নিজেদের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তাই দিতে পারে না ভারত - জনতার আওয়াজ
  • আজ সন্ধ্যা ৭:১০, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

নিজেদের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তাই দিতে পারে না ভারত

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শুক্রবার, নভেম্বর ২৯, ২০২৪ ৩:৪০ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শুক্রবার, নভেম্বর ২৯, ২০২৪ ৩:৪১ অপরাহ্ণ

 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বাংলাদেশের সংখ্যালঘু পরিস্থিতি নিয়ে অনবরত অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে ভারতের হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো। অথচ বিজেপির শাসনামলে দেশটিতে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা ভুড়িভুড়ি। সংখ্যালঘু হত্যা, গ্রেপ্তার ও শ্লীলতাহানীর ঘটনা বহুবার আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবরের শিরোনাম হয়েছে। যা নিয়ে বারবার উদ্বেগ জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো।

বাংলাদেশকে নিয়ে অপপ্রচারে মেতেছে ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি ও তার সহযোগীরা। ইসকন বহিষ্কৃত নেতা চিন্ময় দাশের গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু পরিস্থিতি নিয়ে বুলি আওড়াচ্ছেন বিজেপির নেতাকর্মীরা। অথচ দলটি ক্ষমতা নেওয়ার পর গত ১০ বছরে দেশটিতে কমেছে সংখ্যালঘুদের স্বাধীনতা। যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা।

বিজেপির শাসনামলেই দেশটিতে বেড়েছে মুসলমান কয়েদির সংখ্যা। ভারতের মোট জনসংখ্যার ১৪ দশমিক ২ শতাংশ মুসলমান হলেও ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর তথ্য বলছে, ভারতের কারাগারে বন্দি ১৯ দশমিক ১ শতাংশই মুসলিম। যার মধ্যে অন্যতম ইসলামিক স্কলার মাওলানা কালিম সিদ্দিকী। ২০২৩ সালের উত্তরপ্রদেশে গ্রেপ্তার করে তার বিরুদ্ধে আনা হয় জোরপূর্বক ধর্মান্তরের অভিযোগ।

এ তালিকায় রয়েছে মুফতি জাহাঙ্গীর আলম কাসমী ও শিক্ষক মোহাম্মদ উমারের নাম। যারা পরিচালনা করতেন বোকা ও বধিরদের একটি স্কুল। গত বছর আইএসের সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগ দিয়ে দিল্লিতে গ্রেপ্তার করা হয় এই দুই নেতাকে। এছাড়া ২০১৬ সালে বিখ্যাত মুসলিম বিদ্বান ড. জাকির নায়েককে ঘৃণা ছড়ানোর অভিযোগ তুলে তাকে ভারতছাড়া করা হয়। বন্ধ করে দেওয়া হয় তার পরিচালিত পিস টিভি।

বারানসির জ্ঞানবাপি, উত্তরপ্রদেশের জামে মসজিদ, বর্তমানে আজমেরি শরিফসহ বিভিন্ন মসজিদ নিয়ে টানা হেচড়া করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে বিজেপি। এসব মসজিদের স্থলে আগে মন্দির ছিল বলে দাবি তুলে চলছে জরিপ, যার প্রতিবাদ করতে গেলে মুসলমানদের উপর চড়াও হয় ভারতীয় পুলিশ। সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশে তিন বিক্ষোভকারীকে গুলি করে হত্যাও করে তারা।

মুঘল স্থাপত্য তাজমহল, লালকেল্লার বিরুদ্ধেও চলছে এমন ষড়যন্ত্র। এছাড়া অযোধ্যার বাবরি মসজিদ ভেঙে দিয়ে গড়ে তোলা হয় রাম মন্দির।

শুধু মুসলমানি নয়, ভারতের মণিপুরেও চলছে সংখ্যালঘু নির্যাতন। গত বছরেই দুই কুকি নারীকে বিবস্ত্র করে শ্লীলতাহানী করা হয় রাজ্যটিতে। দাঙ্গায় প্রাণ যায় প্রায় ৩০০ মানুষের। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে মণিপুর ইস্যুতে উদাসীনতার অভিযোগ এনেছে বিরোধীরা। সিএএ এবং এনআরসির মতো আইনের নিন্দা জানানো হয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনে। সমালোচনা করা হয়েছে বুলডোজার দিয়ে মুসলিম স্থাপত্য গুড়িয়া দেওয়ারও।

তবে ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সংখ্যালঘু নিমূর্লের ঘটনা ঘটানো হয় গুজরাটে। ২০০২ সালে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গায় হত্যা করা হয় এক হাজারের বেশি মানুষকে। যাদের সিংহভাগই ছিল মুসলিম। গত বছর বিবিসির এক তথ্যচিত্রে বলা হয়, ওই দাঙ্গায় প্রত্যক্ষ মদদ ছিল তৎকালীন মূখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ