নড়িয়ায় ককটেল বিস্ফোরনে আহত নুসরাতের টাকার অভাবেচিকিৎসা হচ্ছে না - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১২:০০, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

নড়িয়ায় ককটেল বিস্ফোরনে আহত নুসরাতের টাকার অভাবেচিকিৎসা হচ্ছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শনিবার, জুন ৩, ২০২৩ ৯:০৩ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শনিবার, জুন ৩, ২০২৩ ৯:০৩ অপরাহ্ণ

 

শরীয়তপুর প্রতিনিধি ॥
বসতঘরের পাশে পড়ে থাকা ককটেলের বিস্ফোরণে গুরুতর আহত নুসরাতের ডান হাতের চারটি আঙুল কেটে ফেলা হয়েছে। অস্ত্রোপচার করা হয়েছে তার ডান চোখে। ২৫ দিনেও রহস্য নড়িয়া থানা পুলিশ ঘটনার রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি। গত শুক্রবার শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার দক্ষিণ চাকধ গ্রামে তার চিকিৎসা করাতে গিয়ে এরই মধ্যে সর্বস্ব হারিয়ে ঋণে জড়িয়ে পড়েছে তার পরিবারটি। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পুলিশ ঘটনা উদঘাটন না করে নিরবতা পালন করছে।
নুসরাত শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার দক্ষিণ চাকধ গ্রামের লাভলু সরদারের মেয়ে ও স্থানীয় দক্ষিণ চাকধ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

নড়িয়া থানা ও প্রতিবেশি আকলিমা বেগম জানিয়েছেন, নুসরাতের বাবা লাভলু সরদার একজন দিনমজুর। তাঁর দুই সন্তানের মধ্যে নুসরাত বড়। ১০ মে বন্ধুদের সঙ্গে প্রতিবেশীর বাড়িতে আম কুড়াতে যায় সে। সেখানে বসতঘরের পাশে তিনটি ককটেল পড়ে ছিল। খেলার বল ভেবে একটি ককটেল হাতে নেয় নুসরাত। সঙ্গে সঙ্গে সেটি বিস্ফোরিত হয়ে তার ডান হাত, মুখমন্ডল, ডান চোখ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত বিক্ষত হয়। স্থানীয়া তাকে উদ্ধার করে নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

উন্নত চিকিৎসার জন্য নুসরাতকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করা হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকে নেওয়া হয় জাতীয় অর্থপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে। ওই দিন সেখানে অস্ত্রোপচার করে তার ডান হাতের চারটি আঙ্গুল কেটে ফেলা হয়। পরের দিন জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে নিয়ে অস্ত্রোপচার করে ডান চোখের ভেতর থেকে কাচের টুকরা বের করে চিকিৎসরা। দুটি হাসপাতালে ৯ দিন থাকার পর ১৯ মে তাকে বাড়ী নিয়ে আসেন।
সম্প্রতি দক্ষিণ চাকধ গ্রামে নুসরাতের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ডান হাত, ডান চোখে ব্যান্ডেস ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত নিয়ে যন্ত্রণায় কিছুক্ষণ পরপর কাঁদছে নুসরাত।নড়িয়া থানায় বিস্ফোরক আইনে মামলা হলেও ২৫ দিনেও রহস্য নড়িয়া থানা পুলিশ ঘটনার রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি। কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।

নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা সেলিম রেজা এক দিন পরপর নুসরাতের ক্ষত জীবাণুমুক্ত করেন। তিনি বলেন, মেয়েটির এক হাতের চারটি আঙ্গুল অস্ত্রোপচার করে ফেলে দিতে হয়েছে। ককটেলের কাচের টুকরা চোখের মণিতে আঘাত করেছিল। চোখে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। সে ঐ চোখের দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাবে কি না, তা বলা যাচ্ছে না। তাকে দীর্ঘদিন চিকিৎসা নিতে হবে।
বাবা লাভলু সরদার বলেন, হঠাৎ মেয়ের এমন দুর্ঘটনায় দিশাহারা হয়ে পড়েছি। চিকিৎসা করাতে ইতোমধ্যে ৮০ হাজার টাকা ঋণ করতে হয়েছে। নুসরাতকে সুস্থ্য করে তুলতে দীর্ঘদিন চিকিৎসা করাতে হবে। এ চিকিৎসার খরচ কীভাবে জোগাড় হবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।
এ সময় নুসরাতের মা ফাতেমা বেগম বলেন, ‘মেয়েকে ঢাকায় রেখে চিকিৎসা করানো দরকার। আমাদের সেই আর্থিক সামর্থ্য নাই। হাত ও চোখের অপারেশন করার পর তাঁকে বাড়ি নিয়া আসছি। প্রতি সপ্তাহে ঢাকায় দৌড়াইতে হচ্ছে। মেয়েটা কষ্টে ছটফট করছে। আমার ছোট্ট মেয়েটির কেন এমন হলো ? ঘরের পেছনে কোথা থেকে ককটেল এল ? পুলিশও ঘটনা উদ্ঘাটনে তদন্ত করছে না।’
ভূমখারা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন বলেন, আমরা চেষ্টা করব মেয়েটিকে উন্নত চিকিৎসা করানোর জন্য।
নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান বলেন, ওই নির্জন বাড়িতে কারা ককটেল রেখেছিল, পুলিশ তা তদন্ত করে বের করার চেষ্টা করছে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ