নদী দখলে জাতীয় ঐক্য রয়েছে, কিন্তু উদ্ধারে নেই: আনু মুহাম্মদ - জনতার আওয়াজ
  • আজ ভোর ৫:২৬, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

নদী দখলে জাতীয় ঐক্য রয়েছে, কিন্তু উদ্ধারে নেই: আনু মুহাম্মদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৫ ৪:১৮ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৫ ৪:১৮ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত

দেশের ভেতরে নদী দখল বা দূষণের ক্ষেত্রে জাতীয় ঐক্য রয়েছে, কিন্তু উদ্ধারে জাতীয় ঐক্য নেই বলে মন্তব্য করেছেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।

শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে নোঙর কর্তৃক জাতীয় নদী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

আনু মুহাম্মদ বলেন, “একটা প্রশ্ন প্রায় উঠে আসে যে, যৌথ নদী কমিশন কেন কাজ করে না? শুধু যৌথ নদী কমিশন না, আমরা অনেক ক্ষেত্রেই দেখি যে আমাদের যে সমস্ত কমিটি বা কমিশন হয় অন্যান্য দেশের সাথে কিংবা আন্তর্জাতিক সংস্থার সাথে দর কষাকশি বা আলোচনার জন্য, সেইখানে আমাদের দিক থেকে প্রস্তুতি দক্ষতর বড় ধরনের ঘাটতি থাকে। আমাদের দেশে সরকারগুলোর একটা একটা অভিন্ন প্রবণতা দেখি যে, তারা সবসময় আন্তর্জাতিক কিছু প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করে। নদী নিয়ে যে ডেলটা প্ল্যান হচ্ছে, সে ডেলটা প্ল্যান নেদারল্যান্ডের গোষ্ঠী এসে করছে।”

তিনি বলেন, “এই সরকার ক্ষমতায় আসার পরে তারা বলছেন যে আমরা ক্ষমতা নেইনি, দায়িত্ব নিয়েছি। সে দায়িত্ব নেওয়ার পর সকলেরই প্রত্যাশা ছিল যে কিছু পরিবর্তনের সূচনা হবে। নদীকে নিয়ে কাজ করা সরকারের পক্ষে সম্ভব ছিল। প্রথম তারা যেটা করতে পারত, নদী নিয়ে ইতিমধ্যে যারা এই দেশে কাজ করছেন, তাদের সবাইকে নিয়ে একটি নদী সংস্কার কমিটি তৈরি করা। দ্বিতীয় সহজ কাজ ছিল, জাতিসংঘের ১৯৯৬ সালের আন্তর্জাতিক কনভেনশনে স্বাক্ষর করা।”

তিনি আরও বলেন, “ভারতের অনেক বিশিষ্ট ব্যাক্তি রয়েছেন, যারা ফারাক্কাবাঁধের বিরোধিতা করেছিলেন এবং ভারতে বর্তমানে ফারাক্কাবাঁধ ভাঙ্গার দাবিও উঠছে। সুতরাং ভারতের জনগণের মধ্যে যারা এই ধরনের কথাবার্তা বলছেন বা চিন্তা করছেন তাদের সাথে আমাদের একটা যোগাযোগ তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ।”

আনু মুহাম্মদ বলেন, “আমাদের নদী বিপর্যয়ের তিনটা কারন রয়েছে। এর মধ্যে এক হলো ভারত। বাকি দুইটা কারন আমাদের নিজের। একটি হলো উন্নয়ন প্রকল্প। বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং কৃষিসেচের নামে এমন সব প্রকল্প করা হয়েছে, যেগুলোর কারণে বহু নদী আজকে বিপর্যস্ত। তৃতীয় কারন হচ্ছে,আমাদের দেশের ভেতরে যারা ক্ষমতাবান গোষ্ঠী বিভিন্ন দলের সাথে যুক্ত, তাদের নদী দখলদারি। অথচ এসব বিষয়ে আমরা সরকারের কার্যকরী উদ্যোগ দেখি নি। দেশের ভেতরে নদী দখল বা দূষণের ক্ষেত্রে জাতীয় ঐক্য রয়েছে, কিন্তু উদ্ধারে জাতীয় ঐক্য নাই।”

“বর্তমানে রাষ্ট্র সরকার সভেলেন্স স্টেটে পরিণত হয়েছে। এখন জনগণের উপরে সারভেলেন্স বা নজরদারি চলে। আমাদের জনগণের পক্ষ থেকে কাউন্টার সারভেলেন্স বা পাল্টা নজরদারি চালাতে হবে সরকারের উপরে এবং এই নজরদারি চলবে সরকারি বিভিন্ন সংস্থার উপরে। রাজনৈতিক দলের যে জাতীয় ঐক্য তার বিপরীতে জনগনের জাতীয় ঐক্য তৈরি করে নদী রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে।”

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ