দেশের সকল উন্নয়নের প্রতিবন্ধক, ধ্বংসের কারণ হচ্ছে এই সরকার: দুদু - জনতার আওয়াজ
  • আজ বিকাল ৫:৫৯, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

দেশের সকল উন্নয়নের প্রতিবন্ধক, ধ্বংসের কারণ হচ্ছে এই সরকার: দুদু

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ২৬, ২০২৩ ৩:০৯ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ২৬, ২০২৩ ৩:০৯ অপরাহ্ণ

 

বর্তমান সরকার দেশের সকল উন্নয়নের প্রতিবন্ধক ও ধ্বংসের কারণ মন্তব্য করে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু ব‌লে‌ছেন, ‘এই সরকারকে যদি অপসারণ করা না যায়, তাহলে দেশ একসময় একেবারে ধ্বংস হয়ে যাবে। আমাদের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ফিরে আসবে না।’

বৃহস্পতিবার (২৬ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে আয়োজিত এক মানববন্ধনে তি‌নি এই মন্তব্য করেন।

মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘দেশের সকল উন্নয়নের প্রতিবন্ধক, ধ্বংসের কারণ হচ্ছে এই সরকার। এই সরকারকে যদি অপসরণ করা না যায়, তাহলে দেশ একসময় একেবারে ধ্বংস হয়ে যাবে। আমাদের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ফিরে আসবে না। ৫২ বছর আগে যে দেশ স্বাধীন হয়েছিল, সেই স্বাধীনতা বিলুপ্ত হয়ে যাবে। গণতন্ত্র ইতোমধ্যে বিলুপ্ত হয়ে গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই সরকার প্রতিনিয়ত দাবি করে, তারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে। বিভিন্ন সূচক তারা দেখায়, কী কী ক্ষেত্রে তারা সাফল্য অর্জন করেছে। অথচ জাতিগতভাবে আমরা একটি চোরের জাতিতে রূপান্তরিত হয়েছি। এমন কোনো খাত নেই, যেখানে চুরি হয়নি। ব্যাংক লুটের ক্ষেত্রে আমরা শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘যেসব বেসরকারি ব্যাংক সাফল্যের সঙ্গে প্রতিষ্ঠা হয়েছিল, তার মধ্যে অন্যতম ছিল ইসলামী ব্যাংক। সেটিকে একেবারে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছে। যে ব্যাংক অন্যকে ঋণ দিতো, সেই ব্যাংক এখন বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ঋণ নিচ্ছে।’

গণতন্ত্র লুণ্ঠনের ক্ষেত্রে বর্তমান সরকার শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে মন্তব্য করে ছাত্রদ‌লের সা‌বেক এই সভাপ‌তি বলেন, ‘এখানে তথাকথিত নির্বাচন হয়। যে নির্বাচন সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়ার কথা, সেটি আগের দিন রাত ১২টার মধ্যে শেষ হয়ে যায়। এর মধ্য দিয়ে সংবিধানকে পদদলিত করা হয়েছে, মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। কেউ কোনো কথা বললেই মামলার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। যে মামলার কোনো অস্তিত্ব নেই। বর্তমান সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের পর মামলার ক্ষেত্রে গায়েবি শব্দ এসেছে।’

বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া দলের অহংকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘শুধু দেশ বা দক্ষিণ এশিয়া নয়, সারাবিশ্বে ওনার মতো নেত্রী দ্বিতীয়টি খুঁজে পাওয়া যাবে না। তিনি আপোষহীন নেত্রী। যখন যে কথাটি বলেন, বুঝে শুনে বলেন এবং শেষ পর্যন্ত সেটি প্রতিষ্ঠা করেন। অথচ একটি নিরেট মিথ্যা মামলায় দীর্ঘ চারটি বছর তাকে আটকিয়ে রাখা হয়েছে।’

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাধারণ জীবনের অধিকারী উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘বাবা রাষ্ট্রপতি ও মা প্রধানমন্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও তার ভিতর আমরা কখনো অহংকার দেখিনি। তিনি সব সময় দেশের জন্য কাজ করেছেন। তার অপরাধ হচ্ছে, তিনি গণতন্ত্র, স্বাধীনতার স্বপক্ষের মানুষ। তিনি মানুষের কথা বলেন, মানুষের জন্য লড়াই করেন। এ জন্য তাকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে নির্বাসনে থাকতে বাধ্য করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যারা দেশের অহংকার, তারা হয় জেলে, আর না হয় বিদেশে নির্বাসিত। তাই সকলকে আগামী দিনে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে নেমে আসতে হবে। এছাড়া মুক্তির আর কোনো বিকল্প নেই।’

জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক ফাউন্ডেশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম এ কাদির নোমানের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন- বিএনপির নির্বাহী ক‌মি‌টির সদস‌্য আবু না‌সের মো. রহমাতুল্লাহ, তাঁতী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী মনিরুজ্জামান মনির, কৃষক দলের সহ-সাধারণ সম্পাদক এম জাহাঙ্গীর আলম, জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন করির ব্যাপারী, জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের সদস্য ইসমাইল হোসেন সিরাজী প্রমুখ।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ