নিউইয়র্কে বিএনপি-এনসিপি নেতাদের হেনস্তা, দায় কার?মোস্তফা ফিরোজ - জনতার আওয়াজ
  • আজ দুপুর ১২:২৮, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

নিউইয়র্কে বিএনপি-এনসিপি নেতাদের হেনস্তা, দায় কার?মোস্তফা ফিরোজ

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৫ ৯:৩৪ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৫ ৯:৩৪ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত

সিনিয়র সাংবাদিক মোস্তফা ফিরোজ বলেছেন, নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিএনপি ও এনসিপি নেতাদের বিরুদ্ধে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি এখন বাংলাদেশিদের মধ্যে তীব্র আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ অন্য নেতাদের একা হাঁটতে দেখা গেছে। যাদের ঘিরে রেখেছিল আওয়ামী লীগপন্থী বিক্ষোভকারীরা। ভিডিও ফুটেজে ধরা পড়েছে—ডিম ছোড়া, স্লোগান, এমনকি অপমানসূচক কথাবার্তা।

অথচ আশপাশে ছিল না কোনো সংগঠিত দলীয় উপস্থিতি বা নিরাপত্তা। প্রশ্ন উঠছে—এভাবে একটি প্রধান রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের ‘এতিমের মতো’ অবস্থায় ফেলে দেওয়া কেন? দায় কার—দল, আয়োজক নাকি প্রবাসী কমিউনিটির ওপর দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো পক্ষ?
মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিজের ইউটিউব চ্যানেল ‘ভয়েস বাংলা’-তে মোস্তফা ফিরোজ এসব কথা বলেন।

মোস্তফা ফিরোজ বলেন, ‘কয়েকটি ভিডিও আমি দেখলাম। যেখানে হেঁটে যাচ্ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তার সঙ্গে ছিলেন আখতার হোসেন এবং পাশে ছিলেন তাসনিম জারা। পুরো বিক্ষোভজুড়ে সামনে-পেছনে অবস্থান করছিলেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। তারা এত কাছাকাছি ছিলেন ইচ্ছে করলে ধাক্কা দিয়ে ফেলেও দিতে পারতেন, যদিও তারা ধাক্কা দেননি। বরং, আখতার হোসেনকে লক্ষ্য করে যখন ডিম নিক্ষেপ করা হচ্ছিল তখন তাদের কেউ কেউ বলছিলেন, ‘আপারে দিস না, এই আখতারকে দে!’—এই ধরনের মন্তব্যও শোনা গেছে।


তিনি বলেন, “চারপাশে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান ওঠার মধ্যে দৃশ্যটা এমন লাগছিল যেন জেএফকে বিমানবন্দর থেকে কয়েকজন এতিমের মতো নেতারা বের হচ্ছেন—যাদের পাশে দলের আর কোনো নেতাকর্মী নেই। ব্যাপারটা আমার কাছে বিস্ময়কর লেগেছে। কারণ, বাংলাদেশের বিমানবন্দরে তাদের যাত্রার ছবি একসঙ্গে দেখা গেছে, এমনকি বিমানের ভেতরে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সফরসঙ্গী হিসেবেও তাদের ছবি প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর ড. ইউনূস কেন আলাদা হয়ে গেলেন? বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের কাউকে দেখা যায়নি।”

মোস্তফা ফিরোজ বলেন, ‘জামায়াত নেতা তাহের সাহেব, ড. ইউনূস ও তাদের সফরসঙ্গীরা কেন আলাদা হয়ে গেলেন, তা আমি বুঝে উঠতে পারলাম না।

অথচ আগেই তথ্য ছিল, আমেরিকা, কানাডা এবং আশপাশের কয়েকটি দেশ থেকে আওয়ামী লীগের লোকজন আসবেন এবং একটি বড় ধরনের শোডাউনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এই পরিকল্পনা জানা সত্ত্বেও এমন বিশৃঙ্খল, অসংগঠিত পরিস্থিতিতে পড়া—এর পেছনে কী কারণ? বিষয়টি আমার কাছে অত্যন্ত প্রশ্নবিদ্ধ মনে হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘পুলিশি নিরাপত্তার ব্যবস্থা কেন করা হলো না। কেন তাদের (নেতাদের) এভাবে এতিমের মতো একা হেঁটে যেতে হলো? এরপর দেখা গেল, খুব কাছ থেকে তাদের উদ্দেশে ডিম ছোড়া হচ্ছে অথচ বাধা দেওয়ার মতো কেউ নেই। দু-একজনকে দেখা গেছে হাত তুলে কিছুটা ঠেকানোর চেষ্টা করছেন কিন্তু তারাও কারা—তা পরিষ্কার নয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় একটি পূর্ণাঙ্গ, আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পর্যন্ত আসেনি। যদিও ঘটনাটি নিয়ে এনসিপি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে, বিএনপিও বিবৃতির মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া দিয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, যখন এই সফর পরিকল্পনা করা হচ্ছিল তখন কেন শুধু এই তিনটি দল—বিএনপি, এনসিপি এবং জামায়াতকে নিয়েই আয়োজন করা হলো?’

মোস্তফা ফিরোজ প্রশ্ন রাখেন— জেএফকে এয়ারপোর্টে কেউ এলো না কেন? এনসিপির লোকজনই বা কোথায় ছিলেন? সবাই কি শুধু জ্যাকসন হাইটস বা গ্র্যান্ড হ্যান্ডসের সামনেই থাকবে অথচ এয়ারপোর্টে কেউ রিসিভ করতে যাবে না? বিএনপির যেকোনো মাঝারি বা শীর্ষস্থানীয় নেতা গেলেও সাধারণত এয়ারপোর্টে উপস্থিত নেতাকর্মীদের স্লোগানে পুরো জায়গাটা মুখর হয়ে ওঠে। নেতার নাম ধরে স্লোগান, ফুল দিয়ে বরণ—এসব তো খুব স্বাভাবিক দৃশ্য। এসব স্লোগান দেখে অনেক বিদেশি পর্যন্ত অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকত। কিন্তু এবার মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গেলেন অথচ বিএনপির নেতারা কেন এয়ারপোর্ট এলো না। বিষয়টা আমার কাছে একেবারেই অস্বাভাবিক মনে হয়েছে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ