নারায়ণগঞ্জে কমেনি ডিমের দাম, লাফিয়ে বাড়তে শুরু করেছে মুরগি : সাধারণ মানুষ দিশেহারা - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১:৪৫, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

নারায়ণগঞ্জে কমেনি ডিমের দাম, লাফিয়ে বাড়তে শুরু করেছে মুরগি : সাধারণ মানুষ দিশেহারা

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শুক্রবার, অক্টোবর ১৮, ২০২৪ ৫:৪৪ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শুক্রবার, অক্টোবর ১৮, ২০২৪ ৫:৪৪ অপরাহ্ণ

 

এম আর কামাল, নিজস্ব প্রতিবেদক
ডিমের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার জন্য বেশকিছু উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সাথে সোচ্চার রয়েছে নারায়ণগঞ্জে ‘বিশেষ টাস্কফোর্স’। কিন্তু তার সুফলও দেখা যাচ্ছেনা বাজারে। এখনো বাজারে কমতে শুরু করেনি ডিমের দাম। তবে ডিমের দামের পাশাপাশি এবার অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে মুরগির দাম। সোনালি মুরগির দাম কেজিতে বেড়েছে ৫০ টাকা পর্যন্ত। অন্যদিকে বাজারে কিছুটা কমেছে কাঁচামরিচের ঝাল। পাশাপাশি সামান্য কমলেও সবজির দাম এখনো সাধারণ মানুষের স্বস্তির মধ্যে আসেনি।
শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) সকালে নারায়ণগঞ্জের দিগু বাবুর বাজারসহ বিভিন্ন এলাকা ভিত্তিক বাজার ঘুরে দেখা গেল এমন চিত্র।
বাজারে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বেশ আলোচনায় ছিল ডিম। বিশেষ করে চলতি সপ্তাহে প্রতি পিস মুরগির লাল গিম বিক্রি হচ্ছে ১৩ টাকা ৭৫ পয়সায়। সে হিসেবে এক হালি লাল ডিম কিনতে জনসাধারণকে গুনতে হচ্ছে ৫৫ টাকা। ১১ টাকা ৮৭ পয়সার ডিম কিনতে হচ্ছে ১৩ টাকা ৭৫ পয়সায়, শুধু তাই নয় এলাকা ভিত্তিক দোকানে প্রতিপিস ডিম কিনতে হচ্ছে ১৪ থেকে ১৫ টাকায়। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সাধারণ ক্রেতারা। এছাড়াও বাজারে দেশি মুরগীর ডিম বিক্রি হচ্ছে ৮৫ টাকা হালি, মুরগীর সাদা ডিম ৫৪ টাকা হালি, সোনালী মুরগীর ডিম হালিতে বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়, হাসের ডিম বিক্রি হচ্ছে ৭৫ টাকা হালি এবং কোয়েলের ডিম ১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার নিয়মিত অভিযান চালালেও আমরা কমদামে ডিম কিনতে পারছি না। আমাদের ক্ষতি করে তো আর ডিম বিক্রি সম্ভব না।
এদিকে একই সময় বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির দাম ১০ টাকা বাড়তে দেখা গেছে। এ মুরগির দাম আগের সপ্তাহেও বেড়েছিল। যা এখন বিক্রি হচ্ছে ২০৫ থেকে ২১৫ টাকা পর্যন্ত। যা দুই সপ্তাহ আগে ১৮০ টাকার মধ্যে ছিল।
অন্যদিকে অস্বাভাবিকভাবে সোনালি মুরগির দাম কেজিপ্রতি প্রায় ৫০ টাকা বেড়ে ৩২০ থেকে ৩৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। যা গত সপ্তাহে ২৭০-২৮০ টাকা ছিল।
মুরগির বিক্রেতা সোহাগ বলেন, হুট করেই সরবরাহ কমিয়ে মুরগির দাম বাড়িয়ে দিয়েছে পাইকাররা। ওরা (পাইকারি বিক্রেতারা) জানিয়েছে বন্যা ও বৃষ্টির কারণে মুরগির সরবরাহ কম।
এদিকে মাসখানেক ধরে উত্তাপ ছড়ানো সবজির বাজারও রয়েছে কমতির দিকে। যদিও এখনকার দাম সাধারণ ক্রেতাদের জন্য মোটেই স্বস্তিদায়ক নয়। বাজারে শুধু কমদামের সবজি পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। এরপর রয়েছে পটোল, যার দাম কেজিপ্রতি ৮০ টাকা। এছাড়া ঢ্যাঁড়শ ৮০-৯০, বরবটি ১০০-১২০, গোল বেগুন ১৩০-১৪০, লম্বা বেগুন ১০০-১২০, টমেটো ১৮০-১৯০, ধুন্দল, ঝিঙ্গে ও চিচিঙ্গা ১০০-১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সপ্তাহজুড়ে তেজ ছড়ানো কাঁচামরিচের বাজারও নামতে শুরু করেছে। প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ২৪০ থেকে ৩০০ টাকা দরে। যদিও এখনো কিছু কিছু খুচরা দোকানি এখনো প্রতি একপোয়া (২৫০ গ্রাম) কাঁচামরিচের দাম ৮০ থেকে ১০০ টাকা হাঁকছেন। তারা ১০০ গ্রাম বিক্রি করছেন ৪০ টাকায়।
অপরদিকে চলতি সপ্তাহে তেল ও চিনিতেও শুল্কছাড় দিয়েছে নতুন সরকার। কয়েকজন খুচরা ব্যবসায়ী জানান, শুল্ক কমানোর খবরে পাইকাররা তেল ও চিনির দরে কিছুটা ছাড় দিচ্ছে। তবে ভোক্তারা শুল্কছাড়ের সুফল পেতে কিছু দিন সময় লাগবে। চিনির দর নতুন করে বাড়েনি। বরং এক সপ্তাহে পাইকারিতে বস্তায় (৫০ কেজি) ১০০-২০০ টাকার মতো কমেছে। দুই-তিন দিনের মধ্যে এসব পণ্যের খুচরা দাম কমে আসবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ