নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে কোনো বৈঠকে যাবে না বিএনপি
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
মঙ্গলবার, মার্চ ২৮, ২০২৩ ১০:০০ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শনিবার, জুন ১০, ২০২৩ ৭:৫৭ অপরাহ্ণ

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে কোনো আলোচনায় না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। দলীয় সূত্র জানায়, আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে আলোচনার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়ে গত ২৩ মার্চ ইসি যে চিঠি পাঠিয়েছে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভায় সেই চিঠি নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। সভায় সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয় ইসির সঙ্গে কোনো বৈঠকে না যাওয়ার।
আজ মঙ্গলবার বিকেলে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থায়ী কমিটির দুই সদস্য কালবেলাকে বলেন, বর্তমান ইসির সঙ্গে নির্বাচন ইস্যুতে আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক কোনো বৈঠকে বসবে না বিএনপি। ইসি যে চিঠি দিয়েছে, তারও জবাব দেওয়া হবে না। তবে আজ মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদ সম্মেলন করে এ বিষয়ে বিএনপিদলীয় অবস্থান জানিয়ে দেবে।
এই দুই নেতা আরও বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের গঠন প্রক্রিয়া নিয়েই শুধু বিএনপি নয়, দেশের মানুষের প্রশ্ন রয়েছে। সুতরাং সেই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করে কোনো সুফল আসবে না।
এ ছাড়া ইসির সঙ্গে সংলাপে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত আগেই ছিল। বিএনপি শুধু নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহাল নিয়ে সংলাপ হলে যাবে। অন্য কোনো আলোচনায় দলটি অংশ নেবে না। স্থায়ী কমিটির সভায় সে সিদ্ধান্ত আবারও নেওয়া হয়েছে।
বিএনপির নীতিনির্ধারকেরা মনে করেন, নির্বাচন নিয়ে ইসির সঙ্গে কোনো আলোচনা করে লাভ নেই। কারণ নিরপেক্ষ নির্বাচন করার ক্ষেত্রে ইসির কোনো ক্ষমতাই নেই। এ ছাড়া ইসি নিজেও সরকারের আজ্ঞাবহ। হঠাৎ করে বিএনপিকে আলোচনার জন্য ইসির চিঠিকে গণতান্ত্রিক বিশ্বের ‘চাপ এড়ানোর কৌশল’ বলেও মনে করছেন স্থায়ী কমিটির সদস্যদের কেউ কেউ।
বৈঠকে স্থায়ী কমিটির নেতারা বলেন, নির্বাচন কমিশনের এই আমন্ত্রণ সরকারের কূটকৌশলের অংশ। সরকারের পরামর্শে সংলাপের চিঠি দেওয়া হয়েছে। এটা এক ধরনের নাটক, যার অংশ হতে চায় না বিএনপি। চিঠির জবাব দেওয়া হলে সেটির একটি গুরুত্ব আছে। তাই আমন্ত্রণপত্রের কোনো জবাব দেওয়া যাবে না। বরং নির্বাচন কমিশনের হঠাৎ এই উদ্যোগ নিয়ে নেতারা প্রশ্ন তুলেছেন।
বৈঠকে দলের নেতারা আরও বলেন, এটি নির্বাচন কমিশনের রুটিন ওয়ার্ক। কেউ কেউ চিঠির আমন্ত্রণকে সন্দেহের চোখে দেখছেন। এক নেতা বলেন, বিদেশিদের চাপে এই চিঠি দেওয়া হয়েছে। সরকার জানুয়ারির আগে নির্বাচন করতে চায়। তাই রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আগেভাগে আলোচনা শুরু করছে।
এ ছাড়া বিএনপি ও বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে দেশজুড়ে মাসব্যাপী ইফতার মাহফিলের যে কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে তা সংক্ষিপ্ত করার বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি নওগাঁয় র্যাব হেফাজতে নারীর মৃত্যুর ঘটনায় বিএনপি আরও সোচ্চার হবে। এ বিষয়ে বিএনপি দলীয়ভাবে আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি গ্রহণ করবে। জাতীয়তাবাদী মহিলা দল ও বিএনপি গঠিত নারী ও শিশু অধিকার ফোরাম পৃথক কর্মসূচি গ্রহণ করবে। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গুম ও খুন শুরু হয়েছে অভিযোগ এনে আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও দেবে দলটি।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল সভায় আরও অংশ নেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমেদ, সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
জনতার আওয়াজ/আ আ