না’গঞ্জ-১ আসনে গাজী-তৈমুরের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে উত্তপ্ত রূপগঞ্জ
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শনিবার, ডিসেম্বর ২৩, ২০২৩ ৪:০৭ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শনিবার, ডিসেম্বর ২৩, ২০২৩ ৪:০৭ অপরাহ্ণ

এম আর কামাল, নিজস্ব প্রতিবেদক
নরায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর প্রতীক) ও বিএনপির থেকে বহিস্কৃত তৃণমূল বিএনপির মহাসচিব এডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার এর মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রূপগঞ্জ উপজেলা।
তবে তৈমুরের অভিযোগের পাল্টা বক্তব্য দিয়েছেন আওয়ামীলীগ দলীয় নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর প্রতীক) এমপি
নির্বাচনে সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা দেয়ার দাবি জানিয়েছেন তৃণমূল বিএনপির মহাসচিব ও নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের দলীয় প্রার্থী অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার।
বৃহস্পতিবার (২১ ডিসেম্বর) বিকালে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের রূপসী এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণাকালে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এই দাবির কথা জানান।
এসময় তৈমুর রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সেনাবাহিনী মোতায়েনের জন্য তিনি অনুমোদন দিয়েছেন। সেনাবাহিনীকে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে রাখলে চলবে না। সেনাবাহিনীকে কেন্দ্রে অবস্থান করতে হবে। সীল মারা বন্ধ করতে হবে। সেনাবাহিনীকে সাক্ষী গোপাল হিসেবে রাখলে চলবে না। তাদের ম্যাজিস্ট্রেট পাওয়ার দিতে হবে।
নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, কোন প্রার্থীর প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার বা পুলিং অফিসার হিসেবে যেন নিয়োগ না দেয়।
তৈমুর আলম খন্দকার গণমাধ্যম কর্মীদের সামনে একটি কাগজের কপি তালিকা হিসেবে তুলে ধরে বলেন, এটি হচ্ছে প্রিজাইডিং অফিসারদের নিয়োগের আমন্ত্রণপত্র। আসনের বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে যমুনা ব্যাংকের ২২ কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেয়ার অভিযোগ তোলেন তিনি।
তৈমুর বলেন, এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম মালিক হিসাবে আমার প্রতিদ্ব›দ্বী সরকার দলীয় প্রার্থী গোলাম দস্তগীর গাজী। তার অধীনস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যদি প্রিজাইডিং অফিসার, সরকারি পিজাইডিং অফিসার বা পোলিং এজেন্ট হিসাবে নিয়োগ পায় তাহলে নির্বাচন এখানে প্রভাবিত হবে। তাই তাদের অনুগত কাউকে ভোট কেন্দ্রে দায়িত্ব দিলে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে হবে না। নির্বাচন কমিশনের কাছে আমার আবেদন ও অনুরোধ থাকবে কোন প্রার্থীর আত্মীয়-স্বজন অথবা কর্মচারীকে যেন প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারি প্রিজাইডিং অফিসার বা পোলিং এজেন্ট হিসেবে নিয়োগ না দেওয়া হয়।
তিনি আরেকটি আবেদন করে বলেন, রূপগঞ্জের প্রত্যেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গাজীর আত্মীয়-স্বজনের লোকজনরা আছেন। সেখানে গাজী সাহেবের স্ত্রী, ছেলে, গাজী সাহেবের বিয়াইন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতি পদে আছেন। তাই একটি প্রভাবমুক্ত নির্বাচনের স্বার্থে আমি প্রধান নির্বাচন কমিশনের কাছে অনুরোধ করব প্রার্থীর যে প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণে আছে সেই প্রতিষ্ঠানে তার আত্মীয়-স্বজন স্ত্রী বা ছেলেকে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কোন কাজে যেন নিয়োগ না দেওয়া হয়।
নির্বাচনী প্রচারণায় বস্ত্র পাট মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর নিজস্ব বাহিনী দ্বারা বাধা ও নানা প্রতিবন্ধকতার কথা উল্লেখ করে তৈমুর আলম খন্দকার বলেন, দিন দিন সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ বিঘিœত হচ্ছে। কয়েকটি এলাকায় যেমন মৌকলি গ্রামসহ কয়েকটা গ্রামের মধ্যে আমার পোস্টার ছিঁড়ে ফেলে দেয়া হয়েছে। এটা এমপির নিজস্ব বাহিনীর দ্বারা করা হচ্ছে।
তবে এসব অভিযোগের পাল্টা বক্তব্য দিয়েছেন আওয়ামীলীগ দলীয় নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী এমপি। গাজীর মালিকানাধীন যমুনা ব্যাংক থেকে ২২জন কর্মকর্তাকে প্রিজাইডিং অফিসার হিসাবে দেয়া হয়েছে তৈমুর আলম খন্দকারের এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে গোলাম দস্তগীর গাজী গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, আমাদের ১২৮টি ভোট কেন্দ্র, সেখানে চার-পাঁচ হাজার লোক লাগবে। সেখানে প্রত্যেকটি স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা নেয়ার পরেও তারা লোক পায়নি বিধায় শুধু যমুনা ব্যাংক থেকেই নয়, সমস্ত ব্যাংক থেকে লোক নিয়েছে। ২২ জন মানে প্রত্যেকটি ব্যাংক থেকে ২২ জন করে নেওয়া হয়েছে। সুতরাং এটা হচ্ছে একপেশে কথা। ব্যাংক কারো কথায় চলে না। এই সরকার এত বেশি রিটার্নিং অফিসার ও সহকারি রিটার্নিং অফিসার দিচ্ছে যে ৪-৫ হাজার লোক লাগার কারনে তারা বিভিন্ন জায়গা থেকে লোক নিচ্ছে। সেজন্য স্কুল-কলেজ থেকে লোক নেয়ার পরেও লোক কম দেখে তাই তারা সরকারি ব্যাংক ও প্রাইভেট ব্যাংক থেকে লোক নিয়েছেন। শুধুমাত্র যমুনা ব্যাংক থেকে ২২ জন লোক নেয়া হয়েছে এই অভিযোগটা সম্পূর্ণ মিথ্যা।
তিনি গণমাধ্যম কর্মীদের প্রশ্ন রেখে বলেন, ২২জন লোক দিয়ে কি এখানে সিল মারার নির্বাচন হবে? এখানে পরিদর্শন টিম থাকবে, বিদেশ থেকে পরিদর্শন টিম থাকবে ও জাপান থেকে পরিদর্শন টিম আসবে। এইবার কোন সিল মারার নির্বাচন হবে না।
তিনি ইভিএম মেশিনে ভোট প্রসঙ্গে বলেন, ইভিএমে ভোট হলে আরো ভালো হতো। ইভিএমে ভোট হলে আমি ৯০ শতাংশ ভোট পাব।
তিনি বলেন, আমি উন্নয়ন করেছি। আমার বিরুদ্ধে কোন অপপ্রচার করতে পারবে না। প্রতিপক্ষ প্রার্থী এসব নানা কথা বলে তারা নিজেদেরকে স্ট্যান্ডিং করছে এবং তারা একটি অর্থ বরাদ্দ পেয়েছে সেই অর্থকে হালাল করার জন্য তারা এসব কথা বলছে।
তিনি গণমাধ্যম কর্মীদের খোঁজ নেয়ার তাগিদ দিয়ে বলেন, আপনার একটু খোঁজ নিয়ে দেখবেন যে প্রার্থীর এখানে কোন ভোটই নেই। সে এখানে প্রার্থী হয়ে দাঁড়াচ্ছে। কোন সাহসে দাঁড়াচ্ছে। কারণ অর্থের একটা বরাদ্দ আছে এখানে। যেহেতু এখানে বড় বড় হাউজিং হচ্ছে। আমাদের এখানকার সাধারণ মানুষকে ঠকিয়ে ঘর বাড়ি দখল করার জন্য অর্থ বরাদ্দ নিয়ে এখানে নেমেছে একটি পক্ষ। অর্থ বরাদ্দ নিয়ে নামার কারণেই তার এত সাহস হয়েছে। তারা ৫ থেকে ১০ শতাংশ ভোট পাবে না।
তিনি বলেন, আমি সাড়া পাচ্ছি কারণ আমি যেখানেই যাই সেখানে উন্নয়নকে সাথে নিয়ে যাই। তাই আমাকে কেউ প্রশ্ন করতে পারে না।
তিনি বলেন, জনগণ আমার চেহারা দেখে ভোট দেবে না আমার উন্নয়ন দেখে ভোট দেবেন যেহেতু প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, যারা জনসম্পৃক্ত আছেন তারাই নমিনেশন পাবেন। জনসম্পৃক্ত প্রার্থীদের জরিপের মাধ্যমে নমিনেশন দেওয়া হবে। আমি জরিপে পাশ করে নমিনেশন পেয়েছি।
এদিকে রূপগঞ্জে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী রূপগঞ্জ উপজেলার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পদত্যাগকৃত উপজেলা চেয়ারম্যান শাজাহান ভ‚ঁইয়া। প্রচারণায় নেমে ভোটারদের ব্যাপক সাড়া পেয়েছেন তিনি। কেটলি মার্কা প্রতীক পাওয়ায় এ প্রার্থী রূপগঞ্জ এলাকার পাড়া মহল্লা অলি গলিতে দিনরাত প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী শাজাহান ভ‚ঁইয়া সাংবাদিকদের বলেন, রূপগঞ্জের মানুষ আমাকে ভোট দেওয়ার জন্য মুখিয়ে আছে, কারণ আমার মধ্যে কোন ধরনের বিতর্ক নেই। আমি কোন সময় কোন বিতর্কিত কাজে জড়িত হইনি। আসনের ভোটাররা আমাকে নিট এন্ড ক্লিন ইমেজের জানে। বহুদিন ধরে রূপগঞ্জের মানুষ সুযোগ খুঁজছে যে একজন নির্ভেজাল মানুষকে ভোট দিয়ে সংসদের প্রতিনিধিত্বের দায়িত্বে দেবে।
এ সময় প্রচারণায় কথা হয় কায়েতপাড়া ইউনিয়নের চায়ের দোকানে আড্ডারত মোখলেছুর রহমান নামে এক স্থানীয় সাথে।
তিনি জানান, স্বতন্ত্র প্রার্থী শাজাহান ভ‚ঁইয়াকে নিয়ে এলাকায় কোন বিতর্ক বা কোন অভিযোগ নেই। তিনি প্রবীণ মানুষ এবং দীর্ঘদিন ধরে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাজনীতি করে যাচ্ছেন। বহুদিন ধরে রূপগঞ্জের মানুষ মুখিয়ে আছেন এমন একজন মানুষকে এমপি হিসাবে দেখবেন যার বিরুদ্ধে কোন বিতর্ক বা অভিযোগ নেই।
জনতার আওয়াজ/আ আ