দুঃশাসনের অভিশাপ পুরুষানুক্রমে বহন করে আসছে বর্তমান অবৈধ সরকার
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শুক্রবার, জুন ৯, ২০২৩ ১:০১ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শুক্রবার, জুন ৯, ২০২৩ ১:০১ অপরাহ্ণ

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক গতকাল নিশিরাতের জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছেন,“আগামী নির্বাচনের আগে হয়রানিমূলক মামলা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।” তার এই কথায় প্রমাণিত হলো, গত ১৫ বছর যাবত সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে বিএনপি নেতাকর্মীসহ বিরোধী মত ও সরকারের রোষানলে পড়া বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের নামে মামলা সম্পূর্ণভাবে ডাহা মিথ্যা ও হয়রানীমূলক, শুধুমাত্র শারীরিক ও মানসিকভাবে নিপীড়ণ করার জন্য। শুধুমাত্র ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখার জন্যই রাষ্ট্রশক্তিকে ব্যবহার করে গণতন্ত্রকামী মানুষের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা, গায়েবী মামলা, হামলা, অত্যাচার, উৎপীড়ন, খুন, গুম, লুণ্ঠন, দুঃশাসন চালিয়ে আসছে অবৈধ সরকার। একদলীয় দুঃশাসনের অভিশাপ পুরুষানুক্রমে বহন করে আসছে বর্তমান অবৈধ সরকার।
জবরদস্তিমূলক ক্ষমতা ধরে রেখে অবৈধ আওয়ামী শাসকগোষ্ঠী গত ১৫ বছরে দেড় লাখ হয়রানীমুলক মিথ্যা ও গায়েবী মামলায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং দেশনায়ক তারেক রহমানসহ প্রায় ৫০ লাখ নেতাকর্মীকে আসামী করা হয়েছে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে এবং গায়ের জোরে যে মামলাটিতে সাজা দেয়া হয়েছে তাতে তাঁর বিন্দুমাত্র সম্পৃক্ততা ছিল না। দেশনায়ক তারেক রহমানের বিরুদ্ধে এই সরকারের আমলে বিচারের রায় ছিল ফরমায়েসী ও আক্রোশমূলক। এখন তাঁর বিরুদ্ধে একটি মামলায় প্রতিদিন কোর্ট বসানো হচ্ছে, দিনে নয় রাতেও কোর্ট বসানো হচ্ছে-যা বিশে^র ইতিহাসে নজীরবিহীন। গণতন্ত্র-ভোটাধিকারের দাবীতে আন্দোলনের অপরাধে হাজার হাজার নেতাকর্মীকে এখনো কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। হয়রানীমুলক মিথ্যা মামলা দিয়ে বাড়ীঘর ছাড়া করা হয়েছে, বাড়ী ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হচ্ছে। বিএনপির সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে গায়েবি মামলা দায়ের, পাইকারিহারে গ্রেফতার ও রিমান্ডে নির্যাতন চালিয়ে দেশটাকে নরকে পরিণত করেছে আওয়ামী নিপীড়ক সরকার।
অবৈধ ক্ষমতা কন্টকমুক্ত করতে শেখ হাসিনা হাজার হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা এবং কমপক্ষে ১২০৪ জনকে গুম করেছে। তার প্রাইভেট বাহিনী, দলদাস আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে ১২ হাজারের বেশী নেতাকর্মীকে গুরুতর জখম ও চিরতরে পঙ্গু করে দিয়েছে। ছয় বছরের শিশু থেকে মায়ের পেটের বাচ্চাকেও গুলি করা হয়েছে। মৃত ব্যক্তি, কোলের বাচ্চা, বিদেশে অবস্থানকারী মানুষ, জেলখানায় থাকা লোককে নাশকতা, ককটেল বিস্ফোরণ, সরকারি কাজে বাধা দেয়া ইত্যাদি গায়েবী অভিযোগে মিথ্যা মামলা দিয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়ে তোলা হয়েছে। তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত কেউই এই গায়েবী মামলা ও সরকারী নির্যাতন-নিপীড়ণ থেকে রেহাই পায়নি। আজ এতদিন পরে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের স্বীকারোক্তিতে দালিলিক সত্যতা নিশ্চিত হলো যে, আইন আদালত, পুলিশসহ আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী, সিভিল প্রশাসন,নির্বাচন কমিশন- সব গিলে খেয়েছে নিশিরাতের সরকার।
সুপ্রিয় সাংবাদিক ভাই বোন বন্ধুরা,
জনবিচ্ছিন্ন ভোটারবিহিন ব্যর্থ সরকার অস্থির উদ্ভ্রান্ত বেপরোয়া হয়ে গেছে। শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলন দেখলেই তা ছিন্নভিন্ন করার জন্য হামলে পড়ছে শেখ হাসিনার দমন বাহিনী। নেতাকর্মীদের হত্যা নির্যাতন গ্রেফতার, দমন-নিপীড়ণ-সাঁড়াশি আক্রমণ করছে। আপনারা দেখেছেন, অসহনীয় লোডশেডিং ও বিদ্যুৎখাতে ব্যাপক দুর্নীতির প্রতিবাদে সারাদেশে বিদ্যুৎ অফিসের সামনে বিএনপির অবস্থান ও বিক্ষোভ মিছিলে কিভাবে বর্বরোচিত কায়দায় হামলা করেছে পুলিশ এবং আওয়ামী লীগের সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনী। তীব্র গরম এবং লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনগণের ওপর পাবনায় পুলিশের নেতৃত্বে নারকীয় হামলা করেছে যুবলীগ-ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা।
তাদের হামলায় জেলা বিএনপির আহবায়ক ও বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, জেলার সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক আব্দুস সামাদ খান মন্টুসহ প্রায় অর্ধশত নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। ক্ষমতাসীন দলের দাগি সন্ত্রাসী পাবনা জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম সোহেলের নেতৃত্বে যুবলীগ-ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীরা ট্রাফিক মোড়ে অবস্থান নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা সমাবেশ শেষে ফেরার পথে লতিফ টাওয়ারের সামনে এলে তার উন্মত্তের মতো পৈশাচিক হামলা চালায়। পাবনা সদর থানা ওসি কৃপা সিন্ধুবালা, ওসি তদন্ত শহিদুল ইসলাম শহীদ, পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য রফিকুল ইসলাম রুমন, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সীমান্ত এই নারকীয় হামলার সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত।
ফেনীতে অবস্থান কর্মসূচিতে গোয়েন্দা পুলিশের ওসি সদীপ কুমার দাস এর নেতৃত্বে বর্বরোচিত হামলা ও লাঠিচার্জে জেলা যুবদলের সভাপতি জাকের হোসেন জসিম, জেলা কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক সামসুদ্দিন খোকন চেয়ারম্যান, ফেনী পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম-আহবায়ক শরিফুল ইসলাম রানা, পাঁছগাছিয়া ইউনিয়ন যুবদল কর্মী গিয়াস উদ্দিন ও আবুল কালামসহ অনেক নেতাকর্মী মারাত্মকভাবে আহত হয়।
ফরিদপুরে বিদ্যুৎ ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে শেখ হাসিনার পেটোয়া বাহিনী বাধা দিয়েছে। ঢাকা জেলা বিএনপি’র একটি শান্তিপূর্ণ বিশাল মিছিল নয়াপল্টন এলাকা থেকে মতিঝিলে ওয়াপদা ভবনে স্মারকলিপি দিতে যাওয়ার সময় পুলিশ বাধা দেয়। আমাদের কয়েকজন নেতাকর্মীকে পুলিশ আটক করেছে। নটরডেম কলেজের সামনে পুলিশের এই মারমুখী উন্মত্ত আচরণে আমরা বিস্মিত হয়েছি। বিদ্যুৎ সংকটের মতো গোটা দেশের সকল মানুষের ভয়াবহ সমস্যা নিয়ে আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচী যারা বাধাগ্রস্ত করেছে তারা লুটেরা সরকারের দোসর হিসাবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
বন্ধুরা,
পুলিশ, প্রশাসন, আইন আদালত বর্তমান স্বৈরশাসনের প্রধান বীজানুকেন্দ্র। গণতন্ত্রকামী মানুষের অধিকার আদায়ে ব্যাপক আলোড়নকে দমানোর জন্য হাতিয়ার হিসেবে তাদেরকে ব্যবহার করা হচ্ছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়-শেখ হাসিনা জোর করে জনগণের আনুগত্য পেতে চান। তবে বন্ধুরা, এই কর্তৃত্ববাদী একদলীয় ব্যবস্থা বাংলাদেশের অনুকুল সামাজিক ও মানবিক পরিবেশের মূল থেকে উৎসারিত নয় বলেই এটি কখনোই টিকে থাকবে না, থাকতে পারে না। এটির ধ্বংস অনিবার্য। জনকল্লোলে কুলভাঙ্গা আন্দোলনের বন্যায় আওয়ামী কর্তৃত্ববাদের সমাধি রচিত হবেই।
সারাদেশে বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে বিএনপি’র কেন্দ্র ঘোষিত শান্তিপূর্ণ অবস্থান ধর্মঘট কর্মসূচি পালন করার সময় গতকাল দেশের যেসব অঞ্চলে আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীদের হামলায় যারা আহত হয়েছেন তারা হলেন-
১. হাবিবুর রহমান হাবিব
আহবায়ক-জেলা বিএনপি
২. ইয়ামিন খান
আহবায়ক-জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল
৩. আসাদুজ্জামান আসিফ
সদস্য-জেলা বিএনপি
৪.সাজ্জাদ হোসেন স্বপন
সদস্য-জেলা বিএনপি
৫. শরিফুল ইসলাম মুন
সাবেক কমিশনার ৫ নং ওয়ার্ড
পাবনা পৌর সভা ও পাবনা পৌর বিএনপি নেতা
৬. হাক্কি মন্ডল
যুগ্ম আহবায়ক-ঈশ্বরদী উপজেলা বিএনপি
৭ শাহিন
সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক-
পাবনা জেলা যুবদল
৮.নাজমুল-ছাত্রদল জেলা সদস্য
৯. নাঈম-ছাত্রদল জেলা সদস্য
১০. রাকিব-ছাত্রদল জেলা সদস্য
১১. আক্তার হোসেন মিল্টন
প্রচার সম্পাদক-৫ নং ওয়ার্ড বিএনপি, পাবনা পৌরসভা
এছাড়াও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের নিষ্ঠুর হামলায় বিএনপি সমর্থক ও পথচারীসহ প্রায় ৩০ জনের অধিক মানুষ আহত হয়েছেন।
ঢাকা জেলায় ২ জনসহ পটুয়াখালী জেলায় যুবদল কর্মী মোকসেদুল ও মহসীনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
আমি বিএনপি’র কর্মসূচিতে হামলাকারী চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর আহবান জানাচ্ছি। গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মীদের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি ও আহত নেতাকর্মীদের আশু সুস্থতা কামনা করছি।
তারিখ : ৯ জুন ২০২৩
সারাদেশের গ্রেফতার, হামলা ও মামলার তালিকা ঃ
গতকাল ৮ জুন দেশে অসহনীয় লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ খাতে ব্যাপক দুর্নীতির প্রতিবাদে সারাদেশে সকল জেলা শহরের বিদ্যুৎ অফিসে অবস্থান কর্মসূচি পালনকালে ৩২ জন সহ অসংখ্য নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে।
গত ১৯ মে ২০২৩ তারিখ হতে অদ্যবধি পর্যন্ত বিএনপি’র কেন্দ্র ঘোষিত জনসমাবেশকে কেন্দ্র করে সারাদেশের প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী ঃ-
মোট মামলা : ১৭১ টি
মোঃ গ্রেফতার : ৮০২ জনে অধিক নেতাকর্মী
মোট আসামী : প্রায় ৬৯১৫ এর অধিক নেতাকর্মী
আহত হয়েছে : অসংখ্য নেতাকর্মী।
সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,
কর্মসূচি —
অসহনীয় লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ খাতে ব্যাপক দুর্নীতির প্রতিবাদে আগামী ১৩ জুন ২০২৩, মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণসহ সারাদেশের মহানগরগুলোতে এবং ১৬ জুন ২০২৩, শুক্রবার কেবলমাত্র ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি’র উদ্যোগে শান্তিপূর্ণভাবে ‘পদযাত্রা’ কর্মসূচি পালিত হবে।
আমি এখন ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি’র উদ্যোগে অনুষ্ঠিতব্য ‘পদযাত্রা’ কর্মসূচির রুট ঘোষণা করছি।
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি—
আগামী ১৩ জুন ২০২৩, মঙ্গলবার বেলা ২-৩০ মিনিটে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি’র উদ্যোগে মহাখালী বাসষ্ট্যান্ড থেকে শুরু করে নাবিস্কো সাতরাস্তা মোড়, হাতিরঝিল মোড় ও এফডিসি হয়ে হোটেল সোনারগাঁও সার্ক ফোয়ারা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ ‘পদযাত্রা’ অনুষ্ঠিত হবে।
আগামী ১৬ জুন ২০২৩, শুক্রবার বেলা ২-৩০ মিনিটে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি’র উদ্যোগে পল্লবী সিটি ক্লাব থেকে শুরু করে ১০ নং গোলচত্ত্বর, কাজীপাড়া ও শেওড়াপাড়া হয়ে তালতলা আগারগাঁও পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ ‘পদযাত্রা’ অনুষ্ঠিত হবে।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি—
আগামী ১৩ জুন ২০২৩, মঙ্গলবার বেলা ২-৩০ মিনিটে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি’র উদ্যোগে গোপীবাগস্থ সাদেক হোসেন খোকা রোড থেকে শুরু হয়ে রায় সাহেব চৌরাস্তা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ ‘পদযাত্রা’ অনুষ্ঠিত হবে।
আগামী ১৬ জুন ২০২৩, শুক্রবার বেলা ২-৩০ মিনিটে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি’র উদ্যোগে আজিমপুরস্থ স্যার সলিমুল্লাহ এতিমখানার সামনে থেকে শুরু হয়ে আরমানী টোলা মাঠ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ ‘পদযাত্রা’ অনুষ্ঠিত হবে।
উল্লিখিত পদযাত্রা কর্মসূচি সফল করতে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীকে অনুরোধ করা হলো।
জনতার আওয়াজ/আ আ