দেখা যাক কতজনের রক্তের উপর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী আবারো ক্ষমতায় যায় - জনতার আওয়াজ
  • আজ বিকাল ৫:৪৮, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

দেখা যাক কতজনের রক্তের উপর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী আবারো ক্ষমতায় যায়

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: মঙ্গলবার, নভেম্বর ২৮, ২০২৩ ৩:৪৫ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: মঙ্গলবার, নভেম্বর ২৮, ২০২৩ ৩:৪৫ অপরাহ্ণ

 

নিউজ ডেস্ক
দে‌শের জনগ‌নের উদ্দেশ্যে বিএন‌পির স্থায়ী ক‌মি‌টির সদস‌্য বেগম সে‌লিমা রহমান ব‌লেন, জনগণকে বলব আপনারা এগিয়ে আসুন। আমরা কিন্তু আপনাদের জন্য লড়াই করছি। আপনারাও রাজপথে এগিয়ে আসুন। দেখা যাক, কতজনের রক্তের উপর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী আবারো ক্ষমতায় যেতে পারে।

মঙ্গলবার (২৮ ন‌ভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘রাজবন্দীদের স্বজন’ এদের আয়োজনে, গায়েবী মামলায় কারাবন্দি বিরোধী দলসমূহের নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে প্রধান বিচারপতি বরাবর স্মারকলিপি পেশ শীর্ষক সমাবেশে তি‌নি এসব কথা ব‌লেন।

সেলিমা রহমান বলেন, একটা ফ্যাসিস্ট সরকার কিভাবে দানবীয় নারকীয় তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছে। এই সরকার তার ক্ষমতাকে টিকিয়ে রাখার জন্য দেশের জনগণের উপর নারকীয় তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছে। এই সরকার শাহজাহান ওমরকে বিএনএমএ/কিংস পার্টির সহ আরো কি কি দলে যোগ দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করছে। সাধারণ জনগণকে বলব, আপনারা এগিয়ে আসুন আমরা কিন্তু আপনাদের জন্য লড়াই করছি। আপনারাও রাজপথে এগিয়ে আসুন, দেখা যাক কতজনের রক্তের উপর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী আবারো ক্ষমতায় যেতে পারে।

তি‌নি ব‌লেন, এদেশে সুশাসন ফিরিয়ে আনার জন্য লড়াই অব্যাহত রাখতে হবে। দেশের মানুষ বর্তমানে এক অসহনীয় পরিস্থিতিতে আছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায় এই সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করা এবং নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন আদায় করা।

নাগ‌রিক ঐক‌্যর সভাপ‌তি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, পুলিশ যাকে গ্রেফতার করতে যায় তাকে না পেলে তার স্বজনদের ধরে নিয়ে যায়। এরা মানুষের কষ্টে আনন্দ পায়। এই দেশের ক্ষমতায় যারা বসে আছেন তারা পাষান, তাদের হৃদয় পাথর। আপনারা প্রধান বিচারপতির কাছে স্মারকলিপি দিবেন, উনার কিছু করবার আছে বলে মনে হয় না। হাজার হাজার নেতাকর্মী গ্রেফতার আছে তাদের স্বজনরা একযোগে রাস্তায় আসলেই তো হয়ে যায়। এই নির্বাচন নির্বাচন নয়, এটা জনগণকে নির্বাসনে পাঠানো। চলুন আমরা সবাই সম্মিলিতভাবে লড়াই করি দৃঢ় চিত্তে বিজয় ছিনিয়ে আনি।

গণসংহ‌তি আন্দোল‌নের প্রধান সমন্বয়ক জুনায়েদ সাকি বলেন, অন্যায়ভাবে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে কারাগারে বন্দি আছে তাদের স্বজনরা। ২৮ তারিখের সমাবেশে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে সহিংসতা সৃষ্টি করা হয়েছে। পুলিশ কাস্টুরিতে গ্রেফতারকৃতদের নির্যাতন করা হচ্ছে। নিম্ন আদালত কারো জামিন দিচ্ছেন না। মাননীয় প্রধান বিচারপতি স্বৈরাচারী সামরিক শাসন দেখেছেন। আমরা আপনার কাছে বলতে চাই, আদালত একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, জনগণের শেষ ভরসা। আপনি বিচারপতিদের নির্দেশ দেন তারা যেন ন্যায়বিচার করে। দমন-পীড়ণ করে এই সরকার একটা একতরফা নির্বাচন করতে চাইছে। আপনার আদালতে যদি ন্যায় বিচার না হয়, তাহলে জনগণের আদালতের বিচারে আপনারা কেউ পার পাবেন না। কতিপয় পুলিশ কর্মকর্তারা পুরোবাহিনীকে দলীয় বাহিনীতে পরিণত করছে। কতিপয়রা হুশিয়ার হয়ে যান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর আ ফ ম ইউসুফ হায়দার বলেন, সরকারকে বলবো এই নির্যাতিত পরিবারের কথা শুনুন। আমার অনুরোধ এবং দাবি এই মিথ্যা মামলায় যাদেরকে জড়িয়ে রেখেছেন অতিসত্বর তাদেরকে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেন। এটা সরকার না, এটা মাফিয়াদের সিন্ডিকেট।

গণ অধিকার প‌রিষ‌দের সভাপ‌তি নুরুল হক নূর বলেন, আমার ছোট্ট শিশুটিও পুলিশের আচরণ দেখেছে এখন পুলিশ দেখলেই ভয় পায়। শেখ হাসিনা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য অভিশপ্ত বাংলাদেশ তৈরি করছে। পুলিশ যে আচরণ করছে এদের বিচার হবে। বিচারপতিদের বলি, এই সরকারের অবৈধ আদশ পালন করে জনগণের রোশনালে পড়বেন না। আরেকটু ধাক্কা দিলেই এই সরকার পড়ে যাবে। আমাদেরকে আরো কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে। দেশটাকে এই সরকার এতিম প্রজন্ম বানিয়েছে।

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, সাজানো ফরমায়েসি মামলায় গ্রেফতারকৃতদের স্বজনরা মানবিক দাবি নিয়ে এখানে এসেছেন। কোন সুস্থ মানুষের পক্ষে এটা মেনে নেওয়া সম্ভব না। ২৮ শে অক্টোবরের পর থেকে দেশে মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। ফিলিস্তিনের গাজার পরিবর্তে বাংলাদেশে এখন অমানবিক বিপর্যয় তৈরি করেছে সরকার। পুলিশ যেভাবে কোন কারন ছাড়াই গ্রেফতার করছেন, তাতে মনে হয় পুলিশ সরকারের অঙ্গ সংগঠন। বিচার ব্যবস্থা তো আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠন না। তাহলে সেভাবে আপনারা বিচার কার্য পরিচালনা করেন কোনো পক্ষপাতিত্ব ছাড়া। এই সরকার ঘরে ঘরে যুদ্ধ লাগিয়ে দিতে চাচ্ছে। গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে এই সরকার। পুলিশ ভাইদের বলি আপনারা সরকারের অঙ্গসংগঠনের মত ব্যবহার করবেন না। পুলিশ ত্রাস বন্ধ করার জন্য আপনারা হাইকোর্টের রুল জারি করতে পারে।

সভাপতির বক্তব‌্য জাতীয়তাবা‌দি ম‌হিলা দ‌লের সভাপ‌তি আফরোজা আব্বাস বলেন, খালেদা জিয়াকে একটা মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে তিল তিল করে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আমার বাড়িতে এসে তাকে গ্রেফতার করার সময় আধা ঘন্টা ভরে পিটিয়েছে। ছাত্রলীগ যুবলীগের ছেলেরা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকেও হার মানিয়েছে। স্বাধীন দেশে ভোটের অধিকার চাইতে যাওয়াই কি অপরাধ। এই লড়াই একার লড়াই না লড়াই সমস্ত দেশের মানুষের লড়াই। দেশের গণতন্ত্রকে উদ্ধার করতে হলে সম্মিলিতভাবে লড়াই অব্যাহত রাখতে হবে।

সমাবেশকারীরা সমাবেশ শেষে তাদের দাবির প্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি মহোদয়ের কাছে স্মারকলিপি দিতে যান।

জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাসের সভাপ‌তি‌ত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন, সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের সদস্য সচিব কাদের গনি চৌধুরী, জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, ইউট্যাব সভাপতি প্রফেসর এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের সাবেক আহ্বায়ক রুহুল আমিন গাজী, বিএনপি নেত্রী আসিফা আশরাফী পাপিয়া, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি কবি আব্দুল হাই শিকদার, সাংবাদিক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, সাদা দলের সভাপতি প্রফেসর লুৎফর রহমান, জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহিদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়ক এডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম।

সমাবেশে আগত বিএনপি’র কারাবন্দি নেতাকর্মীর স্বজনদের ম‌ধ্যে উপ‌স্থিত ছি‌লেন, যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি সাইফুল আলম নিরব এর স্ত্রী মাহাবুবা খানম, ঢাকা মহানগর বিএনপি নেতা মনিরুজ্জামান মনির এর স্ত্রী শায়লা জামান, ২৯ নাম্বার ওয়ার্ড আবুল বাশারের স্ত্রী, পল্টন যুবদলের নেতা রাজিব ও লিয়ন দুই ভাইয়ের পক্ষে তাদের বোন আফরোজা পারভিন জবা, বীর মুক্তিযোদ্ধা বিএনপির নেতা ইদ্রিস আলীর স্ত্রী শিউলি বেগম, বিএনপির নেতা ইউনুস মৃধার কন্যা আনিকা, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান, নোয়াখালীতে বারবার নির্বাচিত, সাবেক সংসদ সদস্য, মোহাম্মদ শাহজাহান এর স্ত্রী রহিমা শাহজাহান মায়া, বিএনপি চেয়ারপারসনের মাননীয় উপদেষ্টা, সাতক্ষীরার সাবেক এমপি, হাবিবুর রহমান হাবিবের স্ত্রী বেগম শাহানারা মায়া, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতা আমানুল্লাহ আমানের ভাতিজি, বিএনপি নেতা আবুল কালাম এর ছোট ছেলে সিয়াম, যুবদলের নেতা এস এম জাহাঙ্গীরের স্ত্রী রাজিয়া, সাবেক মন্ত্রী সাবেক, সাবেক মেয়র বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আবাসের ছোট বোন সাঈদা মির্জা, কারারুদ্ধ তিন ছেলের বাবা- ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সভাপতি আব্দুল হাই ভূঁইয়া, বিএনপি নেতা কাউছার উদ্দিন এর স্ত্রী মিনু, ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের সেক্রেটারি সাজেদুল হক রনি এর মা, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার এর মেয়ে ব্যারিস্টার রাইসা তাবাসসুম রাব্বি, পিরাজপুরের বিএনপির নেতা ওয়াহিদুজ্জামান লাভলু এর স্ত্রী তামান্না জেশান, মিরপুর থানার বিএনপির নেতা এস এম সাগিরের স্ত্রী, ডাকসুর সাবেক জিএস বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব খাইরুল কবির খোকন এর স্ত্রী শিরিন সুলতানা প্রমুখ।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ