নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার বয়স্ক ভাতা নিয়ে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতির অভিযোগ - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১০:৫১, বুধবার, ১৩ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৬শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার বয়স্ক ভাতা নিয়ে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বুধবার, জুন ৮, ২০২২ ১০:৪১ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বুধবার, জুন ৮, ২০২২ ১০:৪১ পূর্বাহ্ণ

 

নিজস্ব প্রতিবেদক
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার কুতুবপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা দু:স্থ আনোয়ারা বেগম। বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছেন। শরীরে বেঁধেছে রোগব্যাধির বাসা। তার ছেলে মনিরের সাথে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা সমাজসেবা অফিসে বয়স্ক ভাতা পাবার আশায় এসেছেন।
সমাজসেবা অফিসের কর্মচারীরা তাকে জানান, এখন ভাতার তালিকা নতুন কাউকে যুক্ত করা হবে না। সামনের অর্থ বছরে বরাদ্দ আসলে পুনরায় তালিকা করা হবে।
এদিকে উপজেলা অফিসে নতুন ভাতার কার্ড না হলেও সমাজসেবা অফিসের কর্মকর্তা হামিদুল্লাহ মিয়ার (অমিত হাসান) পরিচিত ব্যক্তিরা পাচ্ছে বয়স্ক ভাতার কার্ড।
উপজেলা অফিসের বাহিরে শাওন নামের একজন যুবক উপজেলায় আসন্ন ব্যক্তিদের বয়স্ক ভাতার নিশ্চয়তা দিয়ে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করছেন।
তার পরিচয়ে জানান, তিনি সমাজসেবা অফিসের কর্মকর্তা হামিদুল্লাহ মিয়ার (অমিত হাসান) ভাই। তিনি তার পরিচিত বয়স্ক মানুষের ভাতার কার্ড করে দিচ্ছেন। এখন কার্ডের জন্য আবেদন করলে সমাজসেবা অফিসের থেকে মন্ত্রণালয়ে এই নাম পাঠানো হবে।
আবেদন করলে এই মাসের মধ্যেই তারা পুরো বছরের ভাতা পাবে। সে ২০-২৫টা কার্ডও করে দিতে পারবে বলে জানান।
গতকাল মঙ্গলবার (৭ জুন) দুপুরে সদর উপজেলার সমাজসেবা অফিস প্রাঙ্গণে বয়স্ক ভাতা নিয়ে সমাজসেবা অফিসের কর্মকর্তার স্বজনপ্রীতির এরূপ দৃশ্য দেখা যায়।
সমাজসেবা অফিসের কর্মকর্তার অফিসে হামিদুল্লাহ মিয়ার সাথে শাওনের দীর্ঘক্ষণ কথোপকথন করতে দেখা যায়। আলাপচারিতা শেষে তিনি বয়স্ক ভাতার জন্য কয়েকজন ব্যক্তির তালিকা জমা দিয়ে যান।
এদিকে সমাজ সেবা অফিসের একাধিক কর্মচারী জানান, আগামী অর্থ বছরে বয়স্ক ভাতার কার্ডের জন্য আবেদন করা যাবে। এখন আর কোন আবেদন গ্রহণযোগ্য নয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সমাজ সেবায় দায়িত্বপ্রাপ্তদের এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের স্বজনপ্রীতি ও যোগসাজসের ফলে অনেক দু:স্থ ব্যক্তিরা বয়স্ক ভাতা পাচ্ছে না। অনিয়মই যেন নিয়ম হয়ে উঠেছে সমাজ সেবা অফিসে।
সমাজ সেবা অফিসে আগত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নারী বলেন, আমার মায়ের জন্য ভাতা করতে আসছিলাম। উপজেলা ভাতা অফিস থেকে না করে দিছে। অফিসের দরজার সামনে এই ছেলে (শাওন) বলল, তারে কিছু দিলে সে ভাতার কার্ড করে দিতে পারবে। আর পুরো বছরের টাকাই পাবো।
সমাজ সেবা অফিসের কর্মকর্তা হামিদুল্লাহ মিয়ার সাথে এ প্রসঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, শাওনের ছোট ভাই আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের জুনিয়র। ওই হিসেবে ভাই পরিচয় দিতে পারে। এখন আমরা কোন কার্ড করছি না।
শাওন আমার কাছে তার পরিচিত মানুষের কার্ড করার বিষয়ে কথা বলেছিল। তবে সামনের অর্থ বছরে কার্ডের জন্য আবেদন করা হলে আমরা বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দিতে পারব। এর আগে পারব না।
এ ঘটনার পূর্বে বয়স্ক ভাতার কার্ডের প্রসঙ্গে তিনি প্রতিবেদককে বলেন, গত ২-৩ বছর যাবৎ বয়স্ক ভাতার জন্য বরাদ্দ আসে না। এ জন্য বয়স্ক ভাতার কার্ড আপাতত হবে না।
সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন আহমেদের সাথে এ বিষয়ে কথা হলে তিনি বলেন, সমাজ সেবা অফিসের প্রতিটা ভাতা দেওয়ার নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। ভাতার বরাদ্দ আসলে নির্দিষ্ট সময়ে ভাতার জন্য তালিকা করে ভাতার কার্ড করা হয়।
এই নিয়মের বাহিরে গিয়ে কেউ ভাতার কার্ড করলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত ফেরদৌসের সাথে এ বিষয়ে কথা বলার জন্য মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা চেষ্টা করা হলেও তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ