দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণের দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের মানববন্ধন
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শুক্রবার, মে ১৭, ২০২৪ ২:৫৪ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শুক্রবার, মে ১৭, ২০২৪ ২:৫৪ অপরাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
সরকারী চাকুরীজীবিরা রেশনিং ব্যবস্থা, বাসস্থানসহ অনেক ধরনের সুযোগ সুবিধা পান। কিন্তু দেশের অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি তৈরী পোশাক শিল্পের শ্রমিকরা এমন অনেক কিছু থেকে বঞ্চিত। তাই এই শিল্পের শ্রমিকদের বাঁচার মতো মজুরী সহ মর্যাদাপূর্ন জীবন মানের কথা বিবেচনা করে শ্রমিকদের জন্য অনতিবিলম্বে রেশনিং ব্যবস্থা নিশ্চিত ও দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সরকারের নিকট জোর দাবী জানিয়েছে আরএমজি ওয়ার্কার্স ফোরাম নামের একটি শ্রমিক সংগঠন।
শুক্রবার (১৭ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে রেশনিং ব্যবস্থা নিশ্চিত ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ করার দাবিতে আরএমজি ওয়ার্কার্স ফোরামের উদ্যোগে এ মানববন্ধন ও সমাবেশ আয়োজন করা হয়।
সমাবেশে শ্রমিক নেতা আরএমজি ওয়ার্কার্স ফোরামের সভাপতি বিলকিস বেগম বলেন, তৈরী পোশাক শিল্পের শ্রমিকগণ দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধির কারনে পুষ্টিকর খাবার, সন্তানের সু-শিক্ষা ও চিকিৎসা সহ অন্যান্য মৌলিক চাহিদা মেটাতে পারছেনা। তাদের বাঁচার মত মজুরী, রেশনিং ব্যবস্থা নিশ্চিত ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ করার দাবি জানাচ্ছি।
শ্রমিক নেতা বিলকিস বেগম বলেন, সম্প্রতি বাংলাদেশ ইন্সস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিস (বিলস) এর গবেষনায় ঢাকা এবং চট্টগ্রামের ৪৫৭ জন পোশাক শিল্পের শ্রমিক, ৬ জন মালিক, ৫ জন ম্যানেজার ও ৫ জন সুপারভাইজার এবং বিভিন্ন এনজিও প্রতিষ্ঠান গুলির সাথে আলোচনা সাপেক্ষে জীবন যাত্রার মান যেমন বাড়ি ভাড়া, খাবার খরচ, চিকিৎসার খরচ ও অন্যান্য নিত্য নৈমিত্তিক প্রয়োজনীয় খরচের দিকটি বিবেচনায় রেখে এ সিদ্ধান্ত উপনীত হন যে, শ্রমিকদের নূন্যতম মজুরী ২৩,০০০/- টাকা দিতে হবে কিন্তু মজুরী বোর্ড তা করে নাই।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে তৈরি পোশাক শিল্প শ্রমিকদের অবদান অনস্বীকার্য। আরএমজি ওয়ার্কার্স ফোরাম ২০১৮ সাল থেকে পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে আসছে। আরএমজি ওয়ার্কার্স ফোরাম বাংলাদেশে ১০০টিরও বেশী কারখানার শ্রমিক প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত এবং যার মধ্যে প্রায় ৭৪টি কারখানার ইউনিয়ন প্রতিনিধি রয়েছেন।
আরএমজি ওয়ার্কার্স ফোরামের সাধারণ সম্পাদক উর্মি আক্তার বলেন, বর্তমান নিত্য প্রয়োজনীয় পন্যের মূল্যবৃদ্ধির কারনে জীবন যাত্রার মান একেবারেই নিম্নমুখী। এই কয় বছরে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য, বাড়ি ভাড়া, এবং জীবন-যাত্রার ব্যায় বৃদ্ধি পেয়েছে অস্বাভাবিক ভাবে। কিন্তু এ সেক্টরে কাজ করা শ্রমিকদের জন্য বাঁচার মত মজুরী নির্ধারন করা হয়নি।
উর্মি আক্তার বলেন, বর্তমানে একজন ব্যক্তির মাসিক খাবার খরচ বাবদ (যেমন -চাল, ডাল, আলু, তেল, লবন, সবজি ও মসলা) ৫,৩৩৯ টাকা প্রয়োজন। যদি কোনো পরিবার পুরো মাসে একবারও মাছ, গরুর মাংস, খাসির মাংস ও মুরগি না খায় তাহলেও খরচ ৮,১০৬ টাকা। এ খরচের মধ্যে খাবারের সঙ্গে এক কক্ষের ঘরভাড়া, গ্যাস-বিদ্যুত বিল, চিকিৎসা ব্যয়, স্বাস্থ্য সুরক্ষার পণ্য ক্রয়, সন্তানের পড়ালেখার খরচ, যাতায়াত, মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেটের বিল আছে। সাথে গণপরিবহনের ভাড়াও বেড়েছে। ফলে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির কারণে শ্রমিকদের প্রকৃত মজুরি কমে যাচ্ছে, সকল দৈনন্দিন খরচ মিটিয়ে বেঁচে থাকাই দায় হয়ে যাচ্ছে।
সমাবেশ থেকে কিছু দাবী উত্থাপন করা হয়, দাবী গুলো হলো:
১) গামেন্টস শ্রমিকদের রেশনিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
২) বাঁচার মত মজুরী নিশ্চিত করতে হবে।
৩) দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
৪) গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরী পূর্নবিবেচনায় আনতে হবে।
৫) বছর বছর ঘরভাড়া বৃদ্ধি বন্ধ না করে তা শ্রমিক বন্ধব করতে হবে।
৬) প্রতিটি কারখানায় ডে-কেয়ার সেন্টার সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।
৭) সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
৮) শ্রমিকদের বাচ্চাদের সু-শিক্ষার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা করতে হবে।
৯) বায়ারদের ন্যয়সঙ্গত ব্যবসানীতি মেনে ন্যায্য দামে পোশাক কিনতে হবে।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন আরএমজি ওয়ার্কার্স ফোরামের সভাপতি বিলকিস বেগম, সাধারণ সম্পাদক উর্মি আক্তার এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক লিলি বেগম সহ আরএমজি ওয়ার্কার্স ফোরামের অন্যান্য নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন কারখানার ইউনিয়নের শ্রমিক নেতৃবৃন্দ।
জনতার আওয়াজ/আ আ