নড়িয়ায় কীর্তিনাশা নদীর উপর সেতুর নির্মাণ কাজ ৭ বছরেও শেষ হয়নি - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৯:২৯, বুধবার, ১৩ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৬শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

নড়িয়ায় কীর্তিনাশা নদীর উপর সেতুর নির্মাণ কাজ ৭ বছরেও শেষ হয়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: মঙ্গলবার, জানুয়ারি ১৬, ২০২৪ ৬:৪৮ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: মঙ্গলবার, জানুয়ারি ১৬, ২০২৪ ৬:৪৮ অপরাহ্ণ

 

শরীয়তপুর প্রতিনিধি : শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলা সদরের কীর্তিনাশা নদীর ওপর ভাষাসৈনিক ডা. গোলাম মাওলা সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ৭ বছর আগে বন্ধ করে দেওয়া হয় । একাধিকবার টেন্ডার হলেও ঠিকাদার পালিয়ে যায়। এ কারণে কোনো যানবাহন ঝুঁকিপূর্ণ এ সেতু দিয়ে পারাপার হতে পারছে না। ফলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নড়িয়া উপজেলার লাখ লাখ মানুষের। নড়িয়া উপজেলা প্রকৌশলীর দাবি সেতুটির কাজ চলমান এবং ৪১ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।
নড়িয়া উপজেলা এলজিইডি ও ভুক্তভোগীরা জানায়, ২০১৫ সালে কীর্তিনাশা নদীর ওপর ভাষাসৈনিক ডা. গোলম মাওলা সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়। ২ বছর ভারী যানবাহন চলাচলের নিষেধাজ্ঞা দিয়ে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেয় এলজিইডি। ২০১৭ সালে সেতুটি নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করে। পাশাপাশি এ সেতুটি যানবাহন চলাচলের জন্য পুরাপুরি বন্ধ করে দেয়া হয়। ২০১৭ সালের ২১ ডিসেম্বর ১৪৫ মিটার দৈর্ঘ্যরে সেতুটি নির্মাণে ১৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা ব্যয়ে দরপত্র আহ্বান কওে এলজিইডি। কাজটি পায় মের্সাস নাভানা কনস্ট্রাকশন লিমিটেড নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ২০১৯ সালের জুন মাসে কাজটি শেষ হওয়ার কথা থাকলেও কয়েকবার মেয়াদ বাড়ানোর পরও কাজটি শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নাভানা। একটি ভায়াডাক্ট, এভারমেন্ট ওয়েল ও দুটি পিলারের আংশিক সহ ৩০ শতাংশ কাজ শেষ করে ২ কোটি ৮৭ লাখ টাকা বিল উত্তোলন করে কাজটি বন্ধ করে দেয় তারা। কাজটি বন্ধ করে চলে গেলে ও ঠিকাদারের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি নড়িয়া এলজিইডি।২০২১ সালের জুন মাসে নকশায় পরিবর্তন করে উড়াল সেতু নামে প্রায় ৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে পুনরায় দরপত্র আহবান করে নড়িয়া উপজেলা এলজিইডি। কাজটি পায় মেসার্স কোহিনুর এন্টারপ্রাইজ। তার মেয়াদ ও প্রায় ১ বছর পূর্বে শেষ হয়ে গেছে বলে জানায় নড়িয়া কতৃপক্ষ। বারবার মেয়াদ বাড়ানোর পরেও কাজটি শেষ করতে পারছে না ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। যার ফলে নড়িয়া উপজেলার মোক্তারের চর, জপসা, নশাসন, রাজনগর, নড়িয়া পৌরসভা, কেদারপুর, ভুমখাড়া, চাকধসহ প্রায় ২০টি ইউনিয়নের জনসাধারণ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। বারবার নকশা পরিবর্তন ও সেতুটির পশ্চিম পাশে জায়গা অধিগ্রহণের চেষ্টা করার কারণে দীর্ঘদিন সেতুটি নির্মাণ সম্ভব হয়নি। বর্তমানে সেতুটির পশ্চিম পার্শ্বে ভায়াডাক্ট (এভারমেন্ট), দুটি পিলারের কাজ দৃশ্যমান। কাজ চলমান থাকলেও তা অত্যন্ত ধীরগতির। বর্তমানে ৪১ শতাংশ শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছে নড়িয়া উপজেলা এলজিইডি।

নড়িয়ার মোক্তারেরচর এলাকার রমিজ মিয়া, আঃ গনি শেখ, আলী মীর বলেন, ঠিকাদার ও এলজিইডির গাফিলতির কারণে আমাদের নড়িয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও শহরের জনসাধারণকে বছরের পর বছর দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদেরও মামলামাল পরিবহণে পোহাতে হচ্ছে ভোগান্তি।
মেসার্স কোহিনুর এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী ওয়াহাব মাদবরের সঙ্গে তার মোবাইল নাম্বারে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
নড়িয়া উপজেলা প্রকৌশলী শাহাব উদ্দিন খান বলেন, প্রথমে যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি পেয়েছিল সে করতে না পারায় আমরা তার সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে পুনরায় টেন্ডার করি। বর্তমানে যে ঠিকাদার কাজ করছেন তিনি প্রায় ৪১ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করেছেন। তার কাজের মেয়াদ শেষ হলেও তাকে আরও মেয়াদ বৃদ্ধি করে দেওয়া হয়েছে।
শরীয়তপুর এলজিইডির বিদায়ী নির্বাহী প্রকৌশলী শাহজাহান ফরাজী বলেন, আগের ঠিকাদার চলে যাওয়ার পর নতুন করে যে প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়েছে তিনি কজ করছেন। ভূমি অধিগ্রহণ ও নকশা জটিলতায় আমাদের সেতুটি নির্মাণে দেরি হচ্ছে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ