দেশের মানুষের মুক্তি সংগ্রাম করেই আদায় করতে হবে: জোনায়েদ সাকি - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ২:১৭, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

দেশের মানুষের মুক্তি সংগ্রাম করেই আদায় করতে হবে: জোনায়েদ সাকি

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শুক্রবার, মে ২৬, ২০২৩ ৬:১৪ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শুক্রবার, মে ২৬, ২০২৩ ৬:১৪ অপরাহ্ণ

 

দেশের মানুষের মুক্তি সংগ্রাম ও লড়াই করেই আদায় করতে হবে, কেউ বা কোনো বিদেশি শক্তি এসে তা উদ্ধার করবে না বলে মন্তব্য করেছেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকী। তিনি বলেন, চলমান রাজনৈতিক সংকট মোকাবেলায় রাজনৈতিক দলগুলোর একত্রে এসে দাঁড়ানোটা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষত বিএনপি যদি এখানে এসে একসাথে না দাঁড়াতে পারে, তাহলে সবাইকেই ডুবতে হবে। দেশকে আমরা ধ্বংসের মুখে ফেলে দিতে পারি না। সংগ্রামের মধ্য দিয়েই নিজেদের ভবিষ্যতে নির্ধারণ করতে হবে।

শুক্রবার (২৬ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে গণসংহতি আন্দোলন কর্তৃক আয়োজিত’ রাজনৈতিক সংকট ও রাষ্ট্রের গতিপথ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘আমাদের দেশ এবং জনগণ একটি গভীর সংকটে রয়েছে। দেশের ক্ষমতায় এমন একটি সরকার রয়েছে, যারা গদি রক্ষার স্বার্থে দেশকে নিলামে তুলতে চায়। ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য যা যা করেছে তার পরিণতি হচ্ছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের স্যাংশন প্রাপ্তি। দেশে এখন ঠিকঠাক নির্বাচন হয় না, জনগণের অধিকার কেড়ে নেয়া হয়। এর কিন্তু একটা রাজনৈতিক পরিণতি আছে। সরকার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের স্বার্থ অনুযায়ী আর পররাষ্ট্রনীতি তৈরি করছে না। তারা পররাষ্ট্রনীতি তৈরি করছে নিজের গদি রক্ষার জন্যে। ফলে দেশ সার্ভভৌমত্বের দিক থেকে একটা সংকটময় পরিস্থিতিতে পড়ছে। সরকার নিজের দেশের জনগণকে বিভক্ত করে ফেলেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘একটা সরকার যদি রাষ্ট্রকে নিজের দল বানিয়ে ফেলে এবং সে দলে যদি একজন ব্যক্তিই অপরিহার্য হয়ে ওঠে, তাহলে সেটা আর রাষ্ট্র থাকে না। একটা রাষ্ট্রে নানান মতবাদ থাকবে। বিরোধ থাকা সত্বেও রাষ্ট্রকে ঐক্যবদ্ধ রাখা হচ্ছে সরকারের কাজ। এবং সেটা না করতে পারলে জাতিগোষ্ঠী বিভক্ত হতে থাকে। ফলে সৃষ্টি হয় অরাজকতা। এখন দেশ কি নৈরাজ্যের দিকে যাবে, নাকি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বলীয়ান থাকবে, সেটা নির্ভর করছে আমরা বিদ্যমান রাষ্ট্রকাঠামো বদলাতে পারবো কি না। বিদ্যমান রাষ্ট্রকাঠামোই রাজনৈতিক সংকটের জন্ম দিয়েছে। বিদ্যমান রাজনৈতিক সংকট থেকে মুক্তি পেতে হলে এর গতিমুখ বদলাতে হবে।’

বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘আজকের ভোরটা শুরু হয়েছে বিশাল এক নৌকা ডুবি দিয়ে। এবং এই নৌকা ডুবি কয়েকমাস আগে হয়েছে রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে। আমি তখন বলেছিলাম “প্রধানমন্ত্রী বলেছিল মানুষ ভোট চোর ভোট ডাকাতদের ক্ষমা করো না”। রংপুরবাসি প্রধানমন্ত্রীর সেই কথা রেখেছে। প্রধানমন্ত্রীর নৌকার প্রতীককে তারা চার নম্বরে নামিয়ে দিয়েছিল। এবং তিনি প্রায় জামানত হারানোর মতো অবস্থায় গিয়েছিল। গাজীপুরের পরিস্থিতি একটু ভিন্ন তবে এখানেও মানুষের যা পুঞ্জিভূত ক্ষোভ সেটা প্রকাশ পেয়েছে। আজমত উল্লা নিশ্চয়ই একজন পরীক্ষিত রাজনৈতিক নেতাকর্মী। কিন্তু আওয়ামী লীগের পাপের বোঝা তিনি আর বহন করতে পারছিলেন না ফলে গাজীপুরের মানুষের, ভোটারের যে পুঞ্জিভূত ক্ষোভ সেটা প্রকাশ পেয়েছে ফলাফলের মাধ্যমে।’

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকির সভাপতিত্বে এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ূম, ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক ফয়জুল হাকিম লালা, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী প্রমুখ।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ