বিএনপি নেতাকর্মীরা - জনতার আওয়াজ
  • আজ বিকাল ৫:৪২, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

দল পুনর্গঠনে ত্যাগীদের মূল্যায়ন করায় উজ্জীবিত বিএনপি নেতাকর্মীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: সোমবার, জুলাই ১, ২০২৪ ২:৩৪ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: সোমবার, জুলাই ১, ২০২৪ ২:৩৪ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
বিগত আন্দোলনে সফলতা অর্জন না করায় ঘুরে দাঁড়াতে পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিএনপির হাইকমান্ড। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর অনেকটা নীরব ছিল নেতাকর্মীরা। তাই কৌশল পরিবর্তন করে ফের ঘুরে দাঁড়াতে চায় দলটি। বিগত দিনের আন্দোলনে যারা রাজপথে ছিলেন ত্যাগী, তাদেরকে মূল্যায়ন করার সিদ্ধান্ত নেয় দলটি।

দীর্ঘদিন ধরে চলা সরকার পতন আন্দোলনে কাঙ্ক্ষিত ফল না আসায় দলটির অভ্যন্তরে কৌশলগত পরিবর্তন নিয়ে পর্যালোচনা চলে। এরই অংশ হিসাবে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদ, ভাইস চেয়ারম্যানসহ নির্বাহী কমিটির ফাঁকা পদ পূরণ করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৫ই জুন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটিতে ৪৫ নেতার পদে রদবদল করা হয়েছে।

যেসব পদে রদবদল হয়েছে, সেগুলো হলোঃ
বিএনপির বিশেষ সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপনকে দলের ভাইস চেয়ারম্যান করা হয়েছে। জহির উদ্দিন স্বপনকে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার এ এইচ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনকে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, এডভোকেট মজিবুর রহমান সরোয়ারকে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, এডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, হারুন অর রশিদকে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, লায়ন আসলাম চৌধুরীকে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, রাজশাহী বিভাগীর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুকে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবনকে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক বেবী নাজনীনকে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, সহ-তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন চৌধুরী পাহিনকে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা করা হয়েছে। অপরদিকে ঢাকা বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদকে যুগ্ম মহাসচিব, ময়মনসিংহ বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সকে যুগ্ম মহাসচিব, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানীকে যুগ্ম মহাসচিব পদে মনোনীত করা হয়েছে।

ঢাকা বিভাগীয় বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী সাইয়েদুল আলম বাবুলকে সাংগঠনিক সম্পাদক (ঢাকা বিভাগ), রাজশাহী বিভাগীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট সৈয়দ শাহীন শওকত খালেককে সাংগঠনিক সম্পাদক (রাজশাহী বিভাগ), সমবায় বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ্ব জি কে গউছ সাংগঠনিক সম্পাদক (সিলেট বিভাগ), ময়মনসিংহ বিভাগীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শরিফুল আলমকে সাংগঠনিক সম্পাদক (ময়মনসিংহ বিভাগ), যুবদলের সাবেক সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে প্রচার সম্পাদক, বিএনপির সহ-প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক প্রফেসর ড. মোর্শেদ হাসান খানকে গণশিক্ষা সম্পাদক, সহ-প্রচার সম্পাদক কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীমকে গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক, সহ-প্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলীমকে সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (রাজশাহী বিভাগ), সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদকে সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (ঢাকা বিভাগ), নির্বাহী কমিটির সদস্য অধ্যাপক আমিনুল ইসলামকে সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (রংপুর বিভাগ) পদে মনোনীত করা হয়েছে।

এছাড়া বিএনপির নির্বাহী সদস্য ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দিনকে সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম বিভাগ), আবু ওয়াহাব আকন্দকে সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (ময়মনসিংহ বিভাগ), মিফতাহ সিদ্দিকীকে সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (সিলেট বিভাগ), নাহিদ খানকে সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক, ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ সহ-স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক, এস এম সাইফ আলী সহ-তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক পদে মনোনীত করা হয়েছে।

এদিকে চট্টগাম বিভাগীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জালাল উদ্দিন মজুমদারকে জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, রংপুর বিভাগীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য কুমিল্লা বিভাগীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সায়েদুল হক সাঈদকে জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, সহ-কৃষি বিষয়ক সম্পাদক কৃষিবিদ চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল ফারুককে জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, সহ-তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার এস এম গালিব জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য পদে মনোনীত করা হয়েছে।

এছাড়া যুক্তরাজ্য বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কয়সর এম আহমেদকে জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, মহিউদ্দিন আহমেদ ঝিন্টুকে জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, গাজী মনিরকে জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাশেদ ইকবাল খানকে জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য পদে মনোনীতি করা হয়েছে। একই দিনে আরও ৫ নেতার পদোন্নতি দেয়া হয় তারা হলেন- মেজর জেনারেল (অব.) মো. শরীফ উদ্দীন সদস্য, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিল, জাহান পান্না (রাজশাহী) সদস্য, জাতীয় নির্বাহী কমিটি-বিএনপি, নাজমুন নাহার বেবী (চাঁদপুর) সদস্য, জাতীয় নির্বাহী কমিটি-বিএনপি। মো. মাইনুল ইসলাম (টাঙ্গাইল) সদস্য, জাতীয় নির্বাহী কমিটি-বিএনপি, আজম খান (দক্ষিণ আফ্রিকা) সদস্য, জাতীয় নির্বাহী কমিটি-বিএনপি, বেলায়েত হোসেন মৃধা (নরসিংদী) সদস্য, জাতীয় নির্বাহী কমিটি-বিএনপি।

বিএনপির দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, বিগত আন্দোলনে কেন্দ্রীয় ও মাঠ পর্যায়ের নেতাদের কার কী ভূমিকা ছিল, সে বিষয়ে সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন যায় লন্ডনে অবস্থানরত দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে। সেটির ভিত্তিতেই তিনি কমিটি পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নেন। এ লক্ষ্যে তারেক রহমান কিছুদিন ধরে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক এবং অনানুষ্ঠানিক আলোচনা করেন। দলের দায়িত্বশীল নেতারা মনে করছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দল ঐক্যবদ্ধ। কিছু দুস্কৃতিকারী অতীতেও দল ভাঙার চেষ্টা করেছে তারা কিছুই করতে পারেনি। ভবিষ্যতেও পারবে না।

এছাড়া নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত রাখতে নীরবে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন কার্যক্রম শুরু করেছে বিএনপি। দলকে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করা, নিজেদের দাবির পক্ষে দেশে-বিদেশে জনমত তৈরি এবং সংগঠনকে যুগোপযোগী করে গড়ে তুলতে নানাভাবে কাজ করছেন নেতারা। একই সঙ্গে আন্দোলনও চালিয়ে যেতে চায় দলটি। তবে আপাতত জনসম্পৃক্ত ইস্যুতে নানা কর্মসূচি নিয়ে মাঠে থাকবে। বিএনপির একাধিক নীতিনির্ধারকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে এসব তথ্য।

বিএনপির এক শীর্ষ নেতা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বলেন, দল পূর্ণগঠনে ত্যাগীদের মূল্যায়ন করায় যারা বিএনপিকে শক্তিশালী চায়না বা আন্দোলন সংগ্রামে যারা নিজেদের সরিয়ে রেখে নিরাপদে ছিল এমন একটি ক্ষুদ্র গোষ্ঠী এরই মধ্যে দলে বিভেদ তৈরির চেষ্টা করছে। তারা বিভিন্ন গোয়েন্দা নির্ভর কিছু মিডিয়াকে দিয়ে নানা বিভ্রান্তিমূলক খবর প্রকাশ করছে। কিন্তু এসব ষড়যন্ত্র করে কোন লাভ হবে না আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এসব বিষয়ে অবগত আছেন।

দল পুনর্গঠন প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক , দলের কাউন্সিলে আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ক্ষমতা দেয়া হয়েছে যেকোনো সময় দলের স্বার্থে যেকোন সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। তারপরও তিনি একা কখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেন না দলের নীতি নির্ধারকদের সাথে আলোচনা করেই তিনি সকল সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। আমি মনে করি দল পুর্ণগঠনের তার এই সিদ্ধান্তে দলের নেতাকর্মীরা অবশ্যই উজ্জীবিত হবে।

তিনি বলেন, ‘দশ হাজার মাইল দূরে থাকলেও তিনি নেতাদের অতীত ত্যাগ, সামাজিক অবস্থানকে প্রাধান্য দিয়ে দলের সিনিয়র নেতাদের সাথে সমন্বয় করেই নেতৃত্ব নির্ধারণ করেন। এ নিয়ে কোনো বিরোধ নেই, থাকতে পারে না।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য গণমাধ্যমকে বলেন, বড় রাজনৈতিক দলের ভেতর পরস্পরের বিরুদ্ধে দোষারোপ সব সময় ছিল, এখনো আছে। কারও বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করা ঠিক নয়। যারা দলে গুরুত্বপূর্ণ পদপদবি পান না, তারাও ক্ষোভ থেকে কিছু কথাবার্তা বলবেন এটাই স্বাভাবিক। তবে আবার কিছুদিন পর তা ঠিক হয়ে যায়। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যোগ্য ও ত্যাগী নেতাকে যথাযথ মূল্যায়ন করছেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অনেক গুজব ছড়ানো হয়, যা সত্য নয়।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ