দাবি আদায় না হলে প্রথম সাময়িক পরীক্ষা বন্ধের ঘোষণা মাদ্রাসা শিক্ষকদের
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
সোমবার, মে ২২, ২০২৩ ৭:৫৬ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
সোমবার, মে ২২, ২০২৩ ৭:৫৬ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড কর্তৃক রেজিষ্ট্রেশন প্রাপ্ত সকল স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসাগুলোকে জাতীয়করণ করাসহ ৮ দফা দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মত অবস্থান ধর্মঘট করছে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষক ঐক্যজোট।
পাশাপাশি জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয় ৮ দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসাগুলোতে আগামী প্রথম সাময়িক পরীক্ষা নেওয়া হবে না এবং প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়ে সকল শিক্ষকরা মাঠে আন্দোলন করবেন। আসছে বাজেটে বা সরকারের পক্ষ থেকে তাদের ৮ দফা দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত এ অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে বলেও জানানো হয়।
সোমবার (২২ মে) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে দ্বিতীয় দিনের মত এ অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়।
স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষক ঐক্যজোটের মুখুপাত্র এস এম জয়নুল আবেদীন জেহাদী বলেন, ‘১৯৮৪ সাল থেকে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান শুরু হয়েছিল। তখন ছিল ১৮ হাজার প্রতিষ্ঠান। কোনো ধরনের সুযোগ-সুবিধা না থাকায় ধাপে ধাপে প্রায় দশ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। পাশাপাশি আমরা আমাদের প্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থী পাচ্ছি না। আমাদের এখানে উপবৃত্তি না থাকার কারণে পার্শ্ববর্তী প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীরা চলে যাচ্ছে। এটা হচ্ছে আমাদের মূল সমস্যা। পাশাপাশি আরেকটা সমস্যা হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে আমাদের শিক্ষকরা বিনা বেতনে চাকরি করছে। অনেকে জীবনের শেষ বয়সে চলে এসেছেন। ফলে তাদের জীবনের কোনো নিরাপত্তা নেই।
তিনি বলেন, ‘গত বছর শিক্ষামন্ত্রী আমাদের ওয়াদা করেছেন এই দুইটা বিষয় (উপবৃত্তি এবং বেতন জাতীয়করণ) তিনি অতি দ্রুত সমাধান করবেন। তখন তিনি চার মাসের সময় নিয়েছিল। কিন্তু আজকে প্রায় আট মাস হয়ে যাচ্ছে এটার কোন সমাধান এখনো হয়নি। ফলে সুনির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনা না পাওয়ার কারণে আজকে আমরা এই অবস্থান কর্মসূচি পালন করছি।’
তিনি আরো বলেন, ‘এ অবস্থান কর্মসূচি থেকে আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই আগামী প্রথম সাময়িক পরীক্ষা আমরা নেব না। প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়ে আমরা সকল শিক্ষকরা মাঠে আন্দোলন করব। আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা মাঠ ছাড়বো না।’
স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা শিক্ষক ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান কাজী মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘আমরা ৩৯ বছর যাবত সরকারের সকল বিধি নিষেধ মেনে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসায় শিক্ষাকতা করে আসছি। কিন্তু এই ৩৯ বছরে আমরা শিক্ষকরা একটি টাকারও বেতনভুক্ত হতে পারিনি। প্রাথমিক শিক্ষকদের যেভাবে বেতনের আয়তায় নিয়ে এসে ধাপে ধাপে জাতীয়করণ করা হয়েছে ঠিক একইভাবে আমাদের স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসায় শিক্ষকদেরকে ক্রমান্বয়ে জাতীয়করণ করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের এই বিষয়টা সংসদে উপস্থাপন করার জন্য আমরা কিছু আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যদের বলেছি। তারা আমাদেরকে বলেছেন আমাদের এই বিষয়টি তারা সংসদে উপস্থাপন করবেন। অতীতে আমাদের এই বিষয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামনে সংসদে আলাপ আলোচনা হয়েছে। আমাদের এ দাবি প্রধান মন্ত্রী বরাবর করছি। তিনি তা সমাধান করবেন এ আশা করছি।’
স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষক ঐক্যজোটের ৮ দফা দাবিগুলো হচ্ছে:
১। বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড কর্তৃক রেজিষ্ট্রেশন প্রাপ্ত সকল স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা প্রাইমারীর ন্যায় জাতীয়করণ করতে হবে।
২। প্রাইমারী শিক্ষার্থীদের ন্যায় স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা শিক্ষার্থীদের উপ-বৃত্তি সহ সকল সুযোগ-সুবিধা প্রদান করতে হবে।
৩। বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড কর্তৃক রেজিট্রেশন প্রাপ্ত কোড বিহীন মাদ্রাসাগুলোকে অবিলম্বে কোড নাম্বারের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
৪। প্রাইমারী শিক্ষকদের ন্যায় স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসার শিক্ষকদের পি.টি.আই ট্রেনিং এর ব্যবস্থা করতে হবে।
৫। প্রাইমারী শিক্ষকদের ন্যায় স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসার ৪র্থ শ্রেণীর পদ সৃষ্টি করতে হবে।
৬। প্রাইমারী শিক্ষকদের ন্যায় স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসাগুলোকে স্থায়ী রেজিষ্ট্রেশনের ব্যবস্থা করতে হবে।
৭। প্রাইমারী শিক্ষকদের ন্যায় স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসাগুলোকে ভৌত অবকাঠামো নিশ্চিত করতে হবে।
৮। শিক্ষার নীতিমালা-২০১৮ এর জনবল কাঠামো সংশোধন করতে হবে।
অবস্থান কর্মসূচির সভাপতিত্ব করেন স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা শিক্ষক ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান কাজী মো. মোখলেছুর রহমান। সঞ্চালনা করেন জোটের মহাসচিব তাজুল ইসলাম ফরাজী।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন কাজী ফয়জুর রহমান, মুখুপাত্র এস এম জয়নুল আবেদীন জেহাদী, মাওঃ আব্দুল কাদের মাল, মাওঃ আল-আমিন, শামসুল হুদা, আব্দুল হান্নান, মাস্টার শওকত আলী, হাফেজ মাহমুদুল হাসান, মাওঃ জহিরুল আলম, খোরশেদ আলম, মাওঃ আব্দুস ছালাম, মোঃ মুজিবুর রহমান, রবিউল ইসলাম, নূর আলম পন্ডিত, নুরুল আমিন, হাজী আনোয়ার, এনামুল হক, আবুল হোসেন, তবিবুর রহমান, আব্দুর রশীদ, একরামুল হক, রুহুল আমিন, আব্দুল কাদের, হাসনাইন, মাওঃ জাকির হোসেন প্রমুখ।
জনতার আওয়াজ/আ আ