নির্যাতন, হামলা-মামলা ও গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে ২০২২ পার করল বিএনপি
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
সোমবার, জানুয়ারি ২, ২০২৩ ৫:৩৪ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
সোমবার, জানুয়ারি ২, ২০২৩ ৫:৩৪ পূর্বাহ্ণ

নির্যাতন, হামলা-মামলা ও গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে ২০২২ পার করল বিএনপি। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আন্দোলনমুখী বিএনপির জন্য ২০২৩ সালও আরও কঠিন হবে। আরও কৌশলী না হলে রাজনীতির মাঠে টিকে থাকা বিএনপির জন্য আরও প্রতিকূল হবে। দলের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, নতুন বছরে তাদের সামনে যত চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তন্মধ্যে প্রধান চ্যালেঞ্জ ৪টি। এগুলো হচ্ছে (১) সরকার পরিবর্তনের দাবিতে চলমান আন্দোলন-কর্মসূচির পক্ষে জনগণ ও প্রশাসনের মধ্যে আস্থা তৈরি করা, (২) গ্রেপ্তার এড়ানো ও নেতাকর্মীদের মুক্ত করা, (৩) নিষ্ক্রিয় নেতাকর্মীদের সক্রিয় করা এবং (৪) সদ্য ঘোষিত ১০ দফা বাস্তবায়ন করা। এদিকে, ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাষ্ট্র মেরামতের ২৭ দফা রূপরেখার পক্ষে জনমত তৈরিতে আবারও দেশের জেলা সফরে যাবেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য, ভাইস চেয়ারম্যান, উপদেষ্টা ও যুগ্ম মহাসচিবসহ শীর্ষ নেতারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চূড়ান্ত আন্দোলনের আগে সরকারবিরোধী জোট ও দলগুলোর সঙ্গে ঐক্য আরও মজবুত করবে বিএনপি। নিজেদের মধ্যে যাতে দূরত্ব ও ভুল বোঝাবুঝি না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকবেন নেতারা। যুগপৎ আন্দোলনে থাকা ছোট ছোট কিছু দলকে নানা প্রলোভনে সরকারের পক্ষে জোট ভাঙার চেষ্টা হতে পারে। এ বিষয়েও বিশ্বাস ও আস্থার জায়গা তৈরি করা হবে। সেজন্য সমমনা অনেক ছোট দলের আবদারকে বিএনপি গুরুত্ব দেবে।
বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মতে, বিগত বছরের চেয়ে নতুন বছরে সরকার আন্দোলন দমনে আরও কঠিন হবে, এ নিয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই। এটা মাথায় রেখেই তাদের কর্মসূচি নিয়ে মাঠে থাকতে হবে। বিশেষ করে চলমান আন্দোলনে সরকারবিরোধী সব
দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করার কোনো বিকল্প নেই। এবার ব্যর্থ হলে নেতাকর্মীদের কঠিন মাশুল দিতে হবে। তারা আরও জানান, ক্ষমতাসীনরা চলমান আন্দোলনে বিএনপির বিরুদ্ধে মামলাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করবে। এ ক্ষেত্রে দলের সক্রিয় নেতাদের গ্রেপ্তার করা হতে পারে। ইতোমধ্যে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আব্দুস সালাম, রুহুল কবির রিজভীসহ সিনিয়র নেতাদের গ্রেপ্তারের কারণে সাংগঠনিকভাবে কিছুটা হলেও চাপে পড়েছে বিএনপি, যা সামনে আরও বাড়তে পারে। তাই নেতাদের গ্রেপ্তার করা হলেও নেতৃত্ব শূন্যতায় যাতে আন্দোলনের গতি থমকে না যায়, সেদিকে গুরুত্ব দিচ্ছে হাইকমান্ড। তৈরি করা হচ্ছে কয়েক স্তরের নেতৃত্ব।
জানা গেছে, আগামী দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে এখনই অতি উৎসাহ দেখানোর বিপক্ষে বিএনপি। সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি বিশ্লেষণ করেই নতুন সিদ্ধান্ত নেবে বিএনপি। নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে সমঝোতা না হলে নির্বাচনের ছয় মাস আগে চূড়ান্ত আন্দোলনে যাবে। অবশ্য আসন্ন রোজার আগেই বিএনপি সরকার পতন আন্দোলনে নামার পরিকল্পনা করছে। এ বিষয়ে গণতন্ত্র মঞ্চ, ১১ দলের জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট ও ১২ দলীয় জোটসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে বৈঠক করছেন বিএনপির লিয়াজোঁ কমিটির সদস্যরা।
সূত্র জানায়, অবিলম্বে ক্ষমতাসীন সরকারে পদত্যাগ, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন বিষয়ে ১০ দফা ঘোষণা করেছে বিএনপি। এসব দাবি আদায়ে সমমনা দল ও জোটগুলোকে নিয়ে আগামী কয়েক মাস শান্তিপূর্ণ যুগপৎ কর্মসূচিতেই থাকবে দলটি। যুগপতের দ্বিতীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১১ জানুয়ারি সব বিভাগীয় শহরে ৪ ঘণ্টার গণঅবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। এভাবে মানববন্ধন, লংমার্চ, অনশন ও আবারও সমাবেশের কর্মসূচি আসতে পারে। অবস্থা বুঝে নির্বাচনের কয়েক মাস আগে থেকে আন্দোলনের গতি ধীরে ধীরে বাড়ানো হবে। বিএনপিসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলকে বাদ দিয়ে সরকার আবারও একতরফা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিলে সমমনা দল ও জোটগুলোকে নিয়ে চূড়ান্ত আন্দোলনে নামতে চায় বিএনপি। আর ১০ দফা তখন এক দফায় পরিণত হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিএনপির অন্যতম চ্যালেঞ্জ হলো, তাদের ঘোষিত দাবি ও কর্মসূচির প্রতি জনগণ ও প্রশাসনের মধ্যে আস্থা তৈরি করতে হবে। তাদের আশান্বিত করতে হবে যে, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে জনগণের কিছুটা হলেও পরিবর্তন এবং প্রশাসনের কাউকে চাকরিচ্যুত করা হবে না। এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, বিএনপি কাউকে চাকরিচ্যুত নয়; বরং যোগ্যদের মূল্যায়ন করা হবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির দুজন সদস্য আলাপকালে জানান, মাঠের আন্দোলনে প্রধান শক্তি বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী। বাকি দলগুলোর সাংগঠনিক শক্তি ততটা না থাকলেও কৌশলের কারণে তাদের পাশে রাখা হচ্ছে। দেশের সাধারণ মানুষ এমনকি বিদেশিদের কাছে একটা বার্তা যাবে যে, সরকারবিরোধী প্রায় সব রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। তাই যে কোনো মূল্যে যুগপৎ আন্দোলনে সব দলকে নিয়েই মাঠে থাকতে চায় বিএনপির হাইকমান্ড। ইতোমধ্যে বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনে ৩৩টি রাজনৈতিক দল জোট ও পৃথকভাবে অংশ নিয়েছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, সরকার পতনের ১০ দফা বাস্তবায়নই নতুন বছরে বিএনপির চ্যালেঞ্জ। আগামী দিনে আমাদের চ্যালেঞ্জ ১০ দফা বাস্তবায়ন। আমাদের নেত্রীকে মুক্ত করা এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে এনে স্বাধীনভাবে রাজনীতি করার সুযোগ করে দেওয়া, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মির্জা আব্বাসসহ সব রাজবন্দিকে মুক্ত করা। একই সঙ্গে এই সরকার পরিবর্তন করে যে জনগণের সরকার আসবে আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ২৭ দফা রূপরেখার আলোকে বাংলাদেশকে নির্মাণ করতে চাই। যত কঠিন পরিস্থিতিই হোক জনস্বার্থে আমরা যে কোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত।
জনতার আওয়াজ/আ আ