না'গঞ্জে বিশাল সমাবেশে শেখ হাসিনা নৌকায় এবার লাঙ্গলও চড়ে বসেছে - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১১:৪৪, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

না’গঞ্জে বিশাল সমাবেশে শেখ হাসিনা নৌকায় এবার লাঙ্গলও চড়ে বসেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ৪, ২০২৪ ৮:১৭ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ৪, ২০২৪ ৮:১৭ অপরাহ্ণ

 

এম আর কামাল, নিজস্ব প্রতিবেদক
নৌকায় এবার লাঙ্গলও চড়ে বসেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, জ্বালাও পোড়াও, মানুষ খুন করাই হলো বিএনপির একমাত্র গুণ। ২০০৮ এর নির্বাচনে বিএনপি ২০ দলীয়ভাবে ও আমরা মহাজোট হয়ে নির্বাচন করি। আমরা ২৩৩ সিটে জয় লাভ করেছিলাম। বিএনপি পায় শুধু ৩০ টি সিট। বাকিগুলো জোটের মিত্ররা পেয়েছিল। এ নির্বাচনের পর থেকেই বিএনপি নির্বাচনকে ভয় পায়। তারা নির্বাচন ঠেকাতে আগুন সন্ত্রাস শুরু করে। ২০১৪ এর নির্বাচন যাতে না হয় সে লক্ষে ২০১৩ থেকেই তারা অগ্নিসন্ত্রাস চালিয়েছে। মানুষকে পুড়িয়ে ফেলেছে। মানুষকে হত্যা করেছ, সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে। জ্বালাও পোড়াও করেছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জানুয়ারী) বিকাল পৌনে ৪টায় শহরের মাসদাইরে একেএম শামসুজ্জোহা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে এক বিশাল জনসমুদ্রে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি। জনসভার সভাপতিত্ব করেন জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই।
তিনি বলেন, এই নারায়ণগঞ্জ ইতিহাসের সাক্ষী। বঙ্গবন্ধু ৬ দফার জন্য নারায়ণগঞ্জে মিটিং করেছিলেন, তা হয়েছিল আদমজীতে। ঐদিন রাতেই তাকে আটক করা হয়। নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকা কারাগারে। ১৯৬৮ সালে ১৮ জুন ঢাকা কারাগার থেকে ক্যান্টোনমেন্ট নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা আগরতোলা মামলা দেয়া হয়। কিন্তু বাঙালিরা সংগ্রমা শুরু করে। ৬ জুন হরতাল ডাকা হয়। এই নারায়ণগঞ্জ থেকে হাজার হাজার মানুষ ঢাকায় সংগ্রামে যুক্ত হয়েছিল। বিভিন্ন আন্দোলনে, বিভিন্ন সভায় নারায়ণগঞ্জই অগ্রনী ভ‚মিকা রেখেছে।
নির্বাচন যাতে না হয়, সে চক্রান্ত এখনো আছে জানিয়ে ও পাশাপাশি সবাইকে ভোট দিয়ে দেশে গণতন্ত্র আছে, তা প্রমাণ করার আহŸান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশাল জনসমুদ্রে বলেন, ৭ মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘কেউ দাবায় রাখতে পারবা না’। তো বাংলাদেশকে কেউ দাবায় রাখতে পারবে না। নির্বাচন ঘিরে অনেক চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র হয়েছিল। নির্বাচন যাতে না হয়, সেই চক্রান্ত এখনো আছে। যেহেতু নিজেরা নির্বাচন করে জিততে পারবে না, কাজেই দেশের মানুষকে বঞ্চিত করতে চায় ভোটের অধিকার থেকে।
তিনি বলেন, আমরা আওয়ামী লীগই জনগণকে নিয়ে জনগণের অধিকার জনগণের হাতে ফিরিয়ে দিয়েছি। এই টের অধিকার সাংবিধানিক অধিকার, সে অধিকার আমরা সংরক্ষিত করেছি। সবাই ভোটকেন্দ্রে যাবেন, ভোট দিয়ে প্রমাণ করবেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র বিদ্যমান। ২০০৯ থেকে ২০২৩ ,গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত আছে। আজ আমরা ২০২৪ সালে পা দিয়েছি। গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত আছে বলে বাংলাদেশের এত উন্নতি হয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, মিলিটারি ডিক্টেটররা যখন একে একে ক্ষমতায় এসেছে, জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। এখন আবার তারা একই কাজ করতে চায়। আমরা বলেছি নির্বাচন হবে। আজ ৪ তারিখ। ৭ তারিখের নির্বাচনে আমি আপনাদের অনুরোধ করব সবাই শান্তিপূর্ণ থাকবেন। আমি দেশের সবার কাছে অনুরোধ করব, সবাই শান্তিপূর্ণভাবে থাকবেন।
তিনি বলেন, ঠিক প্যালেস্টাইনে (ফিলিস্তিন) ইসরায়েল যেভাবে হামলা করছে, হাসপাতালের ওপর বম্বিং (বোমাবর্ষণ) করছে, ঠিক বিএনপিও সেই ইসরায়েলকে অনুসরণ করে আজ পুলিশ হাসপাতালে আক্রমণ, অ্যাম্বুলেন্সে আক্রমণ করছে। ওদের মনুষ্যত্ব বলে কিছু নেই। আজকে নির্বাচনে তারা আসেনি, সেটি তাদের ইচ্ছা। কিন্তু মানুষের ভোটের অধিকারে বাধা দেওয়া কখনোই দেশের জনগণ মেনে নেবে না। এ অধিকার মানুষের অধিকার। সুতরাং ৭ জানুয়ারির নির্বাচন ইনশাআল্লাহ হবে।
আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, এখন মানুষ সেবা পাচ্ছে, বাংলাদেশকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। আর বিএনপি সেখানে কী করে, আপনারা দেখেছেন। ২৮ অক্টোবর তারা কী ভয়ংকরভাবে পুলিশের ওপর আক্রমণ করেছে। পুলিশকে ফেলে পিটিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে, পুলিশ হাসপাতালে ঢুকে অ্যাম্বুলেন্স জ্বালিয়ে দিয়েছে, রোগী নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স যাচ্ছে, সে অ্যাম্বুলেন্সে আক্রমণ করেছে এবং সেখানে অনেক পুলিশ সদস্যকে আহত করেছে। ঠিক ২০১৩ সালে যেভাবে হত্যা করেছিল, ঠিক একইভাবে আবারো করেছে।
এ সময় আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে দলকে বিজয়ী করার জন্য সবাইকে আহŸান জানিয়ে বলেন, আমাদের মার্কা নৌকা মার্কা, এ নৌকায় ভোট দিয়ে দেশের মানুষ স্বাধীনতা পেয়েছে, এ নৌকা আজ উন্নয়ন দিয়েছে, এই নৌকা-ই আগামী উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলবে। তাই নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আমাদের প্রার্থীদের আপনারা জয়যুক্ত করবেন। আপনাদের কাছে সে আহŸান জানাই।
খেলার বেশি ফাউল করে লাল কার্ড খেয়ে বিএনপি বিদায় নিয়েছে : আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, খেলা শুরু হয়ে গেছে। চরম উত্তেজনা, ৭ তারিখে ফাইনাল। বিএনপি পালিয়েছে। খেলার মধ্যে বেশি ফাউল করে লাল কার্ড খেয়ে বিএনপি বিদায় নিয়েছে। ফাইনালে বিএনপি নেই।
তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে ভোট দিয়ে আপনাদের প্রমাণ করতে হবে। বাংলার মাটিতে স্বাধীনতাবিরোধী, দুর্নীতিবাজ, জঙ্গিবাদী, লুটেরা বিএনপির কোনো স্থান নেই। বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে হাওয়া ভবন আমরা আর চাই না। তারেক রহমানের মত খুনি-দুর্নীতিবাজকে এ দেশের মানুষ আর দেখতে চাই না।
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, খেলা হবে লুটপাটের বিরুদ্ধে। খেলা হবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে। ৭ তারিখে ফাইনাল খেলা। বিএনপির আন্দোলন ভূয়া, হরতাল-অবরোধ ভূয়া। এক দফা ও ৩২ দল সবই ভূয়া। এই ভূয়ার সাথে নারায়ণগঞ্জ নেই। আগামী ৭ তারিখ নৌকায় ভোট দিয়ে আপনাদের প্রমাণ করতে হবে যে সন্ত্রাসী, লুটেরা, অর্থ-পাচারকারীর বিএনপির স্থান এ মাটিতে নেই।
তিনি আরও বলেন, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেল, রূপপুর, মাতারবাড়ি। নারায়ণগঞ্জ এখন আলোকিত নারায়ণগঞ্জ। শেখ হাসিনা ১৫ বছরে নারায়ণগঞ্জকে বদলে দিয়েছেন। যেদিকে তাকাই সেদিকে ৬ লাইনের রাস্তা, ৪ লাইনে রাস্তা। শীতলক্ষ্যার পাড়ে আজ জনজীবনে শান্তির সুবাতাস বইছে। আগামী ৭ জানুয়ারি নির্বাচনের দিন দলে দলে সবাইকে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহŸান জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বাংলাদেশ প্রচÐ শত্রæতার মুখে। দেশে শত্রæ, বিদেশেও শত্রæ। এ শত্রæদের হাত থেকে গণতন্ত্রকে বাঁচাতে হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখতে হবে।
নারায়ণগঞ্জের মানুষ মেট্রোরেলে উঠতে চায় : নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের প্রার্থী একেএম শামীম ওসমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিানকে উদ্দেশ্যে করে বলেন, আপনার কাছে চাওয়ার কিছু নেই। আপনি সব দিয়েছেন। আমার নারায়ণগঞ্জের মানুষ মেট্রোরেলে উঠতে চায়। সন্তান কখনও মায়ের কাছে চায় না। মা সন্তানের আবদার এমনিতেই পূরণ করে দেয়।
এসময় শামীম ওসমান আরও বলেন, আমাদের মানচিত্রের ওপর খুনি শকুন উড়ছে। মাঠে তাদের পথ করে দিচ্ছে ১৯৭৫ সালের পরাজিত শক্তি ও সন্ত্রাসী দল বিএনপি। ১৯৭০ সালের নির্বাচনের পর বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবারের নির্বাচন। শেখ হাসিনা আপনাদের মাঝে তার মা-বাবা-ভাইদের খুঁজে পায়। আপনারা কি এই মায়ের জন্য দাঁড়াবেন না?। আল্লাহর নামে শপথ করে বলেন, আমরা কি প্রস্তুত আছি? উপস্থিত জনতা এ সময় দুই হাত তুলে নিজেদের প্রস্তুতির সাড়া দেন।
তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বেঁচে যাওয়ার অপরাধে শেখ হাসিনাকে ২১ বার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। আমাদের ওপর বোমা হামলা করা হয়েছে। সেই বোমা হামলায় আমার বন্ধু চন্দন শীলের দুই পা নেই। সেই বোমা হামলার পর রক্তের ওপর শুয়ে ছিলাম। রক্ত কত গরম হতে পারে সেদিন টের পেয়েছিলাম। বঙ্গবন্ধু চলে না গেলে আমাদের রাজনীতি করার কথা ছিল না। আমরা জাপানের মতো উন্নত দেশ থাকতাম। আমাদের স্বপ্ন দেখাতে শুরু করেছেন শেখ হাসিনা। কয়েকদিন আগে মায়ের বুকে শুয়ে থাকা এক শিশুকে খুনি জিয়ার খুনি সন্তানরা আগুন দিয়েছে। এটা কোন বাংলাদেশ? । নেত্রীকে বলতে চাই, আপনি তাদের বিরুদ্ধে এবার কঠোর ব্যবস্থা নিন। আমাদের মহিলাদের মিছিল থেকে কাপড় খুলে নেওয়া হয়, আমাদের পুলিশ লাইনের হাসপাতালে আগুন দেওয়া হয়। আমরা এ দৃশ্য ভবিষ্যতে আর দেখতে চাই না।
বিশাল সমাবেশের সভাপতি ও জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই বলেন, আমি নেত্রীকে বলতে চাই আপনি নারায়ণগঞ্জের মধ্যে চারটি আসনে নৌকার প্রার্থী দিয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে দিয়েছেন সেলিম ওসমানকে। আমি নেত্রীকে গ্যারান্টি দিতে পারি, নারায়ণগঞ্জ থেকে আপনার দেওয়া ৫টি আসেনই জয়লাভ করবে। আপনার একটি স্বাক্ষরের কারণে যারা নমিনেশন পেয়েছেন তারা ইনশাআল্লাহ আপনাকে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসন উপহার দেবে।
জনসভায় উপস্থিত ছিলেন, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী ও নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ও নৌকা প্রতীকের প্রার্থী গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর প্রতীক), নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও নৌকা প্রতীকের প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাবু, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক এমপি নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আবদুল্লাহ আল কায়সার, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ ও নৌকা প্রতীকের প্রার্থী একেএম শামীম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী একেএম সেলিম ওসমান, সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল সহ জেলা-মহানগর আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ