নারায়ণগ ঞ্জ ১বিএনপি’র ঘরে কোন্দল কৌশলী জামায়াত - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১০:৫৯, বুধবার, ১৩ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৬শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

নারায়ণগ ঞ্জ ১বিএনপি’র ঘরে কোন্দল কৌশলী জামায়াত

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বুধবার, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৫ ২:২০ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বুধবার, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৫ ২:২০ পূর্বাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর লাগোয়া নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসন। প্রায় চার লাখ ভোটারের এ নির্বাচনী এলাকায় আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বইতে শুরু করেছে ভোটের হাওয়া। সম্ভাব্য প্রার্থীরা দিন-রাত ব্যস্ত নিজেদের অবস্থান মজবুত করতে। কারও ভরসা হাইকমান্ডের লবিং, কারও সামাজিক কর্মকাণ্ড, আবার কেউবা ধর্মীয়-সাংগঠনিক কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। এবারের নির্বাচনে বিশেষ নজরে রূপগঞ্জ। আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনের চিত্র অনেকটা একতরফা। তবে বিএনপি’র ছয়জন মনোনয়নপ্রত্যাশী এবং জামায়াতের একক প্রার্থী মাঠে সক্রিয় হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সমীকরণ পাল্টে দিচ্ছেন।

নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের ভৌগোলিক অবস্থান এমন, যা সরাসরি রাজধানীর রাজনীতিকে প্রভাবিত করতে পারে। রাজধানীর সঙ্গে সড়ক ও নদীপথের সহজ যোগাযোগ থাকায় আসনটি সবসময়ই রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। রয়েছে দু’টি পৌরসভা ও সাতটি ইউনিয়ন। শিল্প-কারখানা, আবাসন প্রকল্প, কৃষিজমি, নদীপথ ও হাটবাজারকে কেন্দ্র করে এখানে গড়ে উঠেছে এক অনন্য অর্থনৈতিক-সামাজিক কাঠামো। ফলে রূপগঞ্জকে রাজনৈতিক দলগুলো সবসময় ‘ভিআইপি আসন’ হিসেবে দেখে থাকে। স্বাধীনতার পর থেকে ভোটযুদ্ধও ছিল চমকপ্রদ। ১৯৭৯ সালে বিএনপি’র আব্দুল মতিন চৌধুরী জয়ী হন। তিনি ১৯৯১ ও ২০০১ সালেও ফের জয়লাভ করে মন্ত্রিসভার দায়িত্ব পালন করেন। ছিলেন দলটির স্থানীয় কমিটির সদস্য। মাঝে দু’দফা জাতীয় পার্টির সুলতান ভূঁইয়া এমপি নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের কে এম সফিউল্লাহ (বীরউত্তম) জয়লাভ করেন। এরপর ২০০৮ সাল থেকে টানা চারবার জয়ী হন আওয়ামী লীগের গোলাম দস্তগীর গাজী (বীরপ্রতীক)। তিনি গত সরকারের বস্ত্র ও পাটমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন। কথিত আছে, রূপগঞ্জ থেকে যে দলের প্রার্থী নির্বাচিত হন, সরকারও গঠন করে সেই দল। এ কারণে আসনটিকে ‘বারোমাসি রাজনৈতিক কেন্দ্র’ বলা হয়।

তবে এবারের নির্বাচনের হাওয়া একেবারে ভিন্ন। বিএনপি’র মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে ছয়জন ইতিমধ্যে প্রচার চালাচ্ছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা ও বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান মনির। তিনি ২০০৮ ও ২০১৮ সালে দলের প্রার্থী ছিলেন। শক্তিশালী মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে রয়েছে মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপুর নাম। তিনিও দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি। পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করছেন জেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে। এবার নিজের নাম প্রকাশ করেছেন জেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক ও দাউদপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শরীফ আহমেদ টুটুল। হাইকমান্ডে শক্ত লবিং থাকায় তিনিও মনোনয়নের ব্যাপারে আশাবাদী। এদিকে পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি এডভোকেট মাহফুজুর রহমান হুমায়ূন। তিনি দীর্ঘদিন দলকে আগলে রেখেছেন। দুঃসময়ে উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন তিনি। এ ছাড়া জেলা বিএনপি’র সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন এবং কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক। দুলাল হোসেনও এবার নিজেদের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন। তারা সবাই আলাদাভাবে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

অতিরিক্ত মনোনয়নপ্রত্যাশীর কারণে বিএনপিতে শুরু হয়েছে দলীয় বিশৃঙ্খলা। নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষও দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়ছেন। গত এক বছরে বেশ কয়েকটি দাঙ্গা-হাঙ্গামার ঘটনাও ঘটেছে। দলীয় নেতাকর্মী হত্যার শিকার হয়েছেন। যদিও এদের মধ্যে কেউ ত্যাগ, কেউ অভিজ্ঞতা, কেউ আবার তরুণদের সমর্থনকে সামনে রেখে মনোনয়নের আশা করছেন। তবে দলীয় কোন্দল ও গ্রুপিংই বিএনপি’র জন্য বড় অন্তরায় বলে মনে করছেন স্থানীয় বিশ্লেষকরা। অপরদিকে, জামায়াতের কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য আনোয়ার হোসেন মোল্লা নীরবে সাংগঠনিক শক্তি গড়ে তুলছেন। তিনি ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন, যা সাধারণ ভোটারদের মাঝে সাড়া ফেলছে। রূপগঞ্জে দলটির নিজস্ব ভোট ব্যাংক নেই। তবে, ১৫ বছরে তারা সাংগঠনিক ভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠেছেন।
এ ছাড়া এনসিপি’র ইউসুফ হোসেন, সাইফুল ইসলাম রোমান, গণঅধিকার পরিষদের কাউসার আলী, ইসলামী আন্দোলনের মুফতি ইমদাদুল্লাহ হাসেমী ও মুফতি শিব্বির হোসেন, জাতীয় পার্টির সাইফুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন নেতাও প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। যদিও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। ভোটাররা বলছেন, উন্নয়ন হলেও ভূমিদস্যুতা, আবাসন প্রকল্পের দৌরাত্ম্য, মাদক, সন্ত্রাস আর চাঁদাবাজি তাদের বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কৃষিজমি দখল হয়ে গেছে, যুবসমাজ মাদক ও বেকারত্বে বিপথগামী হচ্ছে। ভোটাররা এবার এমন প্রার্থী চান, যিনি ভূমিদস্যুতার বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান নিবেন। মাদক ও সন্ত্রাস দমনে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন। স্বচ্ছ রাজনীতি করবেন। জনগণের সমস্যা সরাসরি সমাধান করবেন।

দলীয় মনোনয়নের ব্যাপারে মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু মানবজমিনকে বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের শতাধিক মামলা নিয়ে তাদের হিটলিস্টে ছিলাম। জেলার হাজার হাজার নেতাকর্মীর মামলার দায়িত্ব আমার কাঁধে ছিল, এখনো আছে। তাছাড়া রূপগঞ্জের মানুষ আমাকে পছন্দ করেন, আপনজন মনে করেন। আশা করি- দল এসব ব্যাপারে চিন্তা করবে। মনোনয়ন না দিলেও অন্য প্রার্থীর জন্য আমার লোকজনসহ কাজ করবো। কাজী মনিরুজ্জামান বলেন, মনোনয়ন পেলে দলের আদর্শ বাস্তবায়ন করবো। রূপগঞ্জের অন্যতম সমস্যা বেকারত্ব নিয়ে কাজ করতে পারবো। আর আওয়ামী সরকারের শত শত মামলা মোকাবিলা করেছি। দলের নীতিনির্ধারকগণ এসব বিষয়ে বিবেচনা করে আমাকেই মনোনয়ন দিবেন। শরীফ আহমেদ টুটুল বলেন, আমি ক্লিন ইমেজ প্রার্থী। যুবসমাজ আমার পাশে। দল আমাকে সুযোগ দিলে আসন পুনরুদ্ধার করবো। নাসির উদ্দিন বলেন, হামলা-মামলা সহ্য করেছি। সবসময় মাঠে ছিলাম। আশা করি ত্যাগের মূল্যায়ন হবে। এডভোকেট মাহফুজুর রহমান হুমায়ূন বলেন, দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত রূপগঞ্জ গড়াই আমার লক্ষ্য। দুলাল হোসেন বলেন, ১৬ বছর হামলা-মামলার শিকার হয়েছি। আমি নিবেদিতপ্রাণ প্রার্থী।

অন্যদিকে জামায়াতের আনোয়ার হোসেন মোল্লা বলেন, আমরা প্রতিহিংসাহীন মানবতার রাজনীতিতে বিশ্বাস করি। মানুষের জন্য কাজ করি। জাতীয় নির্বাচনে মানুষ এর প্রতিদান দিবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপি যদি অভ্যন্তরীণ কোন্দল মেটাতে পারে, তবে রূপগঞ্জ আসন পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বিভক্ত থাকলে জামায়াত বা অন্য কোনো শক্তি ফায়দা লুটতে পারে। ভোটারদের কাছে আসন্ন নির্বাচনের মূল ইস্যু উন্নয়ন নয় বরং ভূমিদস্যুতা, মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি থেকে মুক্তি। পরিবর্তনের প্রত্যাশায় চোখ রাখছে রূপগঞ্জবাসী। দীর্ঘ আওয়ামী শাসনের ক্ষোভকে কাজে লাগাতে পারলে রূপগঞ্জের ইতিহাস নতুন করে লেখা হতে পারে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ