নরসিংদী-২: মঈন খানেই ভরসা বিএনপির, মাঠে তৎপর জামায়াত-এনসিপি - জনতার আওয়াজ
  • আজ সকাল ৯:৪৯, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

নরসিংদী-২: মঈন খানেই ভরসা বিএনপির, মাঠে তৎপর জামায়াত-এনসিপি

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ১৬, ২০২৫ ৫:৪৮ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ১৬, ২০২৫ ৫:৪৮ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেন্দ্র করে নরসিংদী-২ (পলাশ) আসনে ভোটের রাজনীতি নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। শিল্পসমৃদ্ধ এই গুরুত্বপূর্ণ আসনে একদিকে বিএনপির অভিজ্ঞ ও হেভিওয়েট নেতা ড. আবদুল মঈন খানের ওপর ভরসা রেখেছে দলটি, অন্যদিকে মাঠে সক্রিয় রয়েছে জামায়াত, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ একাধিক রাজনৈতিক শক্তি। তাদের প্রতিনিয়ত গণসংযোগ ভোটের মাঠে তৈরি করেছে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পরিবেশ। তবে মঈন খানের ভোটব্যাংককে অন্য প্রার্থীরা কতটা চ্যালেঞ্জ জানাতে পারবেন, তা নিয়ে ভোটার ও রাজনৈতিক মহলে বাড়ছে কৌতূহল ও উত্তাপ।

নরসিংদী জেলার অর্থনীতিতে বিশাল ভূমিকা রাখে এই আসনটি। এখানে রয়েছে ঘোড়াশাল-পলাশ সার কারখানা, ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র, অ্যাকোয়া রিফাইনারি, জনতা জুটমিল, ফৌজি চটকল, প্রাণ কোম্পানি, দেশবন্ধু সুগার মিল, দেশবন্ধু ফুড অ্যান্ড বেভারেজ, ওমেরা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড, এ কে খান অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ ছোট-বড় অসংখ্য শিল্পকারখানা।

নরসিংদী সদর আসনে ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে প্রথম বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন আবদুল মোমেন খান। তিনি জিয়াউর রহমানের সময়ে খাদ্যমন্ত্রী ছিলেন। ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে ন্যাপের প্রার্থী ও দৈনিক সংবাদের প্রধান সম্পাদক প্রয়াত আহমেদুল কবির মনু মিয়া এমপি নির্বাচিত হন। ১৯৮৮ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টির মো. দেলোয়ার হোসেন খান জয়ী হন। পরবর্তী চারটি নির্বাচনে (১৯৯১, ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৬ সালের জুন ও ২০০১) বিএনপির প্রার্থী ড. আবদুল মঈন খান জয়লাভ করেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের আনোয়ারুল আশরাফ খান দিলীপ জয়ী হন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে তার ছোট ভাই কামরুল আশরাফ খান পোটন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন। ২০১৮ ও ২০২৪ সালে পুনরায় আশরাফ খান দিলীপ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে জয়লাভ করেন।

আসন্ন নির্বাচনে সাবেক খাদ্যমন্ত্রী প্রয়াত আবদুল মোমেন খানের ছেলে, চারবারের সাবেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান বিএনপির প্রার্থী হিসেবে বেশ আলোচনায় রয়েছেন। বিএনপির হেভিওয়েট ও পরীক্ষিত নেতা মঈন খান বিভিন্ন সভা-সমাবেশে ভোটারদের নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। ভোটারদেরও সাড়া পাচ্ছেন তিনি।

তিনি জানান, শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে তার বাবা আবদুল মোমেন খান স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছিলেন এবং তিনি দেশের জন্য ব্যাপক ভূমিকা রেখেছেন। বাবার মতো নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে তিনিও দায়িত্ব পালন করেছেন। পূর্বের ন্যায় ভোটাররা তাকে নির্বাচিত করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। তিনি আরও জানান, দল-মত ও ভিন্নমত থাকবেই। এটিই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। দেশের উন্নয়নে সবাইকে বিএনপির পাশে থাকার ও ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

পলাশ থানার মেহেরপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সদস্যসচিব মনির হোসেন বলেন, ‘আমাদের আগের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল আওয়ামী লীগ। এখন তারা দেউলিয়া। তবে এবার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত। মঈন খান এই এলাকার পরীক্ষিত নেতা। দিনশেষে আমাদের বিজয় নিশ্চিত হবে ইনশাআল্লাহ।’

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী স্থানীয় একটি মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ মাওলানা আমজাদ হোসাইন। ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিন সম্পৃক্ত থাকার কারণে সাধারণ মানুষের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ গড়ে উঠেছে। জয়ের ব্যাপারে তিনিও আশাবাদী।

পলাশ বাজার এলাকার জামায়াতের কয়েকজন কর্মী বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী নরসিংদী জেলা কমিটির সেক্রেটারি আমজাদ হোসাইন সব সময় মানুষের পাশে ছিলেন। এবার তিনি জয়ী হয়ে সংসদে যাবেন, এমনটাই আশা করছি আমরা।’

এদিকে এই আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার দলটি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন। তিনি নতুন রাজনৈতিক ধারা ও সংস্কারের বার্তা নিয়ে ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন। তরুণ ভোটারদের মধ্যে তার প্রতি আগ্রহ লক্ষ করা যাচ্ছে। বিআরটিসি মোড়ে ভোটার রাশেদ মাহমুদ, হিমেলসহ আর অনেকে বলেন, ‘পুরোনো রাজনীতি আর চাই না। সারোয়ার তুষার নতুন কথা বলছেন, আমরা পরিবর্তন চাই।’

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মহসিন আহমেদ এবং খেলাফত মজলিশসহ অন্য প্রার্থীরা নিয়মিত গণসংযোগ ও নির্বাচনি প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা ইসলামি মূল্যবোধ ও সুশাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন। তবে ইসলামি দলগুলো আট দলের জোট বেঁধেছে। এতে যে প্রার্থী মাঠে থাকবেন, তার পক্ষে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জোটভুক্ত প্রার্থীরা।

পলাশ বাজার এলাকার আবু বক্কর, জিহাদ হোসেনসহ আরও অনেকে বলেন, ‘ভোট হলো আমানত। আমরা বুঝেশুনে ভালো মানুষকে ভোট দেব।’ ভোটার এনামুল হোসেন তপু বলেন, ‘আমার জীবনের প্রথম ভোটটা কাকে দেব, তা মনে ও অন্তরে আছে। কাউকে বলা যাবে না। তবে যোগ্য প্রার্থীই আমার প্রথম ভোট পাবেন।’

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এবারের নির্বাচনে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে দলীয় পরিচয়ের বাইরে ব্যক্তি ইমেজ, সততা ও এলাকার মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। দিনশেষে কে হাসবে শেষ হাসি, সেই সিদ্ধান্ত দেবেন ভোটাররাই।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ