নির্যাতিত, নিপীড়িতরাই বিজয়ী হবে: রিজভী
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
বুধবার, মে ১, ২০২৪ ৯:৩৬ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
বুধবার, মে ১, ২০২৪ ৯:৩৬ অপরাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
শেখ হাসিনার উদ্দেশ্যে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব এড. রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, এই দেশে যারা নির্যাতিত নিপীড়িত, প্রতিনিয়ত জেলে যাচ্ছে, জেল থেকে বের হচ্ছে, গণতন্ত্রের কথা বলছে, বাকস্বাধীনতার কথা বলছে, ওরাই বিজয়ী হবে। আপনার পরাজয় অবধারিত।
বুধবার (১ মে) নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে শ্রমিক দলের ডাকা সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন অতি ডানপন্থী, অতি বামপন্থীরা আমার সরকার কে ফেলে দিতে চায়। কিন্তু তিনি বলেননি অতি লুটকারী, অতি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক এর অর্থ লুটকারি, অতি ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণকারীরা, অতি বিদেশে টাকা পাচারকারী, অতি শেয়ার বাজার লুণ্ঠনকারী, এই অতি মানবরা এরা সবাই তো আপনার লোক। এরা কি আপনাকে রক্ষা করবে? আপনার গদি রক্ষা করিয়ে দিবে পৃথিবীতে এমন নিদর্শন নেই।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, প্রধানমন্ত্রী আপনার অতি সন্ত্রাসী ছাত্রলীগ যারা আবরার কে হত্যা করেছে। বিশ্বজিৎকে হত্যা করেছে। তারা কি আপনাকে রক্ষা করবে? আপনার অতি সন্ত্রাসী যুবলীগ যারা টেন্ডারবাজি করছে। মানুষের জায়গা জমি বসতবাড়ি দখল করছে। তারা কি আপনাকে রক্ষা করবে? তারা আপনাকে রক্ষা করতে পারবে না।
তিনি বলেন, এই সভ্যতার যুগে কোন স্বৈরাচারই দৃষ্টান্ত স্থাপন করেনি যে অনাচার, লুণ্ঠন করে, মহা দুর্নীতি করে, নিজের দেশের টাকা লুট করে, নিজের দেশের টাকা বিদেশে পাচার করে ক্ষমতায় থেকেছে। আপনি ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না।
ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, বাংলাদেশে ১৭-১৮ কোটি মানুষের মধ্যে সাত কোটি লোক কোন রকম কাজের মধ্যে আছে। সে কাজকে কাজ বলা যাবে না। একটি বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান তাদের প্রতিবেদনে বলেছে ৭ কোটির মধ্যে ৮৫% লোক যে কাজ করছে সেটা খুবই দুর্বল। অর্থাৎ ছয় কোটি লোক যদি দুর্বল কাজ করে রিক্সাচালক বা যে ফেরি করে চলছে, ফুটপাতে চায়ের দোকানদার, এরাতো সরকারের সোশ্যাল কোন সুযোগ সুবিধা পায় না। কোন ধরনের রাষ্ট্রীয় প্রটেকশন তারা পায় না। আপনি শেখ হাসিনা শুধু উন্নয়নের কথা বলেন। উন্নয়ন হলে দেশের মানুষ দুবেলা পেট ভরে খেতে পারতো। আপনি মেট্রোরেলের কথা বলেন সেখান থেকে তো আপনার লোকেরা টাকা নিয়ে বিদেশে বাড়ি বানিয়েছে। আর এই ৬ কোটি মানুষ তাদের এক মুঠো ভাত যোগাড় করতেই অনেক কষ্ট হয়ে যায়। দ্রব্যমূল্যের দাম যে ভাবে হু হু করে বাড়ছে তাতে একজন রিকশাচালক সারাদিন রিকশা চালিয়ে কয় কেজি চাউল কিনবে সে তো এক পোয়া পিয়াজ কিনলেই তার সারাদিনের ইনকাম চলে যাবে। বড় বড় বিল্ডিং দেখানোই কি উন্নয়ন নাকি মানুষের আত্মনির্ভরশীল কর্মসংস্থান করাকে উন্নয়ন বলে।
শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন সভাপতিত্ব সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির মহাসচিব এড. রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব এমরান সালেহ প্রিন্স, চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, মহানগরের উত্তরের সদস্য সচিব আমিনুল হক সহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ প্রমুখ।
জনতার আওয়াজ/আ আ