নির্দলীয় নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করতে হবে : নাগরিক মঞ্চ - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১:৪৫, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

নির্দলীয় নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করতে হবে : নাগরিক মঞ্চ

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: সোমবার, ডিসেম্বর ২৬, ২০২২ ১১:৩২ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: সোমবার, ডিসেম্বর ২৬, ২০২২ ১১:৩২ অপরাহ্ণ

 

নির্দলীয় নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দিতে হবে। দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন পদ্ধতি বাতিল করতে হবে। পাশাপাশি বিরোধীদলীয় সব রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। দেশের জাতীয় আলেমসহ সব আলেম ওলামাদের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে।

আজ সোমবার দুপুরে এক আলোচনা সভায় নাগরিক মঞ্চের নেতারা এসব দাবি জানান। রাজধানীর তোপখানা রোডে বাংলাদেশ শিশুকল্যাণ পরিষদের হলরুমে ‘নাগরিক মঞ্চ’র আত্মপ্রকাশ উপলক্ষে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল, আলেম ওলামাসহ সব রাজবন্দিকে মুক্তি ও নির্দলীয় নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের দাবিতে আলোচনা সভা হয়।

কালবেলা পত্রিকা অনলাইনের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সভায় দেশপ্রেমিক নাগরিক পার্টির চেয়ারম্যান ও নাগরিক মঞ্চের সমন্বয়ক আহসান উল্লাহ শামীমের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন নৈতিক সমাজের সভাপতি ও সাবেক রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল (অব.) আমসাআ আমিন, বাংলাদেশ মুসলিম সমাজের মো. মাসুদ হোসেন, বাংলাদেশ সাংবাদিক ইউনিয়নের মো. শহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির অধ্যাপক বাজলুর রহমান আমিনী, নৈতিক সমাজের মেজর (অব.) মুজিবুল হক, বাংলাদেশ স্বাধীন পার্টির মির্জা আজম, বাংলাদেশ ইসলামি জনতা পার্টির শেখ ওসমান গনি বেলাল, বাংলাদেশ ইসলামিক সমাজতান্ত্রিক দলের ইঞ্জিনিয়ার হাফিজুর রহমান, জাগপার আসাদুর রহমান আসাদ, সুশীল ফোরামের মো. জাহিদ, দেশপ্রেমিক নাগির পার্টির ডা. মো. শওকত হোসেন, নাগরিক পরিষদের মো. শামসুদ্দিন, দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন, বাংলাদেশ আইডিয়াল পার্টির কে এম ইব্রাহিম খলিল, মফস্বল সাংবাদিক পরিষদের শাখাওয়াত হোসেন, বাংলাদেশ মুসলিম সমাজের ডা. মো. মাসুম হোসাইন, শ্রমিক অধিকার পরিষদের আব্দুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইদ্রিস আলী, বাংলাদেশ মুসলিম সমাজের আসাদুল্লাহ দেওয়ান, মনির হোসেন প্রমুখ।

সভায় বক্তারা বলেন, ‘২০০৮ সালে ১/১১ সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় নির্বাচনের মাধ্যমে বর্তমান অবৈধ ও অগণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করার পর থেকে দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত এবং তারই চক্রান্তের অংশ হিসেবে বিডিআর বিদ্রোহের মাধ্যমে ৫৪ জন দেশপ্রেমিক সেনা অফিসারকে হত্যা করে আমাদের সীমান্তকে অরক্ষিত করে। পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও স্বাধীনতার পক্ষ-বিপক্ষ শক্তির ধুয়ো তুলে জাতিকে বিভক্ত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয় এবং তারই প্রমাণস্বরূপ শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের নামে ইসলাম ও ধর্মীয় মূল্যবোধ বিরোধী মঞ্চ তৈরি করে দেশের জনগণের হৃদয় মনে রক্তক্ষরণ সৃষ্টি করে। দেশের শ্রেষ্ঠ আলেম-ওলামাদের সমন্বয়ে সর্বস্তরের জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণআন্দোলন গড়ে তুলে। তখনই এই অগণতান্ত্রিক সরকার আন্দোলনকে নস্যাৎ করার লক্ষ্যে রাষ্ট্রযন্ত্রকে অবৈধ ব্যবহার করে এবং এরই ধারাবাহিকতায় একের পর এক রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।’

তারা বলেন, ‘১৯৯৬ সালে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হলে দেশ-বিদেশে গ্রহণযোগ্যতা পায়। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার যখন বুঝতে পারে যে, জনগণ তাদের এই দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড জেনে গেছে ও নির্বাচনে তাদের ভরাডুবি হবে। তৎক্ষণাৎ তড়িঘড়ি করে আদালতের ঘাড়ে বন্দুক রেখে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিলুপ্ত করে নিজেদের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করে। ২০১৪ সালে রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলেও তারা রাষ্ট্রযন্ত্রকে অবৈধভাবে ব্যবহার করে জনগণকে জুজুর ভয় দেখিয়ে একতরফা নির্বাচনে ১৫৪টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত করে।’

বক্তারা বলেন, ‘তারা সেই অবৈধ নির্বাচনকে বৈধতা দিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতাকে ধরে রেখে একের পর এক দেশবিরোধী চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে। দেশে আজ দুর্নীতির মহোৎসব চলছে। ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের ছত্রছায়ায় দুর্নীতিবাজরা ব্যাংক-বীমা, শেয়ারবাজার থেকে বিভিন্ন ভূঁইফোড় কোম্পানির নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করে বিদেশে পাচার করেছে। কানাডা, মালয়েশিয়ায় বেগমপাড়া গড়ে তুলেছে। দেশে মেগা প্রজেক্টের নামে মেগা দুর্নীতি চলছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করে জনগণের বাক-স্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছেন। অপহরণ, গুম-খুন, মিথ্যা মামলা দিয়ে বিরোধী মত দমনের চেষ্টা করছে। ইতিমধ্যেই আপনারা আয়নাঘর কেলেঙ্কারির মাধ্যমে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ গোয়েন্দা সংস্থাকে বিতর্কিত হতে দেখেছেন। কুইক রেন্টালের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিল বৃদ্ধি করেও জনগণকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দিতে ব্যর্থ হয়েছে। অন্যদিকে তাদের নতজানু পররাষ্ট্র নীতির কারণে ১৫ লাখ রোহিঙ্গার ঘানি রাষ্ট্র বহন করে চলেছে।’

বক্তারা আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকার সুষ্ঠুভাবে দেশ পরিচালনায় সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ। ক্ষমতা গ্রহণের পর অপহরণ-গুম-খুনের মতো জঘন্য কর্মকাণ্ড করে এতটি বছর পার করেছে। এ সরকারকে আর এক মুহূর্ত সময় দেওয়া যায় না। আজ দেশের রিজার্ভ শূন্যের কোঠায় পৌঁছে গেছে। বিদেশিরা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। আইএমএফ ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রেও অনীহা প্রকাশ করছে। এভাবে একটি দেশ চলতে পারে না। গুম হওয়া পরিবারগুলোতে শোকের মাতম চলছে। তাদের দেখার মতো কেউ নেই। অসংখ্য মায়ের বুক খালি করা হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে দেশে এতিমের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে।’

দেশের এই দূরবস্থা ও ক্রান্তিকালে সর্বস্তরের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে তীব্র গণআন্দোলনের মাধ্যমে এই ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটানো ছাড়া বিকল্প কোনো পথ নেই। আর এই উপলব্ধি থেকেই নাগরিক মঞ্চের আত্মপ্রকাশ ঘটল।

কর্মসূচির নিম্নরূপ- মানববন্ধন, নাগরিক সমাবেশ, গণমিছিল, গণঅবস্থান, সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্দলীয় নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের দাবিতে সংসদ অভিমুখে গণপদযাত্রা। এ ছাড়াও দেশের সর্ববৃহৎ বিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপির ঘোষিত ২৭ দফা কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে রাজপথের আন্দোলনে থাকা হবে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ