নির্যাতন বন্ধে সরকারি হস্তক্ষেপ চান যৌনকর্মীরা - জনতার আওয়াজ
  • আজ বিকাল ৩:১০, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

নির্যাতন বন্ধে সরকারি হস্তক্ষেপ চান যৌনকর্মীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৪ ৭:৪৮ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৪ ৭:৪৮ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
বিভিন্ন এলাকায় যৌনকর্মীদের ওপর নির্যাতন বন্ধে সরকারি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি যৌনকর্মীদের ওপর নির্যাতন বন্ধে ১০ দফা দাবিও জানিয়েছেন তারা। বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন যৌনকর্মীদের সংগঠন ‘সেক্সওয়ার্কারস নেটওয়ার্ক‍.।

এ সময় সংগঠনের সদস্য শ্রাবন্তী বলেন, যৌন পেশার সঙ্গে জড়িতরা আজও রয়ে গেছে অবহেলিত, নিপীড়িত ও নির্যাতিত৷ বার বার আন্দোলনের ফলে বর্তমানে যৌনকর্মীদের স্বাস্থ্য ও তাদের সন্তানদের শিক্ষা বিষয়ে খুব সামান্য ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। তবে তাদের নিরাপদ কোনো আশ্রয় নেই। এখনো তারা আইনগতভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে পদে পদে৷

তিনি বলেন, বিভিন্ন এলাকায় যৌনকর্মীদের একদল যুবক সংঘবদ্ধ হয়ে শারীরিকভাবে নির্যাতন করছে ও ঢাকার বিভিন্ন স্থানে যেমন- যাত্রাবাড়ী, কোর্ট এলাকায়, শ্যামলী, শহীদ মিনার, মিরপুর মাজার রোড, ফার্মগেট, আসাদগেট, উত্তরা, কুড়িল ও বাড্ডা বিভিন্ন জায়গায় প্রতিদিন যৌনকর্মীদের শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে। এতে একাধিক যৌনকর্মী শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছে।

গত ২৯ আগস্টে সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওর কথা উল্লেখ করে সংগঠনটি জানায়, ভিডিওতে দেখা যায় একজন যুবক শ্যামলীতে ভাসমান যৌনকর্মীদের ওপর নির্বিচারে নির্মমভাবে লাঠিপেটা করে। শুধু লাঠিপেটা নয় এই ভাসমান যৌনকর্মীদের সঙ্গে থাকা নগদ অর্থ ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। ভাইরাল ভিডিওটির কারণে একজন যৌনকর্মীর সন্তান ট্রমাটাইজড হয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে, এতে করে সন্তান ও মায়ের সম্পর্কের মাঝে তিক্ততা, টানা-পোড়েন সৃষ্টি হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে সেক্সওয়ার্কারস নেটওয়ার্ক সভাপতি আলেয়া আক্তার লিলি বলেন, ১৮ বছর হলে যেকোন পেশায় যেতে পারবে। আমরা চাই স্বীকৃতি দেয়া হউক।

অন্য আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ব্রুথেল যেগুলো ইচ্ছেদ করা হয়েছে তারা তো আর দেশের বাইরে চলে যায়নি। তারা কোথায় যাবে? যদি তারা ব্রুথেলে থাকতো তাহলে কি অসুবিধা ছিল? কেন তাদের সেখান থেকে উচ্ছেদ করা হলো?

নতুন ব্রুথেল না চেয়ে ভাসমান কেন থাকতে চান এমন প্রশ্নের জবাবে লিলি বলেন, দেশে এগারোটা ব্রুথেল আছে। সেগুলো এখনো উচ্ছেদের আতঙ্কে থাকে। আবার নতুন করে চাওয়ার মতো সেই সুযোগটাই আমাদের নেই। যেখানে পুরাতন ব্রুথেলগুলোই উচ্ছেদের মুখে সেখানে নতুন করে স্থান চাওয়ার সাহস কোথায় পাবো?

সংবাদ সম্মেলনে জানানো ১০ দফা দাবিগুলো হলো-

১. যৌনকর্মীদের ওপর নির্যাতনকারীদের আইনের আওতায় আনতে হবে এবং দ্রুত শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

২. যৌনকর্মীদের নিরাপত্তার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও দফতরের কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে হবে।

৩. স্থানীয় প্রশাসনকে স্থানীয়ভাবে যৌনকর্মীদের সুরক্ষা দিতে হবে।

৪. ব্রুথেল উচ্ছেদ বন্ধ করতে হবে।

৫. পুলিশ দ্বারা যৌনকর্মীদের ওপর আইনের অপপ্রোয়গ বন্ধ করতে হবে।

৬. যৌনকর্মীদের সুস্থ, নির্বিঘ্ন, মূল স্রোতধারার পরিবেশে বেড়ে উঠার সুযোগ করে দিতে হবে।

৭. যৌনকর্মীদের কবরস্থানের জন্য কোনো পার্থক্য করা যাবে না। মূল স্রোত ধারার/ সামাজিক ব্যবস্থায় কবরের ব্যবস্থা থাকতে হবে।

৮. যৌনকর্মীদের নির্বিঘ্ন জীবনযাপন এবং সার্বিক নিরাপত্তার প্রতি উপদেষ্টা মন্ডলীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

৯. যৌনকর্মী নয় বরং মানুষ হিসেবে তাদের মৌলিক মানবাধিকার রক্ষায় নিপীড়ন ও শোষণ বন্ধ করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

১০. সকল ধরনের নারী নির্যাতন এবং যৌন হয়রানী বন্ধে আইনের সঠিক বাস্তবায়ন করতে হবে।

উপস্থিত ছিলেন সেক্সওয়ার্কার নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক নিলুফা, সাবেক সভাপতি শাহনাজ, ট্রান্সজেন্ডার প্রতিনিধি ইভানা কথা, বঞ্চিত নারী সংগঠন নেত্রী রানু প্রমুখ।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ