নিরাপদ কর্ম পরিবেশসহ ৬ দফা দাবি শ্রমিক নেতাদের - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১০:৫৩, বুধবার, ১৩ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৬শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

নিরাপদ কর্ম পরিবেশসহ ৬ দফা দাবি শ্রমিক নেতাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শুক্রবার, এপ্রিল ২৮, ২০২৩ ১১:০০ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শুক্রবার, এপ্রিল ২৮, ২০২৩ ১১:০০ অপরাহ্ণ

 

কর্মক্ষেত্রে নিহত, ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক ও তাদের পরিবারকে আইএলও কনভেনশন ১২১ অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ আইন তৈরি করাসহ ৬ দফা জানিয়েছেন আইইউএফ ফুড এ্যান্ড বেভারেজ ওয়ার্কার্স কাউন্সিল এবং কৃষি ফার্ম শ্রমিক ফেডারেশন। একই সাথে শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ কর্ম পরিবেশ তৈরি করাসহ শ্রম আইনে যে সকল অসঙ্গতি আছে সেগুলো ঠিক করার কথাও জানানো হয়।

শুক্রবার (২৮ এপ্রিল) জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘আন্তর্জাতিক শ্রমিক স্মৃতি দিবস-২০২৩’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা জানানো হয়। এ সময় রানা প্লাজাসহ কর্মক্ষেত্রে নিহতদের স্মরণে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, বাংলাদেশে শ্রম আইনে আঙ্গুল কাটা পড়লে ৬০ হাজার টাকা জরিমানার দেয়ার কথা রয়েছে। আর একজন মারা গেলে মাত্র ২ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়। আর পঙ্গুত্ববরণ করলে আড়াই লাখ টাকা দেয়া হয়। আমি বলব, একজন শ্রমিকের জীবন এতই সস্তা। যারা এই শ্রম আইনগুলো তৈরি করেন তাদের যদি বলি, আমরা সকল শ্রমিকরা চাঁদা উঠিয়ে যদি এক লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেই। তাহলে আপনারা কি আপনার হাতের আঙ্গুল কেটে দিতে পারবেন! এই ধরনের আইন কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। পাশাপাশি আহত শ্রমিকদের পুনর্বাসনের ব্যাপার শ্রম আইনে থাকবে না কেন? তাহলে এটা কি ধরনের শ্রম আইন?

তিনি বলেন, মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে যারা কাজ করেন তারা নিজেদের অনেক বড় মনে করেন। কিন্তু আমি বলব, তারাও কর্মক্ষেত্রে শ্রম শোষণের শিকার। কারণ একই কাজে উন্নত বিশ্বে একজন শ্রমিক যে বেতন পায় বাংলাদেশের মাল্টিন্যাশনালের শ্রমিকরা সে বেতন পায়না।

বাংলাদেশের ক্ষতিপূরণ আইন যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি কামরুল আহসান। তিনি বলেন, কর্মক্ষেত্রে স্বাস্থ্যগত পরিবেশ অত্যন্ত ভয়াবহ। শ্রমিকের নিরাপদ কর্মপরিবেশ জরুরি। সম্প্রতি শ্রমিকদের ধর্মঘটের অধিকারও কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। আইএলও শোভন কাজের কথা বলছে। শোভন কাজ মানে শোভন মজুরি, শোভন কর্মঘণ্টা, শোভন পরিবেশ।

বাংলাদেশ কৃষক-শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক গোলাম ছারোয়ার বলেন, দেশের বেশির ভাগ কর্মস্থলে ঝুঁকিপূর্ণ ও বিপদজনক পরিবেশ বজায় থাকায় শ্রমিকদের মৃত্যুর সংখ্যা এবং আহতের সংখ্যা বাড়ছে। তাজরিন ফ্যাশন, রানা প্লাজা, ট্যাম্পাকো, হাসেম ফুডসে শিশুসহ শ্রমিকদের মর্মান্তিক প্রাণহানি অনিরাপদ কর্মস্থলের ধারাবাহিক পরিণতির কয়েকটি উদাহরণ মাত্রা।

তিনি বলেন, বর্তমানে কিছু কারখানায় নিরাপত্তা কিছুটা বাড়লেও অধিকাংশই শিল্প কারখানায় বিশেষ করে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ কারখানাগুলোতে নিরাপদ কর্মপরিবেশ নেই এবং কারখানার মালিকগণ আইন লঙ্ঘন করে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে শ্রমিকদের কাজ করতে বাধ্য করছে। তাছাড়া কারখানা নিয়মনীতি মানছে কি-না তা নজরদারির ক্ষেত্রেও সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোর অবহেলা রয়েছে। অথচ একটি নিরাপদ এবং স্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশ শ্রমিকের মৌলিক অধিকার হিসেবে আইএলও কর্তৃক স্বীকৃত।

বাংলাদেশ কৃষি ফার্ম শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আব্দুল মজিদ সভাপতির বক্তব্যে বলেন, আলোচনা করে, টক শো’তে সুন্দর সুন্দর কথা বলে কিছু হবে না। শ্রমিকদের কাছে গিয়ে মাঠে কাজ করতে হবে। শ্রমিকদের পক্ষে আন্দোলন সংগঠিত করতে হবে। আমাদের এক হতে হবে। এই দেশে শ্রমিক কৃষকের সংখ্যা বেশি। আমরা ঐক্যবদ্ধ হতে পারলে সামনে আমাদের দাবিগুলো আমরা আদায় করতে পারবো।

কর্মক্ষেত্রে শ্রমিক হত্যা বন্ধ করতে সরকার ও মালিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ৬ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। তাদের দাবিগুলো হলো-

১. কর্মক্ষেত্রে শ্রমিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধে ২০২১ সালের ১০ জুন আন্তর্জাতিক শ্রম কনফারেন্সে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিশ্রুত আইএলও রোডম্যাপ বাস্তবায়ন করা। ২. পেশাগত নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্য বিষয়ক আইএলও-এর মৌলিক কনভেনশন ১৫৫ প্রতিপালন আইন প্রণয়ন করা। ৩. নিয়োগকর্তারা নিরাপদ কর্মস্থল নিশ্চিত করতে তাদের বাধ্যবাধকতা পূরণ করছে কি-না এজন্য ত্রিপক্ষীয় তদারকি কমিটি গঠন করা। ৪. প্রশিক্ষিত পরিদর্শক দ্বারা নিয়মিত কারখানার ঝুঁকি মূল্যায়ন করা এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বাধ্যতামূলক করা। ৫. শ্রমিকের নিরাপদ কর্মপরিবেশ প্রদানে ব্যর্থ ও আইন ভঙ্গকারী নিয়োগকর্তাদের জরিমানাসহ কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা এবং ৬. নিহত, ক্ষতিগ্রস্থ শ্রমিক ও তাদের পরিবারকে আইএলও কনভেনশন ১২১ অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ আইন তৈরি করা।

এ সময় ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন আইইউএফ এশিয়া প্যাসিফিক ন্যাশনাল কোঅর্ডিনেটর নাসরিন সুলতানা। আরও বক্তব্য রাখেন শ্রমিক নেতা শামীম ইমাম, আব্দুল মান্নান, মো. কামরুল ইসলাম, মো. আবুল কালাম, মো. রেজাউল হক, মো. সোহাগ মিয়া প্রমুখ। আইইউএফ ফুড এন্ড বেভারেজ ওয়ার্কার্স কাউন্সিলের অন্তর্ভুক্ত ইউনিয়ন সমূহের প্রতিনিধি, কৃষি ফার্ম শ্রমিক ফেডারেশনের সদস্যরা এবং সঞ্জীব গ্রুপ ওয়ার্কার্স জাস্টিস কমিটির সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ