দ্য নিউইয়র্কস টাইমসের প্রতিবেদন ছাত্র-জনতার বিক্ষোভ দমনে আবারও কারফিউ
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
সোমবার, আগস্ট ৫, ২০২৪ ২:৩৪ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
সোমবার, আগস্ট ৫, ২০২৪ ২:৩৪ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশে পুনরায় কারফিউ জারি করেছে সরকার। এছাড়া মোবাইল ইন্টারনেট সহ সকল প্রকার ইন্টারনেট সেবা সীমিত করা হয়েছে। দেশজুড়ে ছাত্র-জনতার বিক্ষোভে কয়েক ডজন নিহত হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ খবর দিয়েছে অনলাইন দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। এতে বলা হয়, ১৭ কোটি নাগরিকের বাংলাদেশে সম্প্রতি চলমান বিক্ষোভ দমনে সরকারের দমন-পীড়ন নীতির ফলে ছাত্র-জনতার আন্দোলন আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভকারীদের সাথে সংঘর্ষে জড়ানোয় দেশের সার্বিক পরিস্থিতি আরও সহিংস হয়ে উঠেছে।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে সারা দেশে রোববারের নিহতের সংখ্যা ২০ জন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। জুলাই মাসে বিক্ষোভের বিরুদ্ধে সরকারের দমন-পীড়নে নিহত হন দুই শতাধিক ব্যক্তি। যাদের অনেকেই শিক্ষার্থী। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বরাতে গণমাধ্যমটি জানিয়েছে রোববার ৫০ এর বেশি শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। তবে এ খবর স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
কোটা সংস্কারের দাবিতে গত মাসে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে নামেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
শেখ হাসিনার ক্রমবর্ধমান কর্তৃত্ববাদী শাসন এবং তার আমলাদের অর্থনৈতিক অনীয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে ওই আন্দোলন এখন গণঅভ্যুত্থানে পরিণত হয়েছে। আন্দোলন দমনে এপর্যন্ত ১০ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে সরকার। এছাড়া অজ্ঞাতনামা মামলা হয়েছে কয়েক হাজার। মাঝে আন্দোলন কিছুটা শিথিল হলেও গত শুক্রবার থেকে তা আবার উত্তাল হয়ে উঠেছে।
আন্দোলন দমনের নামে সরকারী বাহিনীর মাধ্যমে শিক্ষার্থী এবং জনতাকে নিহত করার প্রতিবাদে শনিবার দেশটির হাজার হাজার ছাত্র-জনতা সমাবেশ করেছে। সেখানে তারা গত ১৫ বছর যাবৎ ক্ষমতায় থাকা হাসিনার পদত্যাগ দাবি করেছে। পদত্যাগের আহ্বানের প্রতিক্রিয়ায় হাসিনা তার দল আওয়ামী লীগের সমর্থকধের প্রতি বিক্ষোভ ঠেকানোর আহ্বান জানান। এতে রোববার ঢাকাসহ গোটা দেশ রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
ছাত্র নেতারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ছাত্র নেতা নাহিদ ইসলাম বলেছেন, যদি ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়, আমাদের গুম করা হয়, গ্রেপ্তার করা হয় বা হত্যা করা হয় এবং আপনাদের যদি ঘোষণা দেওয়ার কেউ না থাকে তারপরেও আপনারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। বিক্ষোভকারী প্রত্যেকে রাস্তায় থাকবেন এবং শান্তিপূর্ণভাবে অসহযোগ আন্দোলন চালিয়ে যাবেন যতক্ষণ না এই সরকারের পতন হয়।
আন্দোলনের তীব্র রূপ প্রকাশের সাথে সাথে হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের নেতারা বেশ বেকায়দায় পড়েছে। অন্যদিকে বিরোধী দলগুলো তাদের সমর্থকদের সংগঠিত করার চেষ্টা করছে। তবে গোটা দেশের চোখ এখন সেনা বাহিনীর ওপর। জুলাই মাসে বিক্ষোভ দমনে সেনা ও অন্যন্য নিরাত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকের-উজ-জামান শনিবার তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এক বৈঠক করেছিলেন এবং সেনাবাহিনীর অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি সংকট নিরসনে তাদের কাজ করার আহ্বান জানান। সেনাপ্রধান বলেন, সেনাবাহিনী সবসময় দেশের জনগণের পাশে ছিল এবং থাকবে।
জনতার আওয়াজ/আ আ