দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাসে সিলেট রেলপথের অবরোধ প্রত্যাহার
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শনিবার, নভেম্বর ১, ২০২৫ ৬:৪০ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শনিবার, নভেম্বর ১, ২০২৫ ৬:৪২ অপরাহ্ণ

কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি
ছবি : প্রতিনিধি
সিলেট-ঢাকা ও সিলেট-কক্সবাজার রেলপথে দুটি নতুন ট্রেন চালুসহ আট দফা দাবিতে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া জংশন স্টেশনসহ সিলেট-আখাউড়া রেলপথের বিভিন্ন স্টেশনে রেলপথ অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
শনিবার (১ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে এ কর্মসূচি শুরু হয়। রেলপথ অবরোধের কারণে সিলেট রেলপথের বিভিন্ন রেল স্টেশনে কয়েকটি আন্তঃনগর ট্রেন আটকা পড়ে। এতে ভোগান্তিতে পড়েন ট্রেনযাত্রীরা।
আন্দোলনকারীদের ৮ দফার মধ্য ৬টি দাবি পূরণের আশ্বাসে প্রায় ৪ ঘণ্টা পর বেলা দুইটার দিকে কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন আন্দোলনকারী নেতারা।
এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কুলাউড়া রেলওয়ে রেস্ট হাউসে আন্দোলনকারী ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সাথে রেল সচিবের পক্ষে তিন সদস্যের প্রতিনিধি দলের একটি বৈঠক হয়।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রেলওয়ের ঢাকা বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা মহব্বত জান চৌধুরী, ঢাকা বিভাগীয় প্রকৌশলী-২ আহসান হাবিব, কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন, কুলাউড়া থানার ওসি ওমর ফারুক, কুলাউড়া রেলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর শাহাজান পাটোয়ারী। এসময় আন্দোলনকারীসহ জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে রেলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সিলেট রুটে সকল আন্তঃনগর ট্রেনে দুটি করে অতিরিক্ত বগি সংযোজন ও ট্রেনে উন্নত ইঞ্জিন স্থাপন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসের মধ্যে সিলেট-আখাউড়া রেলপথের বন্ধ রেলস্টেশন চালু ও সিলেট-আখাউড়া সেকশনে দুটি লোকাল ট্রেন চালু করা হবে। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কুলাউড়া থেকে সিলেট রেলস্টেশন পর্যন্ত আন্তঃনগর পারাবত ট্রেনে ৬০ আসন বিশিষ্ট একটি বগি স্থায়ীভাবে দেওয়া হবে। এর মধ্যে কুলাউড়া জংশন স্টেশনে ৪০ ও শ্রীমঙ্গল স্টেশনে ২০টি আসন থাকবে।
রেলের কর্মকর্তারা বলেছেন, সিলেট-আখাউড়া রেলপথ সংস্কারে ১ হাজার ৭৩৯ কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। চলতি নভেম্বর মাসে কাজের দরপত্র আহ্বান করা হবে। এছাড়া ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসের মধ্যে সিলেট-ঢাকা ও সিলেট-কক্সবাজার রেলপথে দুটি নতুন ট্রেন চালু করার আশ্বাস দেন।
জানা গেছে, সিলেটের রেলপথ অবরোধ কর্মসূচি সফল করতে শনিবার সকাল থেকেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন লাল পতাকা হাতে নিয়ে কুলাউড়া জংশন স্টেশনে জড়ো হতে থাকেন। এসময় আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক আজিজুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও মুখ্য সমন্বয়ক এম আতিকুর রহমান আখইয়ের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন সাবেক সংসদ সদস্য ও জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) প্রেসিডিয়াম সদস্য নওয়াব আলী আব্বাছ খান, জাতীয়তাবাদী আইনজীবি ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি এডভোকেট আবেদ রাজা, জামায়াতে ইসলামীর মৌলভীবাজার জেলার আমির ইঞ্জিনিয়ার সাহেদ আলী, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ফজলুল হক খান সাহেদ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি জয়নাল আবেদীন বাচ্চু, সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সজল, বিএনপি নেতা রেদওয়ান খাঁন, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মো. জাকির হোসেন, ঢাকাস্থ জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. জসিম উদ্দিন আহমদ, কমিউনিস্ট পার্টি উপজেলা শাখার সভাপতি কমরেড আব্দুল লতিফ, ইসলামী আন্দোলনের জেলা কমিটির সেক্রেটারী মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, জাসদ নেতা আব্দুল হান্নান, সিনিয়র সাংবাদিক খালেদ পারভেজ বখ্শ, মু. ইমাদ উদ-দীন, মোক্তাদির হোসেন, নাজমুল বারী সোহেল, মাহফুজ শাকিল, পরিবহন শ্রমিক নেতা ইসলাম উদ্দিন জ্ঞানী, আলমাছ পারভেজ তালুকদার প্রমুখ।
আট দফা দাবিগুলো হলো ঢাকা-সিলেট রেলপথে অনুমোদিত টাঙ্গুয়ার এক্সপ্রেস দ্রুত চালুসহ সিলেট-ঢাকা, সিলেট-কক্সবাজার রেলপথে দুটি স্পেশাল ট্রেন চালু; আখাউড়া-সিলেট রেলপথ সংস্কার ও ডুয়েলগেজ ডাবল লাইনে উন্নীতকরণ; আখাউড়া-সিলেট সেকশনে একটি লোকাল ট্রেন চালু; আখাউড়া-সিলেট সেকশনে সব বন্ধ স্টেশন চালু; কুলাউড়া জংশন ও শ্রীমঙ্গল স্টেশনে বরাদ্দকৃত আসনসংখ্যা বৃদ্ধি; সিলেট-ঢাকাগামী আন্তনগর কালনী ও পারাবত ট্রেনের আযমপুরের পর ঢাকা অভিমুখী সব স্টেশনের যাত্রাবিরতি প্রত্যাহার; সিলেটের সঙ্গে চলাচলকারী ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় রোধে ত্রুটিমুক্ত ইঞ্জিন যুক্ত এবং যাত্রীদের চাহিদা অনুপাতে প্রতিটি ট্রেনে অতিরিক্ত বগি সংযোজন করা।
কুলাউড়া স্টেশনের স্টেশন মাস্টার রোমান আহমদ বলেন, অবরোধের কারণে ঢাকা থেকে সিলেটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা আন্তঃনগর পারাবত এক্সপ্রেস ট্রেন প্রথমে ঢাকা মগবাজার রেলগেইট, শায়েস্তাগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল স্টেশনে আটকা পড়ে। অবরোধ শুরুর আগে সকাল সাড়ে সাতটায় সিলেট থেকে ঢাকাগামী কালনী এক্সপ্রেস ট্রেন কুলাউড়া স্টেশন ছেড়ে যায়।
তিনি আরো বলেন, অবরোধের কারণে চট্টগ্রামগামী পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেন সকাল সাড়ে ১০টায় ছেড়ে যাবার কথা থাকলেও বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়ার কারণে দুপুর আড়াইটার দিকে কুলাউড়া স্টেশনে পৌঁছে। অন্যদিকে সিলেটগামী পারাবত এক্সপ্রেস ট্রেন কুলাউড়া থেকে সকাল সাড়ে ১১টায় যাবার কথা থাকলেও দুপুর আড়াইটার দিকে সিলেটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন বলেন, আন্দোলনকারীদের বিভিন্ন দাবির বিষয়ে কুলাউড়ায় রেলওয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠকে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। যৌক্তিক দাবির মধ্যে বেশিরভাগ দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেওয়ায় আন্দোলনকারীরা দুপুর ২টার দিকে অবরোধ তুলে নেন। পরে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়। বাকি দাবিগুলো পর্যায়ক্রমে মেনে নেয়া হবে রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানান।
এদিকে শ্রীমঙ্গলে আট দফা দাবিতে পারাবত এক্সপ্রেস ট্রেন আটকে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা সিলেটগামী পারাবত এক্সপ্রেস ট্রেনের সামনে অবস্থান নিয়ে অবরোধ শুরু করেন। কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন শ্রীমঙ্গল ট্রেন অবরোধ কর্মসূচির সমন্বয়ক কাওসার ইকবাল, সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।
জনতার আওয়াজ/আ আ