দেশে এপ্রিল ও মে মাসের পূর্ণ জ্বালানি সক্ষমতা রয়েছে: প্রতিমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শুক্রবার, এপ্রিল ১৭, ২০২৬ ২:০৩ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শুক্রবার, এপ্রিল ১৭, ২০২৬ ২:০৩ অপরাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি সংগৃহীত
দেশের ইতিহাসে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি জ্বালানি মজুত রয়েছে। এপ্রিল ও মে মাসের জন্য দেশে পূর্ণ মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) চট্টগ্রামে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, এপ্রিল ও মে মাসের জন্য দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে। পাশাপাশি জুন মাসের সম্ভাব্য চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে আরও জ্বালানি মজুত নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক ও নিরবচ্ছিন্ন রাখতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি আরও দাবি করেন, দেশের ইতিহাসে বর্তমানে সর্বোচ্চ জ্বালানি মজুত বিদ্যমান রয়েছে। প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, সরকার বিকল্প উৎস থেকে পরিশোধিত ও অপরিশোধিত জ্বালানি আমদানির উদ্যোগও গ্রহণ করেছে, যাতে সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো ধরনের সংকট তৈরি না হয়।
এ ছাড়া পরিশোধিত জ্বালানি তেল সরবরাহ বাড়ানোর বিষয়েও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে ইস্টার্ন রিফাইনারির প্রয়োজন মেটাতে মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে বিকল্প উৎসে অপরিশোধিত জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে কৃষি ও শিল্প খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম।
এর আগে গত ১৫ এপ্রিল জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী জানিয়েছিলেন, দেশে অকটেন ও পেট্রোলের বর্তমান মজুত অনুযায়ী আগামী দুই মাস পর্যন্ত কোনো ধরনের সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা নেই। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশে ডিজেল মজুত রয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার ৮৫ টন, অকটেন ৩১ হাজার ৮২১ টন, পেট্রোল ১৮ হাজার ২১ টন এবং ফার্নেস ওয়েল ৭৭ হাজার ৫৪৬ টন।
মূলত মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর পর থেকেই দেশে জ্বালানি তেলের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। এ সময় ফিলিং স্টেশনগুলোতে মানুষের ভিড়ও বাড়তে থাকে। বিশেষ করে অকটেন ও পেট্রোলের জন্য দেশজুড়ে তেল নেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরু হওয়ার পর থেকেই জ্বালানি নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মার্চের শুরুতে পেট্রোল ও অকটেনের বিক্রি প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার প্রথমে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করে। পরে কিছুদিন পর সেই রেশনিং তুলে নেওয়া হলেও বর্তমানে বাজারে সরবরাহ গত বছরের বিক্রির প্রবণতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।
জনতার আওয়াজ/আ আ