দাবি মানার আশ্বাস প্রত্যাখ্যান, সেনা প্রতিনিধিদের পথ অবরোধ চাকরিচ্যুতদের
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
রবিবার, মে ১৮, ২০২৫ ১০:১৪ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
রবিবার, মে ১৮, ২০২৫ ১০:১৪ অপরাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
চাকরিচ্যুত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা ৪ দাবি নিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন সকাল থেকেই। দুপুর ২টায় সেনা সদর দপ্তর থেকে ভেটেরান ডিরেক্টর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমিনুর রহমানের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল আসে আন্দোলনরতদের সাথে আলোচনা করতে। এসময় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে মৌখিক আশ্বাস দিলেও আন্দোলনকারীরা তা প্রত্যাখ্যান করে প্রতিনিধি দলের পথ অবরোধ করেন।
রবিবার (১৮ মে) সরেজমিনে দেখা যায়, বিকেল ৫টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের প্রাঙ্গনের ভেতরে সেনা সদর দপ্তর থেকে আসা প্রতিনিধি দলের গাড়ির সামনে শুয়ে তাদের পথ রোধ করে রেখেছেন চাকরিচ্যুত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা। আন্দোলনে চাকরিচ্যুত সেনা সদস্য ছাড়াও তাদের অনেকের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত রয়েছেন।
আন্দোলনকারীরা তাদের সন্তানদের নিয়ে প্রতিনিধি দলের গাড়ির সামনে শুয়ে থেকে তাদের রাস্তা অবরোধ করে রাখেন।
রবিবার (১৮ মে) বেলা ১২টা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে তিন দফা দাবিতে ‘বাংলাদেশ সহযোদ্ধা প্লাটফর্ম- বিসিপি’ এর ব্যানারে অবস্থান নেন বিভিন্ন সময় চাকরিচ্যুত সেনা সদস্যরা। সেখান থেকে তারা জাহাঙ্গীর গেইট অভিমুখে লং মার্চ করার প্রস্তুতি নেন। সে সময় পুলিশ তাদের লং মার্চে বাঁধা দেয়। এ সময় একটি পুলিশের একটি জলকামানও সেখানে দেখা যায়। তবে পুলিশ কোনো ধরনের লাঠিচার্জ করেনি।
বিকাল ৪টায় বৈঠক শেষে সেনা সদর দপ্তরের প্রতিনিধি দল বের হয়ে আন্দোলনকারীদের জানান, তাদের দাবিগুলো যুক্তিসহকারে দেখা হবে৷ তারা যেনো তাদের চাকরি ফেরতের আবেদন সেনা সদর দপ্তরে জমা দেন। এছাড়া আগামীকাল সোমবার (১৯ মে) আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধি দলকে সদরদপ্তরে কথা বলতে আমন্ত্রণও জানান।
এ সময় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমিনুর রহমান আরও বলেন, যাদের ছোট অপরাধে চাকরি গেছে তাদের নির্দিষ্ট সংখ্যক করে চাকরি ফেরত দেওয়া হবে। তবে যাদের অপরাধ গুরুতর তাদের চাকরি ফেরতের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। যদি সম্ভব হয় সেটি ফেরত দেওয়া হবে। এছাড়া গতকাল গ্রেপ্তার সৈনিককের মুক্তির বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে পদক্ষেপ নেয়া হবে।
কিন্তু এই মৌখিক আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিত করেননি চাকরিচ্যুত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা। বরং তারা গিয়ে প্রতিনিধি দলের গাড়ির সামনে শুয়ে পড়েন এবং স্লোগান দিতে থাকেন।
এ সময় আন্দোরনকারীদের নেতৃত্বে থাকা সমন্বয়করাও চেষ্টা করে তাদের সরাতে পারেনি। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত প্রতিনিধি দল আন্দোলনকারীদের সরাতে বিভিন্ন ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু সরছেন না আন্দোলনকারীরা। এসময় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গনে শতাধিক সেনা ও পুলিশ বাহিনীর সদস্য উপস্থিত রয়েছেন।
উল্লেখ্য, তাদের ৪ দফা দাবিগুলো হচ্ছে-
চাকুরীচ্যুত সময় থেকে অদ্যাবধি সম্পূর্ণ বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধাসহ চাকুরি পূর্নবহাল করা;
যদি কোন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যের চাকরি পূর্নবহাল করা সম্ভব না হয় তাহলে উক্ত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের সরকারি সকল সুযোগ সুবিধাসহ সম্পূর্ন পেনশনের আওতাভুক্ত করতে হবে;
যে আইন কাঠামো ও এক তরফা বিচার ব্যাবস্থার প্রয়োগে শত শত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের চাকুরীচ্যুত করা হয়েছে সেই বিচার ব্যাবস্থা ও সংবিধানের আর্টিকেল-৪৫ সংস্করণ করতে হবে; এবং
গতকাল গ্রেপ্তার হওয়া তাদের মুখ্য সমন্বয়ক সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত সৈনিক নাইমুল ইসলামকে মুক্তি দিতে হবে।
জনতার আওয়াজ/আ আ