নিউ ইয়র্ক টাইমসের রিপোর্ট, সরকারের প্রতিবাদ - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১:৫৬, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

নিউ ইয়র্ক টাইমসের রিপোর্ট, সরকারের প্রতিবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৩, ২০২৫ ৩:২৬ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৩, ২০২৫ ৩:২৬ পূর্বাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক

বাংলাদেশে ইসলামিস্টদের উত্থান নিয়ে নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে সরকার। রিপোর্টটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। গণ-অভ্যুত্থানে পালিয়ে যাওয়া আওয়ামী লীগ সরকারের সমর্থকরা এই রিপোর্ট নিয়ে প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন। এ ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের এবং গণ-অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেয়া দলগুলোর নেতাকর্মীরা অবশ্য এই রিপোর্টকে অতিরঞ্জিত বাড়াবাড়ি বলে প্রচার করছেন। নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রতিবেদনটি উদ্বেগজনক এবং বিভ্রান্তিকর। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তিতে বলে, নিউ ইয়র্ক টাইমসের নিবন্ধটি ইঙ্গিত দেয় যে, বাংলাদেশে ধর্মীয় চরমপন্থা উত্থানের দ্বারপ্রান্তে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এটি বাংলাদেশের ভুল চিত্র তুলে ধরেছে।

বিভ্রান্তিকর এ চিত্রায়ন কেবল দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক গতিশীলতাকে অতি সরলীকৃত করে না বরং ১৮ কোটি মানুষের একটি সমগ্র জাতিকে অন্যায়ভাবে কলঙ্কিত করার ঝুঁকিও তৈরি করে।
প্রকাশিত নিবন্ধে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ যখন নিজেকে পুনরুজ্জীবিত করছে, তখন কট্টরপন্থি ইসলামিস্টরা একটি সুযোগ দেখতে পাচ্ছে। তবে এ বক্তব্যকে প্রত্যাখ্যান করে প্রেস উইং বলছে, নিউ ইয়র্ক টাইমসের নিবন্ধটি বাংলাদেশ সম্পর্কে একটি উদ্বেগজনক এবং একপেশে দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছে।

প্রেস উইংয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রকাশ করার জন্য সুনির্দিষ্টভাবে উস্কানিমূলক নিবন্ধের ওপর নির্ভর করার পরিবর্তে বাংলাদেশের অগ্রগতিকে স্বীকৃতি দেয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বছর ধরে বাংলাদেশ যে অগ্রগতি করেছে সেটাকে এবং পরিস্থিতির জটিলতাকে স্বীকার করা উচিত।

আরও বলা হয়েছে, যদিও নিবন্ধটি ধর্মীয় উত্তেজনা এবং রক্ষণশীল আন্দোলনের কিছু ঘটনা তুলে ধরেছে, তবে এটি অগ্রগতির বৃহত্তর প্রেক্ষাপটকে উপেক্ষা করেছে। বাংলাদেশ নারীদের অবস্থার উন্নতিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাদের সুরক্ষা এবং কল্যাণের জন্য বিশেষভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এটি এমন একটি সরকার যা নারীর অধিকার এবং সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। অথচ নিবন্ধে এর উল্টোটা বলা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের মতো একটি দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ধর্মীয় সহিংসতার মধ্যে পার্থক্য করা গুরুত্বপূর্ণ। শেখ হাসিনার বিদায়ের পর এবং তারপর থেকে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘটিত অনেক সংঘর্ষকে সামপ্রদায়িক সহিংসতা হিসেবে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যদিও বাস্তবে এসব ঘটনা ঘটেছিল রাজনৈতিক কারণে। রাজনৈতিক দলগুলো প্রায়শই সমর্থন জোগাড় করার জন্য ধর্মকে ব্যবহার করে। যা বিষয়টিকে জটিল করে তোলে এবং রাজনৈতিক অস্থিরতাকে ধর্মীয় নিপীড়নের সঙ্গে মিশিয়ে দেয়ার ঝুঁকি তৈরি করে। সুতরাং পুরো পরিস্থিতিকে সামপ্রদায়িক সংঘাত হিসেবে উপস্থাপন করা বিভ্রান্তিকর। এটি প্রকৃত রাজনৈতিক এবং আর্থসামাজিক বিষয়গুলোকে উপেক্ষা করে।

প্রেস উইং জানিয়েছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সমস্ত সংখ্যালঘু সমপ্রদায়কে রক্ষা করার জন্য তার প্রতিশ্রুতি স্পষ্ট করেছে এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও সন্ত্রাসবাদ দমন প্রচেষ্টার সঙ্গে তার চলমান কাজ এই প্রতিশ্রুতিকে আরও জোরদার করে।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের রিপোর্টে যা বলা হয়: বাংলাদেশে কর্তৃত্ববাদী নেত্রীকে (শেখ হাসিনা) উৎখাতের পর যে রাজনৈতিক শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে তাতে একটি শহরের ধর্মীয় উগ্রপন্থিরা ঘোষণা দিয়েছেন, তরুণীরা আর ফুটবল খেলতে পারবেন না। আরেক ঘটনায় তারা পুলিশকে একজন ব্যক্তিকে ছেড়ে দিতে বাধ্য করেছেন। একজন নারী প্রকাশ্যে মাথার চুল ঢেকে না রাখার জন্য তাকে হয়রান করেন ওই ব্যক্তি। তিনি মুক্তি পাওয়ার পর তার গলায় ফুলের মালা দেয়া হয়েছে।

আরও ভয়াবহ আহ্বান এসেছে। রাজধানী ঢাকার এক প্রতিবাদ র‌্যালি থেকে সতর্ক করা হয়েছে যে, ইসলামকে অসম্মানকারী কোনো ব্যক্তিকে যদি সরকার মৃত্যুদণ্ড না দেয়, তাহলে তারা নিজেদের হাতে এই শাস্তি কার্যকর করবেন। এর কয়েকদিন পরে নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি গ্রুপ বড় এক র‌্যালি থেকে ইসলামিক খেলাফত কায়েমের আহ্বান জানায়। বাংলাদেশ যখন তার গণতন্ত্র এবং ১৭ কোটি ৫০ লাখ মানুষের জন্য একটি নতুন ভবিষ্যৎ নির্মাণের চেষ্টা করছে, তখন ধর্মনিরপেক্ষতার আড়ালে লুকিয়ে থাকা ইসলামিক উগ্রপন্থার ধারাটি ক্রমশ বিকশিত হচ্ছে। এর আগে বেশ কিছু ইসলামিক দল এবং সংগঠন নিষিদ্ধ হয়েছিল। তারা সহ বিভিন্ন ইসলামিক দল ও সংগঠনের প্রতিনিধিরা সাক্ষাৎকারে এটা পরিষ্কার করেছেন যে, তারা বাংলাদেশকে আরও উগ্রবাদের দিকে (ফান্ডামেন্টালিস্ট ডিরেকশন) ধাবিত করার জন্য কাজ করছিলেন। এই পটপরিবর্তন দেশের বাইরে থেকে খুব কমই অনুধাবন করা গেছে। ইসলামপন্থি নেতারা জোর দিয়ে বলছেন, বাংলাদেশে একটি ইসলামিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হোক। যারা ইসলামকে অসম্মান করবে তাদেরকে শাস্তি দেবে এবং শালীনতা বলবৎ করবে। এটা একটা অস্পষ্ট ধারণা, যা অন্যান্য ক্ষেত্রগুলো সতর্কতা এবং কঠোর ধর্মাশ্রয়ী শাসনের পথ তৈরি করেছে।

নতুন সংবিধানের খসড়া নিয়ে কাজ করছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক ক্ষেত্রের এমন কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন যে, এই খসড়া সম্ভবত বাংলাদেশের সংজ্ঞায়িত বৈশিষ্ট্য ধর্মনিরপেক্ষতাকে বাদ দেবে। তার পরিবর্তে প্রতিস্থাপন হবে বহুত্ববাদ এবং দেশকে নিয়ে যাবে আরও ধর্মীয় লাইনে। শেখ হাসিনা বাংলাদেশের দমনমূলক সাবেক প্রধানমন্ত্রী। তাকে উৎখাতে সহায়তা করেছিলেন নারী শিক্ষার্থীরাও। তাদের জন্য উগ্রবাদীদের এই পরিবর্তন বিশেষভাবে বেদনাদায়ক। তারা আশা করেছিলেন যে, তার (শেখ হাসিনা) একদলীয় শাসনের পরিবর্তে একটি গণতান্ত্রিক উন্মুক্ত পরিবেশ আসবে, যাতে দেশের বৈচিত্র্যকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করবে। কিন্তু তারা এখন নিজেদেরকে দেখতে পাচ্ছেন ধর্মীয় বহুত্ববাদের প্রতিযোগী হিসেবে। এই ধর্মীয় বহুত্ববাদে নারীরা এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা ঝুঁকিতে পড়ছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের গ্রাজুয়েট শেখ তাসনিম আফ্রোজ ইমি (২৯)। বলেন, প্রতিবাদ বিক্ষোভের সামনের সারিতে ছিলাম আমরা। রাজপথে আমার ভাইদের রক্ষা করেছি আমরা। কিন্তু ৫ থেকে ৬ মাস পরে এখন সমস্ত কিছু উল্টো হয়ে গেছে।
সমালোচকরা বলেন, ৮৪ বছর বয়সী শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার উগ্রপন্থিদের বিরুদ্ধে যথেষ্ট কঠোর অবস্থান নিতে পারেনি। তাদের অভিযোগ, ড. ইউনূস কোমলতা প্রদর্শন করছেন। গণতান্ত্রিক সংস্কারের আগাছার মধ্যেই হারিয়ে গেছেন। সংঘাতবিমুখ হয়ে পড়েছেন এবং উগ্রপন্থিরা যখন আরও সরকারি স্পেস নিচ্ছে ততই সুস্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি দিতে অক্ষম হচ্ছে। তার সহযোগীরা একটি ভারসাম্যপূর্ণ কর্মকাণ্ডের বর্ণনা দিচ্ছেন। তা হলো বছরের পর বছর কর্তৃত্ববাদের পর তারা মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং প্রতিবাদের অধিকারকে সুরক্ষিত রাখছে। কিন্তু সেটা করতে গিয়ে উগ্রপন্থিদের দাবিকে উন্মুক্ত করে দেয়ার সুযোগ করে দেয়া হচ্ছে।

শেখ হাসিনার পতনের পর ব্যাপকভাবে হাওয়া হয়ে গিয়েছিল পুলিশ। তাদের নৈতিকতা ভেঙে পড়েছিল। তারা আর নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে পারছে না। পুলিশি দায়িত্বের কিছুটা পালন করছে সেনাবাহিনী। তবে অন্তর্বর্তী সরকার ও ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে তাদের ক্রমশ ধূম্রজাল সৃষ্টি হচ্ছে। কারণ, এই দুটি পক্ষ অতীতের নৃশংসতার জন্য এর কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা চায়।
ছাত্রনেতা ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম সম্প্রতি নিজেদের নতুন রাজনৈতিক দল চালু করার জন্য পদত্যাগ করেছেন সরকারি দায়িত্ব থেকে। তিনি স্বীকার করেছেন- ‘ভয়টা সেখানেই’ যে দেশটা ক্রমশ কট্টরপন্থার দিকে পিছলে যেতে পারে। তবে তিনি আশাবাদী। সংবিধানের পরিবর্তন সত্ত্বেও গণতন্ত্র, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং ধর্মীয় উগ্রপন্থার বিদ্বেষ থেকে যেতে পারে। তিনি বলেন, আমি মনে করি না যে, এসব মৌলিক মূল্যবোধের বিরুদ্ধে যায় বাংলাদেশে-এমন রাষ্ট্র গড়ে তোলা যাবে। কেউ কেউ বাঙালি সংস্কৃতির শিল্প ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিতর্কের গভীর ঐতিহ্যের দিকে ইঙ্গিত করেন। আবার কেউ কেউ দেশের অর্থনীতিতে আশার আলো দেখতে পান।

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নারীরা খুব বেশি সম্পৃক্ত। তারা হলেন- দেশের আনুষ্ঠানিক শ্রম শক্তির শতকরা ৩৭ ভাগ। দক্ষিণ এশিয়ায় এই হার সবচেয়ে বেশি। এই শ্রমশক্তিকে পেছনে ফেলে রাখতে যেকোনো প্রচেষ্টা বিপরীত ফল নিয়ে আসতে পারে। শেখ হাসিনা ১৫ বছর ধরে একই সঙ্গে উগ্রপন্থি শক্তির বিরুদ্ধে নিষ্পেষণ চালিয়েছেন। আবার তাদের তুষ্টও করেছেন। এরপর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নিজেদের পথ করে নেয়ার চেষ্টা করছে উগ্রপন্থি শক্তিগুলো। ইসলামপন্থিদের বিরুদ্ধে দমনপীড়ন চালিয়ে হাসিনা দেশকে একটি পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত করেছিলেন। বিশেষ করে যেসব ইসলামপন্থি মূলধারার কাছাকাছি ছিল এবং তারা তার জন্য রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হতে পারতো, তাদের বিরুদ্ধে একই ব্যবস্থা নিয়েছিলেন তিনি। একই সময়ে তিনি হাজার হাজার অনিয়ন্ত্রিত মাদ্রাসা স্থাপনের অনুমতি দিয়েছেন। শত শত মসজিদ নির্মাণে ১০০ কোটি ডলার ব্যয় করেছেন। এর মধ্যদিয়ে তিনি ইসলামী দলগুলোর ধর্মীয় রক্ষণশীল ভিত্তি জয় করার চেষ্টা করেছেন।

শেখ হাসিনার বিদায়ের পর ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র উগ্রপন্থি সংগঠন পুরো সিস্টেমকে আমূল পরিবর্তন করে ফেলতে চায়। অধিক পরিমাণ মূলধারার ইসলামপন্থি দলগুলো চায় গণতান্ত্রিক উপায়ে কাজ করতে। এর ফলে আরও রক্ষণশীল একটি বাংলাদেশের লক্ষ্য সামনে আসছে বলে মনে হতে পারে। সবচেয়ে বড় ইসলামপন্থি দল জামায়াতে ইসলামী এটাকে একটা বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে। এই দলটির বাণিজ্যে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ আছে। তারা দীর্ঘমেয়াদে গেম খেলছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা ও কূটনীতিকরা। যদিও এ বছরের শেষের দিকে প্রত্যাশিত নির্বাচনে দলটির জয় পাওয়ার সম্ভাবনা কম, তবু তারা মূলধারার ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলোকে হেয় করার পুঁজি সংগ্রহ করছে। জামায়াতে ইসলামীর জেনারেল সেক্রেটারি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, তার দল একটি ইসলামিক কল্যাণমূলক রাষ্ট্র চায়। ধর্ম এবং রাজনীতির মিশ্রণে খুব কাছের এমন একটি মডেল হলো তুরস্ক। তিনি আরও বলেন, নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্য আচরণ এবং নীতির বিষয়ে নৈতিক নির্দেশনা দিয়েছে ইসলাম। এই নির্দেশনার অধীনে নারীরা খেলাধুলা, গান, থিয়েটার, বিচারবিভাগ, সামরিক বাহিনী এবং ব্যুরোক্রেসি সহ যেকোনো পেশায় অংশ নিতে পারেন।
তবে বর্তমান শূন্যতার মধ্যে স্থানীয় পর্যায়ে যেসব পুরুষ আছেন তারা তাদের কথাবার্তার মধ্যে ইসলামিক শাসনব্যবস্থার নিজস্ব ব্যাখ্যা দিচ্ছেন।

কৃষিনির্ভর তারাগঞ্জে আয়োজকদের একটি গ্রুপ গত মাসে নারীদের দুই দলের মধ্যে একটি ফুটবল ম্যাচ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়। এর উদ্দেশ্য ছিল বিনোদন এবং স্থানীয় মেয়েদের উৎসাহিত করা। কিন্তু যখন প্রস্তুতি চলছিল তখন সেখানকার এক মসজিদের নেতা আশরাফ আলি ঘোষণা দিলেন, নারী ও মেয়েদের ফুটবল খেলতে দেয়া যাবে না। সাধারণত এমন কোনো খেলার আগে রিকশায় করে লাউডস্পিকারের সাহায্যে খেলার বিস্তারিত বর্ণনা দেন আয়োজকরা। কিন্তু আশরাফ আলি নিজে লোক পাঠিয়ে ওই খেলায় লোকজনকে যোগ না দেয়ার সতর্কতা জানান দেন। ৬ই ফেব্রুয়ারি খেলোয়াড়রা শ্রেণিকক্ষকে ড্রেসিং রুম বানিয়ে সেখানে যখন তাদের জার্সি বদল করছিলেন তখন স্থানীয় কর্মকর্তারা এই খেলা নিয়ে একটি মিটিং করছিলেন। একজন আয়োজক সিরাজুল ইসলাম বলেন- আশরাফ আলি ঘোষণা করেন এই ম্যাচ বন্ধ করতে তিনি প্রয়োজনে শহীদ হবেন। এর ফলে স্থানীয় প্রশাসন নতি স্বীকার করে। তারা খেলা বাতিল ঘোষণা করে সেখানে কারফিউ জারি করেন। এই ম্যাচ খেলার জন্য চার ঘণ্টা সফর করে উপস্থিত হয়েছিলেন তাসলিমা আকতার (২২)। তিনি বলেন, আসার পথে তিনি বিপুল পরিমাণ গাড়ি, সেনাসদস্য ও পুলিশ দেখেছেন। তারা খেলোয়াড়দের বলেছেন খেলা বাতিল হয়েছে। তাসলিমা আকতার বলেন, এক দশক ধরে তিনি ফুটবল খেলছেন। তার মধ্যে এবারই প্রথম এমন বিরোধিতার মুখোমুখি হয়েছেন। এখন কী হবে তা নিয়ে তিনি ভীত ও শঙ্কিত।

আয়োজকরা এর কয়েক সপ্তাহ পরে নারীদের একটি ম্যাচ আয়োজন করেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন নিরাপত্তা রক্ষাকারীদের কয়েক ডজন সদস্য। কিন্তু পূর্ব সতর্কতা হিসেবে মেয়েদেরকে তারা তাদের শর্টসের নিচ পর্যন্ত মোজা পরার আহ্বান জানান। এমন অব্যাহত হুমকির মুখে আয়োজকরা বলেছেন, তারা আবার এমন ঝুঁকি নেবেন কিনা সে বিষয়ে নিশ্চিত নন। সাক্ষাৎকারের সময় মসজিদের ওই নেতা আশরাফ আলি গর্বে উজ্জ্বল হয়ে ওঠেন। তিনি সাধারণ কিছুকে বিতর্কিত করেছেন। তিনি বলেন, তারাগঞ্জের মতো একটি গ্রামীণ জনপদে অশ্লীলতায় অবদান রাখে নারীদের ফুটবল।

নারীদের খেলাধুলা তার সর্বশেষ টার্গেট। বছরের পর বছর ধরে তিনি আহমাদিয়া সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ধর্মীয় বক্তব্য ও পিটিশন দিয়ে আসছেন। এর মধ্যদিয়ে এ সম্প্রদায়ের ৫০০ সদস্যকে তার এলাকা থেকে বিতাড়িত করার চেষ্টা করেছেন। শেখ হাসিনার সরকারের পতনের রাতেই এক দাঙ্গায় হামলা হয়েছে আহমাদিয়া সম্প্রদায়ের উপাসনালয়। এ সম্প্রদায় এখনো আতঙ্কের ভেতর বসবাস করছেন। উপাসনালয়ে তাদের উপস্থিতি কমে প্রায় অর্ধেক হয়েছে। তাদের প্রার্থনা হল মেরামত করতে দেয়া হয়নি। এমনকি প্রার্থনার জন্য লাউডস্পিকারে আহ্বান জানাতে দেয়া হয়নি। সহিংসতার দায় এড়িয়ে গেছেন আশরাফ আলি। তার মতো ধর্মীয় বক্তব্যের প্রচারকরা আহমাদিয়াদেরকে ধর্মদ্রোহী হিসেবে আখ্যায়িত করে তাদেরকে বহিষ্কার প্রয়োজন বলে ঘোষণা করেছেন। তাদের এই প্রতিবাদ অব্যাহত আছে। স্থানীয় আহমাদিয়া সম্প্রদায়ের সভাপতি একেএম শফিকুল ইসলাম বলেন, জনসাধারণ শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু এসব ধর্মীয় নেতা আমাদের বিরুদ্ধে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ