নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক সংকুচিত হতে পারে - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১১:৫১, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক সংকুচিত হতে পারে

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: রবিবার, অক্টোবর ১, ২০২৩ ১০:৪২ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: রবিবার, অক্টোবর ১, ২০২৩ ১০:৪২ অপরাহ্ণ

 

নিউজ ডেস্ক

বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছে। এজন্য শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক নির্বাচন কমিশন প্রয়োজন। আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কও সংকুচিত হতে পারে। অন্যদিকে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে যে সরকারই থাকুক, তারা দুদেশের সম্পর্ক নিয়ে একইভাবে কাজ করে। আওয়ামী লীগ যা কিছুই করুক না কেন, ভারত তা সামাল দেবে বলে বাংলাদেশে একটা ধারণা তৈরি হয়েছে।

রবিবার (১ অক্টোবর) ফোরাম ফর বাংলাদেশ স্টাডিজ আয়োজিত ‘বাংলাদেশের নির্বাচনে বিদেশি শক্তির প্রভাব’ শীর্ষক ওয়েবিনারে এ অভিমত প্রকাশ করেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।

ওয়েবিনারে মূল বক্তা ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির রাজনীতি ও সরকার বিভাগের অধ্যাপক আলী রীয়াজ। সাংবাদিক মনির হায়দার ওয়েবিনারটি সঞ্চালনা করেন।

এতে আলোচক হিসেবে অংশ নেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির ও ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুরের ইনস্টিটিউট অব সাউথ এশিয়ান স্টাডিজের নন-রেসিডেন্ট সিনিয়র ফেলো ড. শ্রীরাধা দত্ত।

মূল বক্তব্যে অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, ’বাংলাদেশের রাজনীতিতে বাইরের প্রভাবের সবচেয়ে বড় উদাহরণ হলো ভারত। আজকে ভারত কিছু বলছে না, এটাও একটা বার্তা। গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য সরকার আস্থা তৈরি করতে পারছে না। এই বাস্তবতা ভারত কি গ্রহণ করছে? যুক্তরাষ্ট্র কিন্তু এ বাস্তবতা গ্রহণ করেছে। ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে কোনো শুভেচ্ছাবার্তা আসেনি, এমনকি তৎকালীন ট্রাম্প প্রশাসনও পাঠায়নি। এ বিবেচনাগুলো প্রতিবেশী হিসেবে ভারত করছে কি-না। বাংলাদেশে গণতন্ত্র যত সংকুচিত হবে, ততই এখানে চীনের প্রভাব বিস্তারের পরিধি বাড়বে।’

ড. শ্রীরাধা দত্ত বলেন, ’নিজেরা ঠিক না থাকলে বাইরের লোক কথা বলার সুযোগ পায়। দিল্লিতে যে সরকারই থাকুক না কেন, তারা ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে একইভাবে কাজ করে। আওয়ামী লীগ যা কিছুই করুক না কেন, ভারত তা সামাল দেবে বলে বাংলাদেশে একটা ধারণা তৈরি হয়েছে। ভারত চাইবে ২০২৪ সালে এই সরকারের অধীনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হোক।’

তিনি বলেন, ’বাংলাদেশে সমস্যা হচ্ছে প্রতিষ্ঠানগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। এটা নিজে থেকে খারাপ হয় না। এটা কোনো ব্যক্তি বা গ্রুপ দ্বারা প্রভাবিত হয়ে থাকে। ২০০৮ সালে যেভাবে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ঠিক করা হয়েছিল, তাতে নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক করা হয়েছিল। সে অবস্থা এখন আর নেই। আমরা এখন যে পরিস্থিতি দেখছি সেখানে কোথাও অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের অবস্থা দেখছি না। তবে সুষ্ঠু নির্বাচন করতে একমাত্র জোর দিতে পারে আমেরিকা।’

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ’বাংলাদেশের ইতিহাসে দলীয় সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়নি। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলোতে ক্ষমতার পালাবাদল হয়েছে। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী অসাংবিধানিকভাবে পাস করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্যই ছিল ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করা।’

তিনি বলেন, ’মানবাধিকার কারও অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির স্পন্দনই হলো গণতন্ত্র ও মানবাধিকার। তারা বাংলাদেশ বিষয়ে যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে, এগুলো হস্তক্ষেপ নয়। এগুলো তাদের মূল্যবোধভিত্তিক পররাষ্ট্রনীতিরই অংশ। আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে বর্তমান নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে।’

সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির বলেন, ’বাংলাদেশকে বিশ্বের মানুষ গণতান্ত্রিকই দেখতে চায়। আমাদের অভ্যন্তরীণ ঘাটতিগুলোর কারণে বাইরের কথা শুনতে পাই। নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক সংকুচিত হয়ে যাবে।’ বাংলাদেশ ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে বের হওয়ার পর যেসব চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হবে, সেগুলো মোকাবিলা করার জন্য জাতীয় ঐকমত্য প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ