নারায়ণগঞ্জে মামলা ও রাজপথে নেই বিএনপির বিদ্রোহীরা
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শনিবার, নভেম্বর ৪, ২০২৩ ৫:১৮ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শনিবার, নভেম্বর ৪, ২০২৩ ৫:১৮ অপরাহ্ণ

এম আর কামাল, নিজস্ব প্রতিবেদক
সরকার পতনের এক দফা আন্দোলনের চুড়ান্ত পর্যায়ে এসে হরতাল-অবরোধের মতো কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি। এসব কর্মসূচি প্রতিহত করতে একের পর মামলা দেয়া হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। মামলা হামলা উপেক্ষা করে জীবন বাজি রেখে দলীয় কর্মসূচি পালন করছেন দল পাগল জিয়ার সৈনিকরা। জানিয়েছেন জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক এমপি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
তবে গত ২৯ অক্টোবরের হরতালের কর্মসূচি কিংবা তিনদিনের লাগাতার অবরোধের একদিনও মাঠে নামতে দেখা যায়নি নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির বিদ্রোহী গ্রæপের নেতাকর্মীদের। কমিটি ঘোষনার পর থেকে মূলধারার সাথে বিদ্রোহ করে আলাদা আলাদা ভাবে কর্মসূচি পালন করে আসলেও দলের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় মুহুর্তে তারা রাজপথ থেকে উধাও হয়ে গেছেন যা হতাশ করেছে বিএনপি নেতা কর্মী ও সমর্থকদের।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব এডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু জানান, আরেকটা বিষয় নেতাকর্মীদের অবাক করেছে আর তাহলো নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন থানায় বিএনপির নেতাকর্মীদেও বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত জেলার ৭টি থানায় ১৫টি নাশকতার মামলা দায়ের হলেও একটিতেও নাম নেই বিদ্রোহী গ্রæপের কারোর। সরকারী দলের নেতাদের সাথে আতাঁতের কারনেই মামলা থেকে বিদ্রেহিদের নিস্তার দেয়া হচ্ছে বলে মনে করছেন তারা। বিশেষ করে বিদ্রোহী গ্রæপের প্রধান নেতা আতাউর রহমান মুকুলের সাথে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি সেলিম ওসমানের অন্তরঙ্গ সম্পর্কেও কারনেই তাদেরকে মামলার ঝামেলা পোহাতে হচ্ছেনা বলে বিশ^াস তৃণমূলের। তবে তৃণমূল এসব সুবিধাবাদি নেতাকর্মীদের চিহ্নিত করে রাখছে এবং যারা দলের এই ক্রান্তিকালেও রাজপথে না থেকে সরকারী দলের সাথে হাত মিলিয়েছে তাদেরকে কড়া জবাব দেয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি সক্রিয় বিএনপি নেতাকর্মীদের।
এ ব্যাপাওে বিএনপির বিদ্রোহী নেতা সাবেক বন্দর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল এ প্রতিবেদককে জনাান, কয়েকদিন আগে পুলিশ আমার বাড়িতে এসে তল্লাশী করেছে। সে সময় আমি বাড়িতে ছিলাম না। বিএনপির নেতাকর্মীদের নামে পুলিশ যে মামলা দিচ্ছে এ গুলো বেশীর ভাগ গায়েবী মামলা। আমার এক নেতা দিদার খন্দকারসহ অনেকের নামে মামলা দিয়েছে। আর মামলায় যদি আমাদের আসামী না করে তা হলে কি করার আছে। তিনি স্থনীয় এমপির সেলিম ওসমানের সাথে আঁতাতের কথা অস্বিকার করেন।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর ঘোষনা করা হয় ৪১ সদস্যের নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটি। এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানকে আহবায়ক এবং এডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে সদস্য সচিব করে কমিটি ঘোষনার পর থেকেই কমিটির বিরোধীতা করে আসছেন নারায়ণগঞ্জ বিএনপির সবচেয়ে বিতর্কিত নেতা আতাউর রহমান মুকুল। কমিটি ঘোষনার কয়েকদিনের মধ্যেই বহিস্কৃত বিএনপি নেতা এডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারের বাসভবনে গিয়ে কমিটি থেকে পদত্যাগ করেন মুকুলের নেতৃত্বে ১৪ জন বিএনপি নেতা।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহবায়ক এডভোকেট শাখাওয়াত হোসেন খান জানান, মুকুলের নেতৃত্বে কিছু বিশৃঙ্খল নেতাকর্মী আলাদা কর্মসূচি পালনের মাধ্যমে দলের মাঝে বিভক্তি সৃষ্টির চেষ্টা করতে থাকে। দলের এই চরম ক্রান্তিকালে যখন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সকল নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার নির্দেশনা দিচ্ছেন তখন সরকারী দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নে দলের মাঝে বিভেদ বিভক্তি সৃষ্টির পায়তারা করছেন মুকুল। ইতিপূর্বে মুকুলের অতীত কর্মকান্ডের ফলশ্রæতিতে তৃণমূল মনে করছে স্থানীয় এমপি একেএম সেলিম ওসমানের প্রেসক্রিপশনেই বিএনপিকে দুর্বল করতে মাঠে নেমেছেন মুকুল। সেলিম ওসমানের আজ্ঞাবহ এই বিএনপি নেতা দলের ঐক্য বিনষ্ট করতে কাজ করেছেন প্রতিনিয়ত।
জনতার আওয়াজ/আ আ