নারী সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন ইসলামবিদ্বেষী আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান ওলামায়ে কেরামের
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
রবিবার, এপ্রিল ২০, ২০২৫ ১১:২৫ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
রবিবার, এপ্রিল ২০, ২০২৫ ১১:২৬ অপরাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের দেয়া প্রতিবেদন ইসলামবিদ্বেষী। এ প্রতিবেদন নির্দিষ্ট মতাদর্শের রুচির বহিঃপ্রকাশ। এর সাথে দেশের স্বকীয়তা, মৌলিক বিশ্বাস ও বাঙালি নারীর কোনো সম্পর্ক নেই জানিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করে যৌথভাবে বিবৃতি দিয়েছে দেশের শীর্ষ উলামায়ে কেরাম।
রোববার (২০ এপ্রিল) দেয়া এ বিবৃতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আলেমরা।
জানা যায়, শনিবার প্রধান উপদেষ্টার কাছে একটি প্রতিবেদন জমা দেয় নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশন। ওই প্রতিবেদনের প্রস্তাবনা, ভাষা ও যুক্তি পুরো জাতিকে হতাশ এবং ক্ষুব্ধ করেছে জানিয়েছেন দেশের শীর্ষ উলামায়ে কেরাম।
এ সময় উলামায়ে কেরাম বলেন, এ প্রতিবেদন বিজাতীয় ধর্মবিমুখ, পরিবার বিচ্ছিন্ন ও ব্যক্তি স্বতন্ত্রবাদের বিকৃত রুচির বহিঃপ্রকাশ। এখানে তথাকথিত ফ্যামিনিস্টদের পক্ষ থেকে এ দেশের নারীদের হাজার বছরের আকিদা-বিশ্বাস, নৈতিকতা, তাহজিব-তামাদ্দুন ও সভ্যতা-সংস্কৃতির সাথে সম্পূর্ণরূপে সাংঘর্ষিক।
এছাড়া বিতর্কিত এ কমিশন বাংলাদেশের নারীদের সর্বসাধারণের প্রতিনিধিত্ব করে না বলেও জানান তারা।
ওলামায়ে কেরাম আরো বলেন, প্রতিবেদনের এক জায়গায় উপ-শিরোনাম করা হয়েছে, ‘পুরুষের ক্ষমতা ভেঙ্গে গড়ো সমতা’। এ ধরনের ভাষা ও প্রতিপাদ্যই নির্ধারিত ইসলামবিদ্বেষী গোষ্ঠীর চিন্তা ও সমাজ বিচ্ছিন্নতার প্রমাণ করে। বাঙালি নারী কখনোই পুরুষকে প্রতিপক্ষ ভাবেনি বরং সহযোগী ও সহকর্মী ভেবে সামাজিক সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ রয়েছে।
তারা বলেন, পুরুষের সাথে নারীর সম্পর্ক ক্ষমতার নয় বরং মায়া-মমতা ও ভালোবাসার। নারী জাতি আমাদের মা, সহধর্মিণী, বোন, কন্যা ইত্যাদি। তারা সুন্দর পরিভাষায় সসম্মানিত। মায়া-মমতা ও ভালোবাসার সম্পর্কের কারণেই বাঙালি পুরুষ নারীর মর্যাদা রক্ষায় সাধ্যমতো প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকে।
সাবেক ফ্যাসিবাদী সরকার এ দেশের সাধারণ জনগণের উপরে মাত্রাতিরিক্ত নির্যাতন-জুলুম চালিয়েছে। বিশেষ করে আলেম-ওলামাদের বিভিন্নভাবে নির্যাতন চালিয়েছে। বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকার আলেমদের ও ইসলামী মূল্যবোধের যথাযথ মর্যাদা দিবে বলে আশা ব্যক্ত করেন ওলামায়ে কেরামরা।
তারা বলেন, গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত পূর্বের সরকার বাহাত্তরের সংবিধানে ফেরত যাওয়ার আড়ালে দেশকে ইসলাম মুক্তকরণ, শিক্ষাব্যবস্থা থেকে ইসলাম মুক্ত করে নাস্তিক্যবাদী নারী নীতি জোর করে চাপিয়ে দিতে চেয়েছিল। আবারো যদি এমন ঘৃণ্য কর্মকাণ্ড করা হয় তাহলে তাদেরও ফ্যাসিস্টদের ভাগ্য বরণ করতে হবে।
শীর্ষ উলামায়ে কেরামরা প্রধান উপদেষ্টার কাছে জোর দাবি জানিয়ে বলেন, এখনই এ নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনকে বাতিল করতে হবে। একইসাথে তাদের বিতর্কিত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করতে হবে। এছাড়া বাংলাদেশের নারী সমাজের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে হাজার বছরের আকিদা-বিশ্বাস, নৈতিকতাসম্পন্ন ও অনুকূল সংস্কার প্রস্তাব তৈরি করতে হবে।
এছাড়া বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য সংস্কারের নামে সরাসরি কোরআন-সুন্নাহবিরোধী প্রস্তাবনা পেশ করার মতো স্পর্ধা যারা দেখিয়েছে এবং তাদের দোসরদের এখনই স্তব্ধ করত হবে বলে জানান নেতারা। অন্যথায় উদ্বুত যেকোনো পরিস্থিতির জন্য বর্তমান সরকারকেই দায় নিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তারা।
ওলামায়ে কেরামের পক্ষে বিবৃতির সাথে একমত পোষণ করেন অধ্যক্ষ মাওলানা যাইনুল আবেদীন, ইসলামী কানুন বাস্তবায়ন পরিষদের আমির মাওলানা আবু তাহের জিহাদী, মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ আশরাফী, সম্মিলিত উলামা মাশায়েখ পরিষদের মহাসচিব ড. মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানী, হক্কানী পীর মাশায়েখ পরিষদের মহাসচিব মাওলানা শাহ আরিফ বিল্লাহ সিদ্দীকি, খেলাফাতে রববানীর আমির মুফতি ফয়জুল হক জালালাবাদী, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, পীর মাওলানা শরীফ হোসাইন, মুসলিম জনতা পরিষদের আমির মাওলানা আজিজুর রহমান আজিজ, মুফতি মাওলানা নাসির উদ্দীন কাসেমী, শাহ এমদাদুল্লাহ পীর সাহেব।
এছাড়া হক্কানী ত্বরীকত মিশনের আমির শাইখ নুরুল ইসলাম ফয়েজী, হক্কানী ত্বরীকত মিশনের জেনারেল সেক্রেটারি আল্লামা মুস্তাক আহমাদ, ইসলামী ঐক্য মঞ্চ সভপতি মাওলানা ইদ্রিস হোসাইন, সেক্রেটারি আবদুস সাত্তার, খাদেমুল ইসলাম জামাত আমির মাওলানা মুহিবুল্লাহ, জমিয়াতে উলামা দেওবন্দ পরিষদের সভাপতি হযরত মাওলানা মুহাদ্দেস আবদুল্লাহ কাসেমী, সেক্রেটরি হযরত মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক কাসেমী, মীরের সরাইর পীর সাহেব মাওলানা আ: মোমেন নাছেরী, টেকের হাটের পীর সাহেব মাওলানা কামরুল ইসলাম সাঈদ আনসারী, জাতীয় খতীব পরিষদের আমির মুফতি মাওলানা মাউদুর রহমান, হুফ্ফাজ পরিষদ সভাপতি হাফেজ লেয়াকত হোসাইন, সেক্রেটারি মুফতি মাহবুবুর রহমান, ইসলামী অন লাইন অ্যাক্টিভিটস সভাপতি শায়খুল হাদীস মাওলানা আবদুস সামাদ, মহাসচিব মুফতি আবু আনাস, কওমী হাফেজ পরিষদ সভাপতি মুফতি নূরুল আমিন গোপালগন্জী, সম্মিলিত ইসলামিক জোটের আমির মাওলানা আবদুল বাকি, সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মনিরুজ্জামান, জাতীয় ইমাম সোসাইটির মহাসচিব মুফতি জোবায়ের আহমদ কাসেমী, ইসলামী সমাজ সভাপতি মাওলানা রফিকুর রহমান আল কাশেমী, সেক্রেটারি জেনারেল মুফতি জাকারিয়া, ইসলামী জনতা সভাপতি মুফতি আবদুল কুদ্দুস, মহাসচিব হাফেজ আবুল কাসেম, ইমাম কল্যাণ সমিতি সভাপতি পীর সাহেব মাওলানা কুতুবুল ইসলাম মাজহারী, সেক্রেটারি জেনারেল মুফতি আবু সালেহ, আহকামে শরিয়াহর আহ্বায়ক মুফতি মাহবুবুর রহমান, সদস্য সচিব আব্দুস সবুর মাতুব্বর, অধ্যক্ষ মাওলানা লিয়াকত আলী ভূঁইয়া, অধ্যক্ষ আমিরুজ্জামান, মুহাদ্দিস আবু বকর সিদ্দিক, ইমাম মুয়াজ্জিন পরিষদ সেক্রেটারি মুফতি মাহমুদুল হাসান, মাদরাসা কল্যাণ পরিষদের সভাপতি মাওলানা মহিউদ্দীন মাসুম, সেক্রেটারি মাওলানা এখলাছ উদ্দীন, তালিমুল কোরআন সোসাইটির আহ্বায়ক মুফতি আবদুল হালিম, মহাসচিব মাওলানা সিরাজুল ইসলাম, হাফেজ মুফতি মাওলানা আব্দুর রহমান, মাওলানা মুহাম্মদ ইখলাস উদ্দিন, ইসলাহুল উম্মাহ সভাপতি মাওলানা আবু হানিফ নেছারী, অধ্যক্ষ মাওলানা মশিউর রহমান, হাফেজ ফারুক হোসাইন, প্রফেসর মাওলানা মুফতি ইসহাক মাদানী, মাওলানা এহতেশামুল হক, নাস্তিক-মুরতাদ প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস আল কাসেমী, মহাসচিব শাইখ আব্দুল কাউয়ূম, জাতীয় ইমাম উলামা পরিষদের সভাপতি শায়খুল হাদীস মাওলানা ফজলুর রহমান, মহাসচিব মাওলানা এ বি এম শফিকুল্লাহ, মাদরাসা মসজিদ ও খানকা ঐক্যপরিষদ সভাপতি মাওলানা রফিকুর রহমান, সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা গোলাম কিবরিয়া, আল কুরআন ফাউন্ডেশন সভাপতি মুফতি জামাল উদ্দীন ও সেক্রেটারি মুফতি ইসহাক প্রমুখ।-বিজ্ঞপ্তি
জনতার আওয়াজ/আ আ