নির্বাচনে দায়িত্বরত কেউ গণভোটের পক্ষে-বিপক্ষে প্রচার করতে পারবেন না: ইসি
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
মঙ্গলবার, জানুয়ারি ২৭, ২০২৬ ৭:২৩ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
মঙ্গলবার, জানুয়ারি ২৭, ২০২৬ ৭:২৩ অপরাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ফাইল ছবি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও একইসঙ্গে অনুষ্ঠিতব্য গণভোটে দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো নির্বাচনি কর্মকর্তা গণভোটের হ্যাঁ বা না কোনো পক্ষের হয়েই প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না বলে স্পষ্ট করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে ভোটারদের গণভোটে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই বলেও জানিয়েছে সাংবিধানিক এই সংস্থা।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাজধানীর নির্বাচন ভবনে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।
তিনি বলেন, রিটার্নিং অফিসার কমিশনেরই প্রতিনিধি। এ কারণে কোনো অভিযোগ কমিশনে এলেও প্রাথমিকভাবে বিষয়টি মাঠ পর্যায়ে নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি ও বিচারক কমিটি প্রত্যেক আসনে কাজ করছে। যৌথ জেলা জজ পর্যায়ের বিচারকরা সেখানে দায়িত্ব পালন করছেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে অভিযোগ আমলে নিয়ে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। প্রতিদিনই মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হচ্ছে এবং কমিশনে নিয়মিত প্রতিবেদন আসছে। প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ৭০টি মামলা রুজু হচ্ছে। কোথাও জরিমানা, কোথাও শোকজ করা হচ্ছে। অর্থাৎ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম জোরালোভাবেই চলমান রয়েছে।
গণভোটের প্রচার প্রসঙ্গে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, গণভোটে অংশগ্রহণে ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করা হবে। তবে যারা নির্বাচনি দায়িত্বে থাকবেন, তারা আইন অনুযায়ী কোনো পক্ষের হয়ে কাজ করতে পারবেন না। রিটার্নিং অফিসার অর্থাৎ জেলা প্রশাসক, সহকারী রিটার্নিং অফিসার ইউএনও এবং অন্যান্য নির্বাচনি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা গণভোট সম্পর্কে প্রচার কার্যক্রম চালাতে পারবেন, কিন্তু পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান নিতে পারবেন না।
সরকার ও বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা গণভোটের হ্যাঁ পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন, এটি কতটা আইনসঙ্গত— এমন প্রশ্নের উত্তরে মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, নির্বাচন কমিশনার হিসেবে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চান না। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। কমিশন কারও কাছে দায়বদ্ধ নয়।
সিসিটিভি স্থাপন প্রসঙ্গে তিনি জানান, সিসিটিভির হালনাগাদ তথ্য এখনো কমিশনের কাছে আসেনি। মাঠ পর্যায় থেকে কোন কোন কেন্দ্রে স্থানীয়ভাবে সিসিটিভি স্থাপন করা গেছে বা যায়নি, সে সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হবে। যেহেতু এখনও সময় রয়েছে, সেই সময়ের মধ্যেই প্রয়োজনীয় তথ্য কমিশনের কাছে পৌঁছাবে। তথ্য এলে গণমাধ্যমকে জানানো হবে।
ভোটারদের উদ্দেশে বার্তা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, সবাই যেন ভোট দেন এবং গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেন। যে যাকে খুশি তাকে ভোট দিতে পারবেন। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে শতভাগ নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, পুলিশ, আনসার বাহিনীর পাশাপাশি বিএনসিসিকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যাতে জনগণ বিশ্বাসের সঙ্গে ভোটকেন্দ্রে এসে ভোট দিয়ে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেন এবং ভোটের পরও কোনো বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি না হয়।
জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ করা বা নির্বাচনের বাইরে রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা বা তাদের কার্যক্রম বন্ধের বিষয়ে সরকার বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কমিশন কোনো আদেশ পায়নি। ফলে কমিশনের দৃষ্টিতে নিবন্ধিত ও মনোনয়নপ্রাপ্ত সব দলই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে।
এ সময় তিনি আরও বলেন, রিটার্নিং অফিসাররা প্রার্থীদের একত্র করে তাদের কাছ থেকে আচরণবিধি না ভাঙার অঙ্গীকার নিয়েছেন। এর সুফল পাওয়া যাচ্ছে। অতীতের নির্বাচনের তুলনায় এবারের নির্বাচনে শতভাগ আচরণবিধি মানা হয়েছে এমন দাবি না করলেও বাস্তব পরিস্থিতি আগের চেয়ে অনেক ভালো বলে মন্তব্য করেন তিনি। রাস্তাঘাট, মাঠ ও বাজারে গেলেই পরিচ্ছন্ন পরিবেশ চোখে পড়ছে। এর পেছনে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে প্রার্থী ও দলের দেওয়া অঙ্গীকার এবং মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, এই উদ্বুদ্ধকরণের ফলেই প্রায় শতভাগ আচরণবিধি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে বলে কমিশন মনে করে। বর্তমান পরিস্থিতিকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ভালো পরিবেশ হিসেবে দেখছে নির্বাচন কমিশন।
জনতার আওয়াজ/আ আ