নির্বাচন বর্জনের আহ্বান সমমনা ৪ ইসলামী দলের
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ৪, ২০২৪ ৮:৫৯ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ৪, ২০২৪ ৮:৫৯ অপরাহ্ণ

নিউজ ডেস্ক
আগামী ৭ জানুয়ারির নির্বাচন বর্জনের আহবান জানিয়েছে চার ইসলামী দল। বৃহস্পতিবার (৪ জানুয়ারি) এক আলোচনা সভা থেকে তারা এ আহ্বান জানান।
দলগুলো হলো- জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও নেজামে ইসলাম পার্টি।
সমমনা ইসলামী দলগুলোর শীর্ষ নেতারা বলেন, আগামী ৭ জানুয়ারীর নির্বাচন জাতির সাথে প্রহসন ও উপহাস করার নির্বাচন। ভোটাধিকারের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের গণদাবীকে উপেক্ষা করে সাজানো ও পাতানো এই নির্বাচনের ফলে বর্তমান সংকট আরো তীব্রতর হবে এবং দেশ ভয়াবহ ঝুঁকিতে পড়বে। আমরা দেশের জনসাধারণকে তামাশা, প্রহসন ও একদলীয় এই নির্বাচন বর্জন করার আহ্বান জানাচ্ছি।
পল্টনস্থ জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের দলীয় কার্যালয়ে ‘একদলীয় নির্বাচন ও জাতির ভবিষ্যত’ শীর্ষক এ আলোচনা সভায় জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফীর সভাপতিত্বে ও মহসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দীর সঞ্চালনায় বক্তৃতা করেন খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন আহমদ, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মাওলানা আজীজুল হক ইসলামবাদী, জমিয়তের সহ-সভাপতি ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস কাসেমী, কেন্দ্রীয় সহ-প্রচার সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর উত্তর জমিয়তের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা নূর মোহাম্মাদ কাসেমী ও কেন্দ্রীয় যুব বিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক মুফতী বশীরুল হাসান খাদিমানী।
সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী বলেন, ‘পাতানো এই নির্বাচনে কারা কারা বিজয়ী হবেন তাদের তালিকা ইতোমধ্যেই গণভবনে তৈরী হয়ে আছে, ফলে এই নির্বাচনে ভোট দেয়া আর না দেয়া দুটোই সমান।’
তিনি আরো বলেন, ‘যারাই ভোটে গেছেন সবাই সরকারি দলের সমর্থক। সমঝোতা করেই আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সবাই নির্বাচন করছেন। একটা দল খুঁজে পাবেন না, যারা আলোচনা ছাড়া গেছেন। এমনকি শেষ মুহূর্তে যারা নির্বাচন থেকে সরে যাচ্ছেন তাদের মুখেও সেই সত্যকথা উচ্চারিত হচ্ছে। তারা নিজেরা স্বীকার করছেন আওয়ামী লীগ কথা না রাখায় নির্বাচন বর্জন করছেন। কাজেই সমঝোতার নির্বাচনের মধ্যদিয়ে আওয়ামী লীগের অধীনে দেশে একটি রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আশঙ্কা করছি। তাই বলে আমরা বসে থাকবো না। আমরা আমাদের মতো আন্দোলন চালিয়ে যাবো। নির্বাচন বর্জন করলেও নির্বাচন হয়ে যাবে, কিন্তু তারপরও আপনাদের বলবো, নির্বাচনে ভোট দিয়ে তামাশার নির্বাচনের অনৈতিক সঙ্গী হবেন না।’
মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী বলেন, ‘জমিয়ত, খেলাফতসহ আমাদের চারটি শরিকদল দেশ ও জাতির স্বার্থে এই তামাশার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করি নাই। শেষ পর্যন্ত আমরা সম্মিলিতভাবে এই নির্বাচনের বিরুদ্ধে মাঠে রয়েছি। সরকারের সাথে সমঝোতা করে এই প্রহসনের নির্বাচনে না গিয়ে জনগণের পাশে অবস্থান নিয়েছি। শেষ মুহূর্তে ওই অবস্থানে অটল রয়েছি আমরা। এজন্য আমরা মহান আল্লাহর শোকরিয়া জ্ঞাপন করছি।’
জমিয়তের মহাসচিব মনজুরুল ইসলাম আফেন্দি বলেন, ‘আমরা পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করিনি। তাইবলে আমরা বসে থাকবো না। প্রহসনের নির্বাচনের বিরুদ্ধে সমমনা ইসলামী দলগুলোকে সাথে নিয়ে আমরা আন্দোলন করে যাচ্ছি। ভোটদান থেকে বিরত থাকতে জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য আমরা কর্মসুচি চালিয়ে যাচ্ছি। আশা করছি, দেশের মানুষ তামাশার নির্বাচনে যাবে না।’
এ সময় দেশবাসীকে নির্বাচন বর্জন করার আহ্বান জানান আফেন্দি।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব জালাল উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এটা মামা-ভাগিনাদের ভাগ-বাটোয়ারার নির্বাচন। এই তামাশার মেলায় আপনারা দেখেছেন, অনেক দলের প্রার্থী দলীয় প্রতীক বাদ দিয়ে নৌকা চায়। মানে হলো নৌকা পাইলে এমপি হয়ে যাবে।’
নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আজীজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, ‘জালিম সরকারের বিরুদ্ধে নির্বাচন না করার সিদ্ধান্ত কঠিন সিদ্ধান্ত। এই সিদ্ধান্ত জনগণের পক্ষে। নির্বাচন বর্জন করে সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে হবে।’
জনতার আওয়াজ/আ আ