না’গঞ্জে জেলা বিএনপির কাউন্সিল ঘিরে তৎপর পদপ্রত্যাশীরা উজ্জীবিত নেতাকর্মীরা
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
বুধবার, জুন ৭, ২০২৩ ৪:৪৫ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
বুধবার, জুন ৭, ২০২৩ ৪:৪৫ অপরাহ্ণ

এম আর কামাল, নিজস্ব প্রতিবেদক
দীর্ঘ ১৪ বছর পর আগামী ১৭ বহুল প্রতিক্ষিত নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির কাউন্সিল হতে যাচ্ছে। ওই কাউন্সিলে সরাসরি কাউন্সিলরদের ভোটের মাধ্যমে জেলা কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হবেন। পরে সবার মতামতের ভিত্তিতে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত হবে।
জেলা বিএনপির কাউন্সিলে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যোগ দেবেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কাউন্সিলে স্বশরীরে উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।
এদিকে দীর্ঘ ১৪ বছর পর নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সম্মেলনের আয়োজনে নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ। আর কাউন্সিল ঘিরে তৎপরতা চালাচ্ছেন পদপ্রত্যাশীরা।
সবকিছু ঠিক আগামী ১৭ জুন শনিবার কাউন্সিলে দুটি পদে নির্বাচন হবে। তবে বেশি আগ্রহ তৈরি হয়েছে সাধারণ সম্পাদক পদকে ঘিরে।
কাউন্সিলকে সফল করার লক্ষ্যে গত (৪ জুন) বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ও ঢাকা বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলার কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষ পাঁচ নেতার উপস্থিতিতে ৭টি উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে।
দল দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় নেই। তার পরও নেতারা বিভক্ত কোন্দলে। অনেকে নিষ্ক্রিও। এর প্রভাবে স্থবিরতা দেখা দিয়েছিল দলীয় কার্যক্রমে। তবে জেলা বিএনপির সম্মেলন ঘিরে ফের উজ্জীবিত নেতাকর্মীরা।
নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সম্মেলনকে সামনে রেখে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশীরা তৎপর হয়ে উঠেছেন। দীর্ঘদিন ধরে তাদের কেউ কেউ তৃণমূল পর্যায়ে চালিয়ে যাচ্ছেন সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড।
এর মধ্যে সভাপতি পদ পেতে তৎপর রয়েছেন জেলা বিএনপির বর্তমান আহ্বায়ক সাবেক এমপি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বর্তমান জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ। এ ছাড়াও সম্মেলনের দিন এই তালিকায় আরও একাধিক নাম যুক্ত হতে পারে।
তবে সভাপতি পদে জেলা বিএনপির সাধারণ আহ্বায়ক সাবেক এমপি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন এগিয়ে রয়েছেন। জেলা বিএনপির নতুন আহ্বায়ক কমিটির গঠনের পর থেকে বিএনপির একেরপর এক দলীয় কর্মসূচি রাজপথে নেতাকর্মীদের নিয়ে সাহসীকতার সাথে পালন করেছে।
ফলে আগামী কাউন্সিলে জেলা বিএনপির সভাপতি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিনের উপর কাউন্সিলর ভোটারদের পূর্ণআস্থা রয়েছে। ফলে সভাপতি এগিয়ে রয়েছেন মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন।
অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির নতুন আহ্বায়ক কমিটিতে জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কারা নির্যানিত নেতা অধ্যাপক মামুন মাহমুদকে ১নং সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়। এরপর থেকে অনেকটাই ঝিমিয়ে পড়েন তিনি।
বর্তমান কমিটির সাথে সমন্বয় করে কেন্দ্রীয় কিম্বা জেলা ভিত্তিক কোন কর্মসূচীতে তাকে দেখা যাচ্ছেনা। তবে তিনি তার অনুসারী নেতাকর্মীদের নিয়ে মাঝে মাঝে কিছু কর্মসূচী পালন করে থাকেন। এনিয়ে নানা বির্তক চলছে জেলা বিএনপির তৃনমূলে।
এদিকে বিএনপির নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠনের আগে এই নেতা দলীয় কর্মসূচি গুলো জোরালোভাবে রাজপথে পালন করেছিলেন। সেইসকল কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে একাধিকবার মামলার আসামি হয়ে কারাভোগও করেছিলেন। এখন তিনি জেলা বিএনপির সভাপতি পদে নির্বাচন করবে বলে তার অনুসারীরা জানান।
অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক বর্তমান জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাবেক ছাত্রনেতা মাশুকুল ইসলাম রাজিব, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব গোলাম ফারুক খোকন, যুগ্ম আহ্বায়ক লুৎফর রহমান খোকাসহ সাবেক জেলা বিএনপির নেতাও সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচন করবেন বলে জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা জানান।
সাধারণ সম্পাদক পদে এগিয়ে রয়েছেন সাবেক ছাত্রনেতা রাজপথের আন্দোলন সংগ্রামে সাহসী কর্মীবান্ধব নেতা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাবেক ছাত্রনেতা মাশুকুল ইসলাম রাজিব। জেলা বিএনপিকে শক্তিশালী ও গতিশীল করার জন্য মাসুকুল ইসলাম রাজিবের বিকল্প নেই। সাফল্যের সাথে ছাত্ররাজনীতির অধ্যায় শেষে এখন মূলদলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন দক্ষতার সাথে। নারায়ণগঞ্জ জেলা জুড়েই রয়েছে তার বিশাল কর্মী বাহিনী।
সরকারবিরোধী প্রতিটি আন্দোলনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে হয়েছেন অর্ধশতাধিক মামলার আসামি হয়ে মাসের পর মাস জেলও খেটেছে। সাধারণ সম্পাদক পদে বিএনপির নেতাকর্মীদের জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছেন রাজিব। আগামী দিনে রাজপথে বিএনপির সরকার বিরোধী আন্দোলন সংগ্রামকে ত্বরান্বিত করতে রাজিবের বিকল্প নেই বলে মনে করছেন দলীয় নেতাকর্মীরা।
নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য গোলাম ফারুক খোকন বর্তমানে জেলা যুবদলের আহ্বায়ক পদে রয়েছেন। এর আগে তিনি জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। খোকন নামেই মাত্র জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও জেলা যুবদলের আহ্বায়ক পদে ছিলেন। বিগত দিনে নারায়ণগঞ্জে বিএনপির দলীয় কোনো কর্মসূচিতে খোকনকে দেখা যায়নি।
তবে ঢাকার কর্মসূচিতে ঠিকই থাকতেন কেন্দ্রীয় নেতাদের দেখানোর জন্য। তার বিরুদ্ধে নেই কোনো মামলা এবং জেলও খাটেননি। এক নেতার আর্শিবাদে তিনি এসকল পদে অসীম হয়েছেন। এখন তিনি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্বাচন করতে চায়। জেলা যুবদলের দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে হাতে গুনা কয়েকটি কর্মসূচিতে তাকে দেখা গেছে।
জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব হওয়ার পরও দলীয় কোনো কর্মসূচিতে দেখা তেমন দেখা যায়নি। এই নিয়েও দলীয় নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তার নেতাকে জেলা বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ পদে দেখতে চায় তৃণমূল বিএনপি নেতাকর্মীরা এমনটাই দাবি জানিয়েছেন।
দলীয় সূত্রে মতে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আওতাধীন ১০টি ইউনিট হলো- ফতুল্লা থানা, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা, আড়াইহাজার উপজেলা, রূপগঞ্জ উপজেলা, সোনারগাঁ উপজেলা, সোনারগাঁ পৌরসভা, আড়াইহাজার পৌরসভা, গোপালদী পৌরসভা, তারাব পৌরসভা, কাঞ্চন পৌরসভা। এর মধ্যে ফতুল্লা থানা বিএনপির কমিটি পূর্ণাঙ্গ হয়নি। তবে ১৭ জুন জেলা বিএনপির সম্মেলনের আগেই ফতুল্লা থানা বিএনপির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে ১০টি ইউনিট বিএনপির ১০১ সদস্য করে সর্বমোট ১ হাজার ১০ জন কাউন্সিলর আসন্ন জেলা বিএনপির কাউন্সিলে ভোট দিয়ে জেলা বিএনপির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন করবেন।
প্রসঙ্গত, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সবশেষ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০০৩ সালে রাজধানীর হাওয়া ভবনে কাউন্সিলে ভোটের মাধ্যমে সভাপতি নির্বাচিত হন সাবেক প্রতিমন্ত্রী প্রয়াত অধ্যাপক রেজাউল করিম, সাধারণ সম্পাদক হন বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা এড. তৈমূর আলম খন্দকার ও সিনিয়র সহ-সভাপতি হন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও তৎকালীন সংসদ সদস্য মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন।
আর সর্বশেষ ২০০৯ সালে শহরের আলী আহমেদ চুনকা পাঠাগারে দলের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে কাউন্সিলরদের ভোটের মাধ্যমে বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা এড. তৈমুর আলম খন্দকারকে সভাপতি ও কাজী মনিরুজ্জামানকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন।
জনতার আওয়াজ/আ আ