দুর্নীতির টুঁটি চেপে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি: সংসদে প্রধানমন্ত্রী - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ২:৪৩, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

দুর্নীতির টুঁটি চেপে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২, ২০২৬ ২:৫৫ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২, ২০২৬ ২:৫৫ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান জানিয়েছেন, দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়ে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এ কারণে জনগণের অর্থ বিদেশে পাচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি পাচার হওয়া সম্পদ দেশে ফিরিয়ে আনা বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের অন্যতম সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

বুধবার (১ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের পঞ্চম দিনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

এ দিন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে প্রথমবার ৩০ মিনিটের প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।

এ সময় সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি দুর্নীতি দমন, অর্থ পাচার রোধ, নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি। জনগণের অর্থ যেখানেই পাচার হোক না কেন, তা ফিরিয়ে এনে দেশের কল্যাণে ব্যয় করা হবে।’

সরকারের অগ্রাধিকার: পাচারকৃত সম্পদ ফিরিয়ে আনা
সংসদে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানান, বর্তমান সরকার দুর্নীতি ও বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে। অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে আনুমানিক ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে, যা বছরে গড়ে সাড়ে ১৬ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকার সমান।

প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, পাচার হওয়া অর্থ বিভিন্ন দেশে স্থানান্তরিত হওয়ায় তা উদ্ধার করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা হয়েছে। এ জন্য যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, হংকংসহ ১০টি দেশকে অগ্রাধিকার তালিকায় রাখা হয়েছে। এর মধ্যে মালয়েশিয়া, হংকং ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে সম্মতি মিলেছে।

১১ মামলায় অর্থ উদ্ধারে আইনি প্রক্রিয়া
তারেক রহমান জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের নেতৃত্বে গঠিত আন্তসংস্থা টাস্কফোর্স ১১টি অগ্রাধিকারভুক্ত মামলায় পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারের আইনি প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে। এসব মামলার মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার পরিবারসহ কয়েকটি বড় ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। এসব মামলার তদন্তে দুর্নীতি দমন কমিশনের নেতৃত্বে পুলিশের সিআইডি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের গোয়েন্দা ইউনিটসহ বিভিন্ন সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, আদালতের নির্দেশে দেশে ৫৭ হাজার ১৬৮ কোটি টাকার এবং বিদেশে ১৩ হাজার ২৭৮ কোটি টাকার সম্পদ ক্রোক বা অবরুদ্ধ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৭০ হাজার ৪৪৬ কোটি টাকার সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে পাচার করা অর্থ পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ১৪১টি মামলা দায়ের হয়েছে, যার মধ্যে ১৫টির চার্জশিট দেওয়া হয়েছে এবং ছয়টির রায় হয়েছে।

ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কর্মসূচি
প্রশ্নোত্তর পর্বে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির অংশ হিসেবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির অগ্রগতিও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী চার বছরের মধ্যে দেশব্যাপী চার কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে। এই কার্ড পরিবারের নারীপ্রধানের নামে দেওয়া হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতে পরিবারে নারীর আর্থিক ক্ষমতায়ন বাড়বে এবং সহায়তার অর্থ শিশুদের খাদ্য, পুষ্টি, শিক্ষা ও চিকিৎসায় ব্যয় হবে। ইতোমধ্যে দেশের ১৩টি জেলার ১৫টি ওয়ার্ডে পরীক্ষামূলকভাবে ৩৭ হাজার ৮১৪টি নারীপ্রধান পরিবারকে এ কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে।

তিনি বলেন, সংবিধানের ১৫ (ঘ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নাগরিকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সেই সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে আধুনিক ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে একটি বৈষম্যহীন ও মানবিক কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ে তোলার গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। চলতি অর্থবছরে আগামী তিন মাসের মধ্যেই আরও ৩০ হাজার পরিবারকে এই কর্মসূচির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এ ছাড়া দেশে ৯৫টির বেশি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে কৃষি খাতে প্রায় ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষককে পর্যায়ক্রমে ‘কৃষক কার্ড’ দেওয়া হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের জন্য সরকারি ভর্তুকি, প্রণোদনা ও অন্য সহায়তা সহজে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। তিনি আরও জানান, শস্য, ফসল, পশুপালন ও মৎস্য খাতে কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে।

মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা নেই
কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ডের কারণে দেশে কোনো ধরনের মূল্যস্ফীতি হবে না বলে জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার মতে, এসব কার্ডের জন্য দেশের অর্থনীতি আরও সচল হবে। অধিবেশনে সংসদ সদস্য আকতার হোসেনের এক সম্পূরক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা টাকা ছাপিয়ে দিচ্ছি না। বরং এই অর্থ স্থানীয় অর্থনীতিতে ব্যয় হবে। ফলে স্থানীয় বাজারে অর্থের প্রবাহ বাড়বে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। আমরা মনে করি, এই টাকাগুলো যখন মার্কেটে যাবে, যারা টাকা পাবেন তারা নিশ্চয়ই সিঙ্গাপুর বা বিভিন্ন দেশে পাচার করবেন না। সেই টাকা লোকাল অর্থনীতিতে তারা খরচ করবেন।’

উদাহরণ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, একজন নারী কার্ডের টাকা দিয়ে স্থানীয় বাজার থেকে প্রয়োজনীয় পণ্য কিনলে ছোট ব্যবসায়ী ও দোকানদারদের বিক্রি বাড়বে, যার ফলে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে।

নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে কর্মপরিকল্পনা
প্রধানমন্ত্রী সংসদকে জানান, ইশতেহারে ঘোষিত নির্বাচনি ইশতেহারের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগ থেকে খাতভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য মোছা. তাহসিনা রুশদীর এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ তথ্য জানান।

তারেক রহমান জানান, আগামী ১৮০ দিন, আগামী অর্থবছর এবং আগামী পাঁচ বছরের পরিকল্পনা অনুযায়ী মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো খাতভিত্তিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে। সেই লক্ষ্যে সরকারের স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার অগ্রগতিও প্রধানমন্ত্রী সংসদে তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, সামাজিক সুরক্ষা, কৃষি উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা ডিজিটালাইজেশন, শিক্ষা প্রযুক্তিকরণ এবং পরিবেশ সংরক্ষণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

ধর্মীয় নেতাদের জন্য সম্মানী ভাতা চালুর বিষয়েও সংসদকে অবহিত করেন তিনি। জানান, পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগেই ৯ হাজার ১০২ জন ধর্মীয় ব্যক্তির ব্যাংক হিসাবে সম্মানী ভাতা পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ইমাম, মুয়াজ্জিন, মসজিদের খাদেম ছাড়াও হিন্দু মন্দিরের পুরোহিত ও সেবাইত এবং বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষরা রয়েছেন।

স্বাস্থ্যসেবায় ডিজিটাল সুবিধা বাড়াতে খুলনা জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে ২৫ লাখ ‘ই-হেলথ কার্ড’ প্রদানের একটি প্রকল্প অনুমোদনের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। একই সঙ্গে চলতি অর্থবছরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই লাখ শিক্ষার্থীর মাঝে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া খেলাধুলা উন্নয়নে সারা দেশে খেলার মাঠ সংরক্ষণ ও অবকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জনকারী ক্রীড়াবিদদের জন্য ‘ক্রীড়া ভাতা’ চালু করা হয়েছে বলে সংসদকে জানান প্রধানমন্ত্রী।

কুড়িগ্রামে ভুটানিজ অর্থনৈতিক অঞ্চল
প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নের বিষয়েও কথা বলেন। তিনি জানান, কুড়িগ্রামে ‘ভুটানিজ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল’ প্রতিষ্ঠার কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য আতিকুর রহমান মোজাহিদের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ তথ্য জানান। সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) ভিত্তিতে বাংলাদেশ ও ভুটানের যৌথ উদ্যোগে এ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতির কাজ শুরু হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগিয়েল ওয়াংচুক ২০২৩ সালে লন্ডনে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে এ ধরনের অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনে আগ্রহ প্রকাশ করলে বাংলাদেশ ও ভুটান সরকারের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। পরে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার মাধবরাম মৌজায় অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের উদ্যোগ নেয়। বর্তমানে প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ এবং যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। সরকার আশা করছে, এই অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠিত হলে কুড়িগ্রামসহ উত্তরাঞ্চলে শিল্পায়ন ত্বরান্বিত হবে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

প্রশ্নোত্তর পর্বের শেষ দিকে পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ বি এম মোশাররফ হোসেনের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেটের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সরকার প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ করছে। স্পিকার এবং সংসদ সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিশ্বাস করে, জনগণই সব রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস। জনগণ আমাদের ওপর যে আস্থা রেখেছে, আমরা সেই আস্থার মর্যাদা দিতে চাই।’

প্রধানমন্ত্রী জানান, নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মাধ্যমে ধাপে ধাপে সব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে এবং দেশের উন্নয়ন ও কল্যাণে জনগণের প্রতিটি প্রত্যাশা পূরণে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাবে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ