নানা অনিয়মে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে গাজীপুর জেলা বিএনপি, তৃণমূল নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১২:৫৭, শনিবার, ১৬ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৯শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

নানা অনিয়মে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে গাজীপুর জেলা বিএনপি, তৃণমূল নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: মঙ্গলবার, আগস্ট ১৯, ২০২৫ ২:৩৫ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: মঙ্গলবার, আগস্ট ১৯, ২০২৫ ২:৩৫ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
গাজীপুর জেলা বিএনপিতে কমিটি বাণিজ্যসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা। অভিযোগ উঠেছে, আহ্বায়ক, যুগ্ম আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবরা আওয়ামী ঘনিষ্ঠদের দিয়ে উপজেলা ও পৌর বিএনপির কমিটি গঠন করেছেন। এসব কমিটিতে কোটি কোটি টাকার বিনিময়ে পদ দেওয়া হয়েছে। এতে আন্দোলন-সংগ্রামে জেল-জুলুম খাটা ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করা হয়নি।

অভিযোগ রয়েছে, কালিয়াকৈর পৌর ও উপজেলা বিএনপির কমিটি গঠন করা হয়েছে পাঁচ কোটি টাকার বিনিময়ে। সদস্য সংগ্রহও হয়েছে টাকার বিনিময়ে। ঘোষিত কমিটির বিরুদ্ধে প্রায় ৮০ ভাগ নেতাকর্মী অবস্থান নিয়েছেন।

শ্রীপুর ও সদর উপজেলা বিএনপির কমিটিতেও একই অবস্থা। শ্রীপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আক্তারুল আলম মাস্টার ও সদর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদিন রিজভী বিগত আন্দোলনে ভূমিকা রাখলেও তাঁদের বাদ দেওয়া হয়েছে। শারীরিকভাবে অক্ষম এক নেতাকে শুধুমাত্র ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চুর স্বার্থ রক্ষার জন্য সদস্যসচিব করা হয়েছে। অথচ আক্তারুল আলম মাস্টার তৃণমূল নেতাকর্মীদের মামলা পরিচালনা করেছেন নিজ খরচে।

শাহজাহান ফকির, স্বপ্না বেগমসহ অসংখ্য ত্যাগী নেতাকর্মীকেও কমিটিতে রাখা হয়নি। আলোচিত আজম খান, যিনি ডান্ডাবেরি পড়ে মায়ের জানাজা পড়েছিলেন, তাকেও ইউনিয়ন কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

কালিয়াকৈর উপজেলা ও পৌর বিএনপির নতুন কমিটি গঠনে তীব্র বিভাজন সৃষ্টি হয়েছে। জেলা বিএনপির সদস্যসচিব ইশরাক সিদ্দিকীর প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে জ্যেষ্ঠ ও তৃণমূল নেতাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব বাড়ছে। জুন-আগস্ট পর্যন্ত একাধিক পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ও বিক্ষোভে এ বিভাজন প্রকাশ্য হয়ে ওঠে।

১৫ জুন আহ্বায়ক কমিটি বাতিলের দাবিতে পারভেজ আহমেদের পক্ষের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করলে অন্য পক্ষও পাল্টা মিছিল বের করে। এতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পুলিশ ও সেনাবাহিনী হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা হলে সাবেক সাধারণ সম্পাদক পারভেজ আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়, পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান।

কালিয়াকৈর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক করা হয়েছে সাবেক চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম সিকদারকে এবং সদস্যসচিব করা হয়েছে এম আনোয়ার হোসেনকে। পৌর বিএনপির আহ্বায়ক করা হয়েছে মামুদ সরকারকে এবং সদস্যসচিব মহসিন উজ্জামানকে।

স্থানীয় নেতাদের অভিযোগ, এরা কেউ আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন না। আহ্বায়ক মামুদ সরকার দীর্ঘ ১৬ বছর আওয়ামী নেতাদের ছত্রছায়ায় ব্যবসা করেছেন। সদস্যসচিব মহসিন উজ্জামানও সুবিধাভোগী ছিলেন।

নিষ্ক্রিয় ও বিতর্কিত নেতাদের কমিটিতে রাখায় কালিয়াকৈর উপজেলা ও পৌর বিএনপির একাধিক নেতা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

১৪ জুন ঘোষিত ৪১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটির বিরুদ্ধে ২৬ জুন অভিযোগ পাঠানো হয়। অভিযোগে বলা হয়, কমিটির বেশিরভাগ সদস্য গত ১৬ বছর ধরে আন্দোলনে নিষ্ক্রিয় থেকেছেন এবং আওয়ামী সরকারের সঙ্গে আতাত করে সুবিধা নিয়েছেন। ত্যাগী ও নিপীড়িত নেতাদের রাখা হয়নি। অভিযোগের সঙ্গে ছবি ও প্রমাণও সংযুক্ত করা হয়েছে।

চাপাইর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ডিজি রাব্বানী ও ফুলবাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি জালাল উদ্দিন আহম্মেদ অভিযোগপত্রে স্বাক্ষর করেন। তাঁরা ১৭ জনকে ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

একই সময়ে কালিয়াকৈর পৌর বিএনপির ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেনও অভিযোগ দেন। তিনি পৌর বিএনপির আহ্বায়ক, সদস্যসচিবসহ ১৭ জনের আওয়ামী লীগের প্রচারণায় অংশ নেওয়ার ছবি সংযুক্ত করে অভিযোগ পাঠান।

গাজীপুর জেলা বিএনপির সদস্যসচিব চৌধুরী ইশরাক আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, “নতুন কমিটিতে যাঁদের রাখা হয়েছে তাঁরা সবাই ক্লিন ইমেজের। অনেকে পদ না পেয়ে নানা কথা বলতে পারে। কমিটিতে যারা আছে তাদের দ্বারা মানুষের কোনো ক্ষতি হবে না।”

তবে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (ঢাকা বিভাগ) কাজী সাইয়েদুল আলম বাবুল বলেন, “কালিয়াকৈর ও গাজীপুরের ইউনিট থেকে অনেক অভিযোগ পেয়েছি। আওয়ামী দোসরদের দিয়ে যেভাবে কমিটি করা হয়েছে তা মোটেও কাম্য নয়। কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছেও অভিযোগ এসেছে।”

মৌচাক ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি কামরুল ইসলাম বলেন, “যাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে তারা বিগত সময়ে গলায় নৌকার ব্যাচ ঝুলিয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষে মিছিল করেছে।”

বোয়ালী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আজম খান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দল করতে গিয়ে জেল খেটেছি। জেলে থাকায় মায়ের মৃত্যুর আগে শেষ কথাটাও বলতে পারিনি। ডান্ডাবেরি আর হাতকড়া পড়া অবস্থায় মায়ের জানাজা পড়েছি। তারপরও আমাদের জায়গা হয়নি। দলের জন্য আর কী করলে মর্যাদা পাব?”

গত জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত কালিয়াকৈর উপজেলা, পৌরসভা, ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন বিএনপির একাধিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। সর্বশেষ ৮ আগস্ট মৌচাক, আটাবহ ও বোয়ালী ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি ঘোষণার পরও ব্যাপক সমালোচনা ছড়িয়েছে।

তৃণমূল নেতাকর্মীরা বলছেন, বিএনপির দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে নিষ্ক্রিয় ও আওয়ামী ঘনিষ্ঠদের কমিটি দিলে সংগঠন আরও দুর্বল হয়ে পড়বে। আর এভাবে চলতে থাকলে গাজীপুর জেলা বিএনপি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যাবে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ