নির্বাচনি প্রচারে সরগরম ফরিদপুর সবখানেই নির্বাচনি আমেজ বইছে - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১১:৫১, বুধবার, ১৩ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৬শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

নির্বাচনি প্রচারে সরগরম ফরিদপুর সবখানেই নির্বাচনি আমেজ বইছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: সোমবার, নভেম্বর ২৪, ২০২৫ ৩:৪৬ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: সোমবার, নভেম্বর ২৪, ২০২৫ ৩:৪৬ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
ফরিদপুরের চার সংসদীয় আসনে প্রায় ১৮ লাখ ভোটার রয়েছেন। আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রচারকাজ পুরোদমে শুরু করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও নেতা-কর্মীরা। স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও চালাচ্ছেন প্রচার। ফলে গ্রামের চায়ের স্টল থেকে শুরু করে শহরের অলিগলি সবখানেই নির্বাচনি আমেজ বইছে।

জেলার চারটি সংসদীয় আসনে বিএনপি-জামায়াত ও খেলাফত মজলিসের প্রার্থীরা প্রচারে এগিয়ে রয়েছেন। ফরিদপুর-১ (বোয়ালমারী-আলফাডাঙ্গা-মধুখালী) আসনে বিএনপি তাদের দলীয় কোনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা না করলেও মনোনয়নপ্রত্যাশী চার নেতা প্রচার চালাচ্ছেন। তারা হলেন কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ও সাবেক এমপি খন্দকার নাসিরুল ইসলাম, যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহসভাপতি মনিরুজ্জামান মনির, বোয়ালমারী উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু ও ছাত্রদল নেতা জয়দেব রায়। এ আসনে বিএনপি প্রার্থী দিলে জামায়াত ও খেলাফত মজলিসের প্রার্থীর সঙ্গে লড়াই হবে। তবে শক্তিশালী কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হলে ভোটের হিসাব পাল্টে যেতে পারে।

বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী খন্দকার নাসিরুল ইসলাম বলেন, ‘কেন্দ্র থেকে কৌশলগত কারণে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়নি।’ তিনি বলেন, ‘আমি দলের দুর্দিনে কর্মীদের পাশে থেকে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রাম বাস্তবায়নে কাজ করেছি। আশা করছি দল আমাকে মূল্যায়ন করবে।’ আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু বলেন, ‘দল থেকে এখনো কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। আমি মনে করি, সবকিছু বিবেচনা করে দল আমাকেই মনোনয়ন দেবে।’

জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ড. ইলিয়াস মোল্লা বলেন, ‘এবারের নির্বাচনে এ অঞ্চলের মানুষ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেবেন।’ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব মুফতি শারাফাত হোসাইন বলেন, ‘ফরিদপুর-১ আসনের মানুষের পছন্দের তালিকায় আমি রয়েছি। আশা করি, তারা আমাকে নির্বাচিত করবেন।’

ফরিদপুর-১ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৪ হাজার ৪৬১ জন। সবচেয়ে বেশি ভোটার নিয়ে ফরিদপুরের এই আসনটি গঠিত। এ আসনে বরাবরই আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। তবে এবার আওয়ামী লীগের এই দুর্গে বিএনপি আঘাত হানতে পারে বলে মনে করছেন ভোটাররা।

ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা-সালথা) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির সাবেক মহাসচিব ওবায়দুর রহমানের মেয়ে ও কেন্দ্রীয় কমিটির ফরিদপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু। প্রচার চালাচ্ছেন জামায়াতের প্রার্থী সোহরাব হোসেন, খেলাফত মজলিসের প্রার্থী শায়খুল হাদিস আল্লামা আকরাম আলী। এ আসনে বিএনপি প্রার্থীর সঙ্গে খেলাফত মজলিসের প্রার্থীর শক্ত লড়াই হবে বলে ভোটাররা মনে করছেন। তবে বিএনপির সাবেক মহাসচিব কে এম ওবায়দুর রহমানের একটি ভোটব্যাংক এই আসনে বরাবরই রয়েছে। তার সেই ভোটব্যাংকের কারণে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছেন শামা ওবায়েদ।

শামা ওবায়েদ বলেন, ‘এবারের নির্বাচনে মানুষ ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেবেন। আশা করছি, বিপুল ভোটের ব্যবধানে আমি এমপি নির্বাচিত হব। বিগত নির্বাচনগুলোতে সাধারণ মানুষ ভোট দেওয়ার অধিকার পাননি। এবার সেই সুযোগ এসেছে। আশা করছি, ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে আমাকে সংসদে পাঠাবে জনগণ।’

খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আল্লামা আকরাম আলী বলেন, ‘মানুষ ইসলামি দলকে এবার ক্ষমতায় দেখতে চায়। তাই আমি জয়ের ব্যাপারে বেশ আশাবাদী।’

ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা-সালথা) নিয়ে গঠিত আসনটিতে মোট ভোটার ৩ লাখ ৮১ হাজার ৯৭৮ জন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে পর এটি আওয়ামী লীগের আসন হিসেবে পরিচিতি পায়।

ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফের মেয়ে ও মহিলা দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী নায়াব ইউসুফ। জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য আবদুত তাওয়াব। জেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এ আসনে বিএনপির সঙ্গে জামায়াত প্রার্থীর দ্বিমুখী লড়াই হবে বলে ভোটারদের ধারণা। তবে সাবেক এমপি আবদুল কাদের আজাদ নির্বাচন করবেন বলে শোনা যাচ্ছে। তিনি নির্বাচন করলে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বিএনপির প্রার্থী চৌধুরী নায়াব ইউসুফ বলেন, ‘এ আসনটি বিএনপির ঘাঁটি। বিগত দিনে আওয়ামী লীগ বিতর্কিত নির্বাচন করে আসনটি তাদের দখলে রাখলেও এবার মানুষ বিএনপির প্রার্থীকেই ভোট দেবেন।’

ফরিদপুর-৩ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৮৩৪ জন। ২০০৮ সালের পরে এই আসনে আওয়ামী লীগ তিনবার ও স্বতন্ত্র প্রার্থী একবার বিজয়ী হন। এবারের নির্বাচনে বিএনপি আসনটি আবার নিজেদের করে নেবে বলে ধারণা ভোটারদের।

ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা-সদরপুর-চরভদ্রাসন) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল। খেলাফত মজলিসের প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন মাওলানা মিজানুর রহমান মোল্লা, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা সারোয়ার হোসেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন মুফতি রায়হান জামিল ও স্থপতি মুজাহিদ বেগ। এ আসনে বিএনপির প্রার্থীর সঙ্গে খেলাফত মজলিস প্রার্থীর তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে মনে করছেন ভোটাররা।

বিএনপির প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, ‘এই আসনে এবার বিএনপি চমক দেখাবে। মানুষ ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে আমাকে সংসদে পাঠাবেন বলে আশা করছি।’ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মাওলানা মিজানুর রহমান মোল্লা বলেন, ‘মানুষ রিকশা প্রতীকে ভোট দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করবেন।’

ফরিদপুর-৪ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৪৭ হাজার ৬৬৮ জন। এ আসনে সব সময় আওয়ামী লীগ বিজয়ী হলেও ২০১৪ সালের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন বিজয়ী হন। এরপর থেকে পরপর তিনবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হন তিনি।খবরের কাগজ

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ