নির্বাহী আদেশে খালেদা জিয়ার মামলাও প্রত্যাহার চায় গণতন্ত্র মঞ্চ
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৩ ১০:৪৯ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৩ ১০:৪৯ অপরাহ্ণ

নির্বাহী আদেশে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দণ্ড স্থগিত করে সাময়িক মুক্তি দেওয়া হয়েছে। একই প্রক্রিয়ায় এবার তার মামলাও প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে সাত দলীয় রাজনৈতিক জোট গণতন্ত্র মঞ্চ।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিএনপির লিয়াজোঁ কমিটির সঙ্গে গণতন্ত্র মঞ্চের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মঞ্চের সমন্বয়ক রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ূম এ আহ্বান জানান।
খালেদা জিয়ার রাজনীতি করতে পারা না পারার প্রশ্নে কয়েক দিন ধরে সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী কথা বলছেন। এসব বক্তব্যের ব্যাপারে হাসনাত কাইয়ূম বলেন, ওনারা যদি বোঝেন, ওনার (খালেদা জিয়া) রাজনীতি করার অধিকার আছে, সে অধিকার তো জেলে থাকলেও থাকে। জেলে থেকে নির্বাচনও করতে পারেন। ওনারা আরও বলছেন, উনি (খালেদা জিয়া) দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার পর নির্বাহী আদেশে সাময়িক মুক্তি দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ ওই এক্সিকিউটিভ অথরিটি ওনাদের আছে। ওনারা চাইলে মামলাটিও প্রত্যাহার করতে পারেন। এখানে আসলে তারা (সরকার) এক ধরনের ধোঁয়াশা তৈরি করার চেষ্টা করছে।
এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, খালেদা জিয়া রাজনীতি করলে জেলে পাঠিয়ে দেব আবার। আবার তারই আইনমন্ত্রী হঠাৎ করে বলছেন, রাজনীতি করতে মানা নেই। আমরা কোনটা ধরব। দুটো বক্তব্যকে এক করেন। বুঝবেন, ওরা কী মিন (বোঝাতে) করছে। এটা (মন্ত্রীদের বক্তব্য) নিয়ে আমরা খুব ইন্টারেস্টেড না। এটাকে আমরা অবান্তর মনে করি। বিএনপি এ বক্তব্য নিয়ে মোটেও উদ্বিগ্ন না।
খালেদা জিয়া রাজনীতি করতে পারবেন, সরকারি দলের মন্ত্রীদের এ বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, এ রকম একটা প্রস্তাব যখন আসে, তখন আমি বলব বিএনপি বিচক্ষণতার সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। বেগম জিয়া ইজ এ প্রোডাক্ট অব পলিটিকস। উনি পলিটিকস করবেন না, এটা তো কখনোই হতে পারে না। কিন্তু এটা বলে নতুন করে আরও কোনো জাল বিছানো হচ্ছে কি না, আমার মনে হচ্ছে বিএনপি এটা বুঝতে চাইছে এবং বোঝার এই চেষ্টাটা ঠিক আছে তাদের। যখন বুঝে ক্লিয়ার হবেন, তখন ওনারা (বিএনপি) তো বলবেন; আমরাও বলব জোটের নেত্রী হিসেবে উনি (খালেদা জিয়া) সামনে আসুক।
এ সময় বিএনপি ও গণতন্ত্র মঞ্চের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২৫ ফেব্রুয়ারি জেলা পর্যায়ে যুগপৎ পদযাত্রা কর্মসূচি হবে। বৈঠকে যুগপৎ আন্দোলনের যৌথ ঘোষণা এবং পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেভাবে ছাত্রীদের নির্যাতন-অত্যাচার করা হচ্ছে, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তারা শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাসের প্রতিবাদে সারা দেশে যুগপৎ কর্মসূচি দেওয়ার কথা ভাবছেন।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, গণতন্ত্র মঞ্চের পক্ষ থেকে যুগপৎ আন্দোলনের ৭ দফা যৌথ রূপরেখা চূড়ান্ত করে বিএনপির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এটা নিয়ে আজ শুক্রবার সব দলের লিয়াজোঁ কমিটির সঙ্গে বৈঠক করবে বিএনপি।
বৈঠকে অন্যদের মধ্যে বিএনপির বরকত উল্লাহ বুলু, জেএসডির আ স ম আব্দুর রব, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
জনতার আওয়াজ/আ আ